সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাধবকুন্ডের গহীনে লুকিয়ে আছে ‘পরীকুন্ড’ ঝর্ণাধারা!

1. daily sylhetজালাল আহমদ::
যেখানে একবার আসলে পর্যটকরা ফিরে যেতে চান না সেটি হচ্ছে দেশের অন্যতম পিকনিক স্পট মাধবকু- জলপ্রপাত এ পর্যটন কেন্দ্র কিভাবে ঈদের আনন্দ দেবে? সেখানকার কর্তৃপক্ষের সীমাহীন অনিয়ম, চাঁদাবাজি, পর্যটকদের হয়রানিসহ ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর পর্যটন এলাকা। তারপরও কর্তৃপক্ষের মতে, মাধবকু- জলপ্রপাত অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাছে টেনেছে পর্যটকদের। কেননা বিগত বছরগুলোর মতো এবার ভাঙ্গাচুরা ও সরু রাস্তা না থাকা। সংস্কার ও প্রশস্ত করায় ভোগান্তি থাকার কথা নয়। তাই দুর্ভোগ আর ঝামেলা ছাড়া সরাসরি পর্যটকরা যানবাহন নিয়ে পর্যটন এলাকার গাড়ি পার্কিং স্থান পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছেন এবার।

shyikh_1340102441_6-ffffffff43এদিকে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়ম তথা ইজারা আইন মানছে না। নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছে। পর্যটক হয়রানি, চাঁদাবাজি যেনো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার তাদের কাছে। ইজারার নিয়মানুযায়ী ৫জন লোক দ্বারা প্রতিদিন পর্যটন এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু সেটি বাস্তবে প্রতিদিন তো দূরের মাসে ১৫ দিনেও একবার হয় কি-না সন্দেহ দেখা দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাপড় চেঞ্জিং এর স্থানটিতে লতাপাতা ও আবর্জনার স্তুপ। ইকোপার্কের গেটের ভেতরে টাইলসের ওপরে স্তু স্তুপ মাটি জমাট রয়েছে। জলপ্রপাতের ঝর্ণায়ও নোংরা-আবর্জনা চোখে পড়ে।

shyikh_1340102499_7-ffffffff44বনবিভাগও পর্যটনের উন্নয়নে তেমন আগ্রহী কিংবা আন্তরিকতার পরিচয় না দেয়ায় মাধবকুন্ড ঝর্ণাধারার উপরে অন্য একটি কুন্ড রয়েছে ‘পরীকুন্ড’। সেটি মূল ঝরণার ৪০০ ফুট পশ্চিম-দক্ষিণে অবস্থিত। এটি উপভোগের ব্যবস্থা করা হলে পর্যটকরা বাড়তি আকর্ষণ পেতেন। পাশাপাশি পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতো, সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেতো।

বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ ঝর্ণার বিপদজনক স্থানে সীমানা বেড়া ও রেলিং করার কারণে ঝর্ণার মূল জায়গা কমে গেছে। পর্যটকের আনন্দ উপভোগে ব্যাঘাত ঘটছে। বিপদজনক স্থানে সীমানা বেড়া না দিয়ে উপরের পানিপড়া সাময়িক বন্ধ রেখে (মওসুমে) শুকিয়ে বিপদজনক স্থান চিহ্নিত করে লোহার ভারী নেট ধারা আবৃত করা হলে দর্শনার্থীদের আনন্দ উপভোগের মাত্রা কম হতো না।

shyikh_1340102615_8-ffffffff45২০১৫ সালে দায়িত্বে থাকা বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আমিনুর রহমান পর্যটকের জন্য হুইল চেয়ার, সাঁতার কাটার জন্য লাইফ জ্যাকেট বিভিন্ন পশুপাখির ভাস্কর্য, শিশু পর্যটকদের জন্য দোলনা ও সৌন্দর্য্য বাড়াতে ইকোপার্কের রাস্তার দু’পাশে ফুলের চারা রোপণ করেছেন। এর জন্য তিনি প্রশংসিতও হয়েছেন। পর্যটকদের আনন্দ উপভোগ বাড়াতে আরেকটি উদ্যোগ (যদি নেওয়া হয়) মাধবকুন্ড এলাকায় আদিবাসীদের বসবাস থাকায় সেখানে একটি নৃত্যালয় করা হলে আদিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতো। এছাড়া বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পানির ফোয়ারার ব্যবস্থা করে মিউজিকের সাথে গানের ব্যবস্থা করলে পর্যটকরা বাড়তি আনন্দ পেতেন।

shyikh_1340102664_9-ffffffff46অপরদিকে পর্যটকদের থাকার সুবিধার্থে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় ১৬ বিশিষ্ট ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। এবারের ঈদ থেকে পর্যটকরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন। এছাড়া বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে পর্যটকরা কাঁঠালতলী বাজার থেকে মাধবকু- জলপ্রপাতে যাওয়ার ৮ কি.মি. রাস্তার জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতেন। সাথে নিয়ে আসা বড় যানবাহন নিতে না পেরে হেঁটেই যেতে হতো। অনেকে স্থানীয় ছোট যানবাহন দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে জলপ্রপাতে যেতেন। এ সুযোগে চালকরাও অতিরিক্ত আদায় করে নিতো। এবারও অটোরিক্সা চালকরা সীমাহীন চাঁদাবাজি করেছে। যদিও রাস্তা ভালো রয়েছে। অনেকে এসব ভোগান্তি না পোহাতে সৌন্দর্য্য উপভোগ না করেই ফিরে যেতেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়লেখা সফরে গিয়ে গত বছর পর্যটনের রাস্তার উন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে যান। এবার পর্যটকরা সরাসরি গাড়ি নিয়ে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের পার্কিং স্থানে যেতে পারছেন। পর্যটকদের অভিযোগ, পর্যটন এলাকায় গড়ে ওঠা হোটেলগুলোতে খাবারের মান ভালো থাকে না। অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। এতে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন। এখানে বিভিন্ন সময় গাড়ি পার্কিং ইজারাদারদের লোক কর্তৃক পর্যটকরা বিভিন্ন সময় নাজেহালের শিকারও হন-এমন অভিযোগ শত শত পর্যটকের।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: