সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘আমি শহীদ হতে যাচ্ছি’ তুর্কি অভ্যুত্থান রুখতে স্ত্রীকে ফোন

147885_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কে এরদোগান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ যে অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিল তা দেশটির সাধারণ নাগরিকরা তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

গত ১৫ জুলাই রাতের ওই ঘটনায় এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এতে অংশ নেয় দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাসহ সর্বস্তরের জনতা। এমন কি বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও।

সুলেমান টোক, তাদের মতোই একজন। যিনি তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

তিনি ওই দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মেরে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে সৈন্যদের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

টোক আঙ্কারার একজন নির্মাণ কর্মী। আঙ্কারায় তুর্কি পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলার সময় অত্যন্ত কাছ থেকে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন তিনি।

আনাদুলো সংবাদ সংস্থাকে টোক বলেন, ‘আমরা দেখলাম সশস্ত্র এক দল সৈন্য পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে বোমাবর্ষণ করছে। আমরা পাথর ছুঁড়ে তাদের থামাতে চেষ্টা করলাম। এরপর তারাও আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহত লোকদের বহন করছিল এবং তারপর অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সৈন্যদের রুখে দিতে ফিরে আসছিল।’

ওই দিনের ঘটনায় টোক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

টোক বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ওই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী আমি। দেখলাম সাঁজোয়া যান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। কিন্তু এটি কোনো সৈন্য নয়, সামরিক বাহিনীর অফিসাররা এ কাজটি করছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিক্ষেপ করা পাথর সৈন্যদের মাথায় আঘাত করলে সৈন্যরা কেবল আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর অফিসাররা জঘণ্যভাবে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি করছিল।’

ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার এ ঘটনার সময় তার স্ত্রী আইনুর দেশটির উত্তরাঞ্চলের সামসুন প্রদেশে অবস্থান করছিল। ওই সময় টোক তার স্ত্রীকেও রাস্তায় বেড়িয়ে আসতে বলেন।

সহিংস এ বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান দমন করতে এক টেলিফোন বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

টোক বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসার জন্য তুর্কি নাগরিকদের প্রতি এরদোগানের ওই আহ্বান পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, আমি শহীদ হতে যাচ্ছি। আমার মতো তুমিও রাস্তায় বেড়িয়ে আসো এবং আমার পথ অনুসরণ করো।’

আইনুর একজন গৃহিনী। তিনি জানান, তিনি তার স্বামীর ফোন কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় বের হয়ে যান।

আইনুর বলেন, ‘আমিও স্বামীর মতো বাইরে গিয়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সেদিন আমার মনে গুলিবিদ্ধ হবার কোনো ভয় ছিল না। কেবল আমার সন্তানদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল দেশের প্রত্যয়ে ওই দিন রাস্তায় বের হয়ে আসি।’

অভ্যুত্থানের চেষ্টার এ ঘটনায় অন্তত ২৬৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন গণতন্ত্রপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। নিহত বাকিরা অভ্যুত্থানকারী। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ জন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: