সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশে থাকতে রোগী বা স্বজনদের ‘জিহাদের দাওয়াত’ দিতেন  ডা. রোকন 

034841dr.-rukon_kalerkantho_pic_-550x367নিউজ ডেস্ক : পরিবারসহ নিখোঁজ চিকিৎসক রোকন উদ্দিন খন্দকারের জঙ্গিবাদের প্রতি ঝোঁক ছিল অনেক আগে থেকেই। তাঁর পরিচিতজনরা এমন তথ্য দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসক হিসেবে ভালো ছিলেন রোকন। মানুষকে সহজেই কাছে টানতে পারতেন। রোগীও দেখতেন আন্তরিকতা নিয়ে। তবে রোগী দেখার পর রোগী কিংবা তার সঙ্গে থাকা স্বজনদের ‘জিহাদের দাওয়াত’ দিতে ভুল করতেন না তিনি। সিরিয়া, ইরাকের গল্প শোনাতেন রোগীদের। এ কারণে তাঁকে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে গণ্য করতেও শুরু করেছিল স্থানীয় লোকজন। তবে এখন তিনি সত্যি সপরিবারে সিরিয়ায় গিয়ে ‘জিহাদে’ যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ, স্বজন ও এলাকাবাসী।
ডা. রোকন উদ্দিন খন্দকার (৫০) একসময় ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। ওই হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, ‘সর্বশেষ রেজিস্ট্রার পদে থাকাকালীন রোকন উদ্দিন খন্দকার চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর আচার-আচরণ ভালো ছিল। রোগীদের প্রতি যতœশীল ছিলেন। প্রাইভেট প্র্যাকটিসও করতেন বলে শুনেছি। তবে এখান থেকে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই।’
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর ঘরছাড়া বা নিখোঁজ থাকা লোকজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া ঢাকার এই চিকিৎসক সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, ডা. রোকন সিরিয়ায় চলে গেছেন। রোকনের স্বজন ও প্রতিবেশীরাও এমনটিই মনে করছে।
গত বৃহস্পতিবার মালিবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৪১১/বি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার দুই পাশে দুটি সাইনবোর্ড। একটিতে লেখা ‘আলী আহমেদ হোমিওপ্যাথিক সেন্টার’, অন্য পাশে ‘নির্ভাল হেলথ সেন্টার’। বাড়িটির মালিক বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক প্রয়াত আলী আহমেদ। চার বছর আগে তিনি মারা যান। এর আগেই তিনি দুই মেয়ের নামে লিখে দিয়ে গেছেন বাড়িটি। বাবার মৃত্যুর পর দুই মেয়েই বাড়িটি দেখাশোনা করতেন। বড় মেয়ে নাইমা আক্তার (৪৫) স্বামী ডা. রোকন উদ্দিন খন্দকার ও সন্তানদের নিয়ে এ বাড়িতেই থাকতেন। নাইমা-রোকন দম্পতির দুই মেয়ে—একজনের নাম রেজওয়ানা রোকন, আরেকজনের নাম রামিতা রোকন। বড় মেয়ে বিবাহিত, তাঁর স্বামীর নাম সাদ কায়েস। স্ত্রী, দুই মেয়ে, জামাতাসহ রোকন গত বছর অক্টোবরে মালয়েশিয়া হয়ে সিরিয়ায় আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশ ও এলাকাবাসীও মনে করছে।
বর্তমানে ওই বাড়ি দেখভাল করছেন হেলাল উদ্দিন নামের একজন। তিনি বলেন, ডা. রোকন গত বছর স্ত্রী, সন্তান ও এক জামাতাকে নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। প্রথমে তাঁরা মালয়েশিয়ায় যান, এরপর সিরিয়ায়। ওই বাড়ির সামনে কথা হয় স্থানীয় ফয়েজুর রহমান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মৌসুমী সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক রোকন উদ্দিন তো এখন জঙ্গিদের সঙ্গে জিহাদ করছেন। তবে দেশে থাকতে তিনি ভালো শিশু চিকিৎসক ছিলেন। স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর অভিভাবক সন্তান অসুস্থ হলে তাঁর কাছে যেতেন। কিন্তু তিনি ভালো চিকিৎসক হলেও মুখে সব সময় জিহাদ, ইসলামী চিন্তাধারার কথা বলতেন। স্কুল ও এলাকার অনেকেই এ বিষয় জানে।’ এলাকার আরো কয়েকজন জানায়, ডা. রোকনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীও ভালোভাবে নেয়নি। এলাকাবাসী তাঁকে একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে যতটা না ভালোবাসত, এখন তাঁকে সমপরিমাণ ঘৃণা করছে।
নাইমা আক্তারের বোন নীলিমা বলেন, ‘ওরা সিরিয়ায় গেছে বলেই আমরা জানতে পেরেছি। গত বছরের ১০ রোজায় তারা প্রথমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে গেছে। এরপর সেখান থেকে তাদের সিরিয়ায় যাওয়ার কথা। তবে বিদেশ যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ নেই।’
৪১১/বি নম্বর ভবনের সামনের সিদ্দিক জেনারেল স্টোরের মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে থাকতে তিনি এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখতেন। তিনি রোগী দেখলে আমার দোকানে বেচাকেনা ভালো হতো। তবে আমার জানা মতে, তিনি সপরিবারে সিরিয়ায় চলে গেছেন।’
চিকিৎসক রোকনের গাড়িচালক হিসেবে আট বছর কাজ করেছেন হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে স্যার পরিবার নিয়ে নিঁখোজ। দেশ ছাড়ার আগে স্যার বলেছিলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। আর হয়তো দেশে নাও ফিরতে পারেন। সেখান থেকে সিরিয়ায় যাওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। এর পর থেকে আর কোনো খবর জানি না।’
রামপুরা থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের ১০ অক্টোবর ওই চিকিৎসক পরিবার নিয়ে সিরিয়ায় চলে গেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এই চিকিৎসকের বড় মেয়ে রেজওয়ানা ও তাঁর স্বামী দুজনেই নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে তাঁরা সেখানে লেখাপড়া শেষ করেননি। ছোট মেয়ে রামিতা পড়ত ভিকারুনিসা নূন স্কুল ও কলেজে।’
পুলিশ জানায়, মূলত বড় মেয়ে ও জামাতার কারণেই জিহাদিদের ফাঁদে পড়েন চিকিৎসক রোকন। কালের কন্ঠ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: