সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাহি-অপুর নতুন জীবনের গল্প

2016_07_07_02_00_43_4q7Fz5nThEFIHApji870f5kjeaayIl_originalবিনোদন ডেস্ক :: রিল লাইফে মুড়িমুড়কির মতো প্রেম-বিয়ে-সংসার করেছেন মাহিয়া মাহি। তাই কিছুটা এক্সপেরিয়েন্স আছে তো বটেই! সেই অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে রিল থেকে বেড়িয়ে রিয়েল লাইফে সংসার শুরু করছেন মাহি। নো লাইট, নো ক্যামেরা, নো অ্যাকশন। শুধু অপু আর মাহি। বিয়েটা করেছে দু’মাস আগে। তবে সংসারটা এখনো শুরু করেননি একসঙ্গে। ঈদের পরই টোনাটুনির সংসার পাতছেন তারা। গুলশান কিংবা ধানমন্ডির আলিশান কোন বাড়িতে নয়, সিলেটের কদমতলী গ্রামে। সত্তর বছরের পুরোনো একটি বাড়িতে উঠছেন তিনি। বাড়িটা মাহির দাদা শ্বশুরের আমলে তৈরি। নিজেদের ঘরটাকে নিজের মতো সাজিয়ে তুলতে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। ‘রুমটা জাস্ট আমার পছন্দ মতো সাজাবো। ঘরটা গোছানোর প্রিপারেশন চলছে। আমার একটা প্রবলেম আছে। আমি এতই বেশি অগোছালো যে, আমার কাপড় চোপড় এখানে ওখানে পড়ে থাকে। নিজেরটা নিজেই খুঁজে পাই না! রুম গোছানোর সময় সেই বিষয়টাই আগে মাথায় রাখছি। যাতে কাপড়গুলো এলোমেলো না হয়ে যায়।’-বললেন মাহি।

কদমতলীর সেই বাড়িতে শুধু মাহি আর অপুই থাকবেন না। পুরো পরিবার থাকবে। মাহির শ্বাশুড়ি, দেবর, চাচা শশুড়রা মিলে জয়েন্ট ফ্যামেলি। জয়েন্ট ফ্যামেলিতে মাহি অবশ্য এবারই প্রথম। তার বেড়ে উঠা ছোট্ট পরিবারে। তার কোন ভাই-বোন নেই। পরিবারে নিজের একক দখলদারিত্ব রাখতে মাহি নাকি বাবা-মাকে জানিয়ে দিয়েছিলো, আর ভাই-বোন নেয়া যাবে না! নিলে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অথবা সুইসাইড করার হুমকিও নাকি দিয়েছিলেন! বাবা-মা আর রিস্ক নেন নি। একমাত্র কন্যা যখন যা আবদার করেছে তাই দিয়েছে। একক পরিবারের সেই আদুরে কন্যা জয়েন্ট ফ্যামেলিতে অ্যাডজাস্ট করে পারবে তো?

মাহির ভাষ্য, ‘জয়েন্ট ফ্যামেলিতে যেটা হয় অনেক বেশি শেয়ারিং থাকে। কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইজ থাকে। অনেক সময় আমার পছন্দ না হলেও অন্যদের পছন্দের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। যদিও এগুলোর সঙ্গে আমি পরিচিত না। পরিবার থেকে যখন যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। কিন্তু স্বামীর সংসারে গিয়ে সবকিছু মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো।’

তবে শ্বাশুড়ির জন্য নিজেকে কিছুটা নির্ভার ভাবছেন মাহি। তার শ্বাশুড়ি আর দশজন শ্বাশুড়ির চেয়ে অনেকটায় আলাদা। তাকে মেয়ের মতো দেখেন। সে কারণে নতুন পরিবারের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্টের ভীতিটা অনেকটাই দুর হয়েছে তার। মাহির চোখে তার শ্বাশুড়ি হলো, ‘আমি এখন পুরোটাই ডিপেন্ড করছি ওর (অপু) আম্মুর উপর। অপু যেমন সহজ-সরল তার চেয়ে বেশি সহজ সরল তার আম্মু। অপুর কোন বোন নেই। সে কারণে আমি তাদের বাসায় যাবো বলে তারা খুবই এক্সাইডেট। তারা ভাবছে তাদের মেয়ে আসছে সংসারে।’

তবে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের চোখে মাহি মোটেই নায়িকা নয়, শুধুমাত্র পুত্রবধু। পরিবারের লোকজন নাকি ঠিকঠাক মতো জানেই না মাহি একজন নায়িকা। পরিবারের লোকজন প্রথমে জানতো, তিনি টুকটাক মডেলিং করতো। আপাতত জানে, মাঝে মধ্যে নাটক-টাটক করে এই যা! নায়িকা হোক আর মডেল হোক বিয়ের পর বাঙালী নারীদের উপর সংসারের নানা কাজের ধকলটা কিন্তু যায়। সেক্ষেত্রে মাহি অবশ্য ভাগ্যবতীই বলা চলে। কাজ-কর্মের বালাই নেই। সংসারে বেশকজন কাজের লোক আছে। সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও যে যার মতো সংসারের কাজ মেইনটেইন করে। সে হিসেবে মাহির কাজ শুধু একটাই, শ্বাশুড়িকে কাজে সহায়তা করা। আর ইচ্ছা হলে টুকটাক রান্নাবান্না করা। বাড়ির বউ বলে কথা! রান্নাবান্না না জানলে চলে নাকি! রান্না-বান্নায় মাহির হাত অবশ্য ভালোই পাকা। তার হাতের রান্না করা গরুর কালাভূনা খেয়েই নাকি অপু তার রান্নার ভক্ত বনে গিয়েছিলো।

সেই গল্পই শোনালেন তিনি, ‘চারবছর আগের ঘটনা। তখন অপুর সঙ্গে নতুন নতুন পরিচয় হয়। আমাদের বাসায় একবার বেড়াতে এসেছিলো। তখনই আমি জীবনের প্রথমবার রান্না করেছিলাম, গরুর কালা ভূনা। ওকে খাওয়ানোর জন্যই রান্না করেছিলাম। ওইটা নাকি ওর মুখে এখনো লেগে আছি।’

পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সুখী থাকতে চান মাহি-অপু দুজনেই। মাহির কাছে সুখী পরিবারের সংজ্ঞাটা এমন, ‘দুজন মানুষ দুই টাইপের হবে। একজন খুব বেশি কথা বলবে, আরেকজন কম বলবে। একজন বেশি বুঝবে আরেকজন বুঝবেই না। যেমনটি আমি আর অপু।’

দুইজন দুই মেরুর বাসিন্দা হলেও অপুর প্রতি মাহির মুগ্ধতার কোন ঘাটতি নেই। মুগ্ধতার কারণটাও জানালেন, ‘একটা কারণে আমি ওকে বিয়ে করেছি। সবাই বলে মিডিয়ার মানুষদের বিয়ে টেকে না। কিন্তু আমি দু’শ ভাগ নিশ্চিত আমাদের সংসারটা টিকবে। অপু প্রতিটা রিলেশনকে শ্রদ্ধা করে। ওর এক্স গার্লফ্রেন্ড ছিলো। ওর সঙ্গে তার কীরকম রিলেশন ছিলো সেটা আমি দেখেছি। গার্লফ্রেন্ডের প্রতি সে লয়্যাল ছিলো। ওর মাকে সে রেসপেক্ট করে। বন্ধুদেরকে কিভাবে রেসপেক্ট করে সেটা দেখেছি। কোন একজায়গায় সে আছে সেটাকে আঁকড়ে ধরে থাকবে। আমি প্রচন্ড জেদি তো আমার সঙ্গে কারো ম্যাচ করাটা খুব টাফ। আমাকে হ্যান্ডেল করাটা খুব কঠিন। কিন্তু সে খুব সুন্দরভাবে আমাকে হ্যান্ডেল করতে পারে। আল্লাহ না করুক কখনো কোথাও চলে গেলেও সে আমাকে ফিরে আনবেই। আমি মনে করে হোল লাইফটা তার সঙ্গে কাটাতে পারবো।’

মুগ্ধতার আরও কারণ আছে। বললেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেক রিউমার আছে। একজন সিলেটি হিসেবে মেনে নেয়া খুব টাফ। ওরা খু্ব কন্জারভেটিভ হয়। ও আমাকে এতো বিশ্বাস করে যে, সবাই যখন এটা ওটা বলছে সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করছে। এক কথায় দুনিয়ার বিপরীতে চলে গেছে। সে আমার সঙ্গে ছিলো। আস্তে আস্তে সবাইকে আমার পক্ষে নিয়ে আসে। সেটা আমি পারি নাই। ও সেটা পেরেছি। আগে ভাবতাম দুষ্টু টাইপের ছেলের সঙ্গে প্রেম করবো। কিন্তু বিয়ের পর এই প্রবলেমটার সময় অপুকে সেকেন্ডে সেকেন্ডে অবজার্ভ করেছি। সে আমাকে অনেক শ্রদ্ধা করছে। বিয়ের পর আমার ভালোবাসার সংজ্ঞাটাই পাল্টে গেলো।’

এতো মুগ্ধতার পাশাপাশি কিছু খারাপ গুণও নাকি আছে অপুর। ‘অপু প্রচন্ড চুপচাপ টাইপের ছেলে। আমার এটা ভালো লাগে না। আমি খুব দুষ্টু। আমি ব্যকবেঞ্চার স্টুডেন্টদের পছন্দ করি। যারা একেবারে টেনেটুনে পাশ করছে তাদের আমার খুব ভালো লাগে। ফর্সা ছেলে আমি একদম সহ্য করতে পারি না। আমি বুঝি যে, টেকনিক্যালি চলতে পারি। আমি অনেক জনের সঙ্গে মিশি। কোথায় কী বলবো সেটা আমি ম্যানেজ করে নিতে পারি। কিন্তু ওর একদম সাদাসিধে। হুটহাট কী জানি বলে ফেলে। ওর সঙ্গে আমার কোনকিছুই মেলে না।’-জানালেন মাহি।

এবার আসা যাক অপুর কাছে। স্ত্রীকে সুপাস্টার নায়িকা হিসেবে হিসেবে দেখেন কিনা? ‘কখনো মাহিকে নায়িকা মনে হয়না। আমি ব্যক্তি মাহিকে দেখে পছন্দ করেছি। প্রফেশনালি যেকোন কিছু করতে পারে। সেটা নিজস্ব ব্যাপার।’-বললেন অপু।

মাহির ভালো গুণ কী? অপুর কণ্ঠে ঝরলো, ‘সত্য কথা বলে। কোন ঝামেলা হলে নিদ্বির্ধায় আমাকে এসে বলবে আমি এটা করে ফেলেছি এখন তুমি আমাকে যা করার করো। সিম্পল একটা মেয়ে। সারপ্রাইজ দিতে পছন্দ করে খুব। হঠাৎ করেই খুব বড় সারপ্রাইজ। মানুষের মুখের ছোট্ট একটু হাসির জন্য অনেক কিছু করতে পারে।’

খারাপ গুণ? ‘খুব রাগ। আরেকটা মজার বিষয় হলো সে খুব জেলাস ফিল করে। ওর কারণে মানুষ আমাকে চেনে। আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চায়। সে বলে আমার এতোদিনের ক্যারিয়ারের অর্জনগুলো তুমি বিয়ে করে একদিনেই ফেমাস হয়ে গেলে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: