সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের ২ রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

trivvvvvv&&&&&_22647ডেইলি সিলেট ডেস্ক:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ষোলঘর এলাকার তোতা মিয়া পীরের ছেলে রাজাকার আব্দুল লতিফ ও আব্দুস সমুদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। মানবতা বিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন তদন্ত সংস্থার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান (সোনা মিয়া) এর ভাতিজা আব্দুল আলী গত বুধবার এই অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘটনার স্বাক্ষী করা হয়েছে। অভিযোগের সাথে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই রক্তাক্ত ৭১ এ উল্লেখিত রাজাকারদের তালিকা অনুযায়ী আব্দুল লতিফ ও আব্দুস সমুদের নাম প্রদান করা হয়। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। ওই বাহিনীর সদস্য ছিলেন আব্দুস সমুদ, আব্দুর রহমান লেবু মিয়া, পার্বতীপুরের মন্তাজ মেম্বার, লক্ষীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ। তারা এলাকায় লুটপাট, নারী ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালাও পুড়াও ও সাধারণ মানুষকে খুন করে। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে রাজাকার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে কুরবাননগরের বাহ্মণগাঁও গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রাশিদ মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

১৫ অক্টোবর রাজাকার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে একদল পাকবাহিনী ও ১০-১৫ জন রাজাকার সুনামগঞ্জ থেকে লঞ্চযোগে দোয়ারবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সোনাপুর (বেটিরগাঁও) গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ও নিরিহ গ্রামবাসীর উপর আক্রমণ চালায়। রাজাকার ও পাকবাহিনীর গুলিতে কয়েকজন পুরুষ-মহিলা মারা যায়। গ্রামে ব্যাপক লুটপাট ও নারী ধর্ষণ করা হয়। ওই দিন সোনাপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান সোনা মিয়া ও হাবিব উল্লা, দোহালিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারিশ আলীসহ আরো চারজন মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছিলেন। ওই দিন রাজাকার আব্দুল লতিফ ও আব্দুস সমুদ ওই মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে সুরমা নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারে। অন্যরা কোনভাবে পালিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান সোনা মিয়াকে গুলিতে ঝাঝরা করে সুরমা নদীতে ভসিয়ে দেয়া হয়।

ওই সময় গ্রামের চেরাগ আলীর স্ত্রী এশা বিবি রাজাকার আব্দুল লতিফ বাহিনীর হাতে নিহত হয়। সোনাপুর গ্রামের লোকজন ও অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেদিনের লুটপাট, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছেন। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান সোনা মিয়ার পিতা দোয়াবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সে মামলা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন আইন পাশ করার পর দোয়ারাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার না পাওয়ায় পুনরায় মানবতা বিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন তদন্ত সংস্থার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, সোনাপুর গ্রামটি একসময় বেটিরগাঁও বলে পরিচিত ছিল। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান (সোনা মিয়া)র নামে সোনাপুর নাম রাখা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: