সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাত নারী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিলেন এক প্রধান শিক্ষক!

nari-shikhok-binodon69নিউজ ডেস্ক::এক স্কুলের প্রায় সাতজন নারী শিক্ষিকা জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে তাদের ‘কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। শুধু তাই নয় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও ডজনখানেক অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। এই ঘটনা নিয়ে পুরো শহরজুড়েই চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। কেও বলছেন, ‘একজন শিক্ষকের একার পক্ষে এতগুলো অপরাধ করা সম্ভব নয়, এসব ষড়যন্ত্র হতে পারে’ । আবার অনেকেই ‘এসব সত্যি’ হিসেবে গন্য করে ঐ প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, তিনি যোগদানের পর এখন পর্যন্ত কোনোদিন আমাদের সাথে ভালো আচরণ করেননি। অশালীন ও কুরুচিপূর্ন আচরনের জন্য তাঁর সাথে চাকরি করা আমাদেও জন্য ঝুঁকিপূর্ন’। বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামনুরু রশিদের ওই বিদ্যলয়ে সাতজন নারী শিক্ষকদের এমনই বক্তব্য। এছাড়াও তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২টি অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

সহকারি শিক্ষদের অভিযোগ, মামুনুর রশিদ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে কারণে অকারণে সহকারি শিক্ষকবৃন্দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাত, বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি , অনিয়মিত উপস্থিতিসহ শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্বব্যহারের অভিযোগ এনেছেন সহকারি শিক্ষকবৃন্দ। সহকারি শিক্ষকবৃন্দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ উপবৃত্তির টাকা দেয়ার আগে স্বাক্ষর নেয়ার সময় অভিভাবকবৃন্দের থেকে ২০ টাকা করে আদায় করেন।

এছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিজে আত্মসাত করেন। পরে ওই অভিভাবকবৃন্দ যোগাযোগ করলেও তাদের টাকা দেয়া হয়না।

প্রধান শিক্ষক প্রথম সাময়িক ও সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ারও অভিযোগ করেছেন সহকারি শিক্ষকরা। সহকারি শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মামুন জেলা পরিষদেও বরাদ্দ দেয়া দুটি টয়লেটের ইট ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী বেচে দিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মালামাল তার নিজের বাসায় নিয়ে ব্যবহার করেন।

এছাড়াও তিনি বাইরের লোকজন দিয়ে বিদ্যলয় চলাকালীন সময়ে কোচিং করিয়ে কোচিং ফি থেকে ভাগ নেন। সময়মত তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননা, বরং অফিসিয়াল কাজের কথা বলে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন এবং বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েও নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে মুঠোফানে ব্যস্ত থাকেন।

এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দূর্বব্যবহার করেন। আর এসবের প্রতিবাদ করলে ‘ ব্যাগে ইয়াবা দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি’ করার হুমকি দেন।ওই বিদ্যালয়ের সাতজন সহকাররি নারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইভ-টিজিং ও কু-প্রস্তাব দেয়ারও অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষক মামুনুর রশিদের আগের কর্মস্থল মোল্লার হোড়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, অনিয়মিত উপস্থিতিসহ নানা ধরনের অভিযোগ আনেন। এতে তাকে পরীরখাল বিদ্যালয়ে বদলী করা হয় ।

পরীরখাল বিদ্যালয় থেকেও তার বিরুদ্ধে ফের একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর সবশেষ বর্তমান কর্মস্থল গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, সহকারি শিক্ষকবৃন্দের সাথে প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদেও সমন্বয়ের দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। মাসিক সভায় ব্যাপরটি নিয়ে আলোচনায় সমাধান করবেন বলে তিনি জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সাতজন সহকারি শিক্ষকের স্বাক্ষরিত যৌথ একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। এ ব্যপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে নিয়মানুসারে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: