সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বালাগঞ্জে ‘পাতার বিড়ি’ সেবন আসক্তিতে শিশুরা

1. daily sylhet 0-78শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ:
অবৈধ পন্থায় আসা ভারতীয় বিড়িতে সয়লাব বালাগঞ্জের হাঠ-বাজার। উপজেলার ছোট-বড় বাজার সহ গ্রামের দোকান গুলোতেও এই বিড়ি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের সাধারন ধুমপায়ীদের কাছে এটি ‘পাতার বিড়ি’ কিংবা ‘নাসির বিড়ি’ নামে অত্যধিক পরিচিত। শিক্ষিত ব্যক্তি ও প্রবাসে অবস্থানকারী ধুমপায়ীরা এই বিড়ি সেবন করে থাকেন। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঝে-মধ্যে বিড়ির চালান আটক করে পাইকারী বিক্রেতা ও খুচরা বিত্রেতাদের জেল-জরিমানা ও শাস্তি প্রদান করলেও এটি বিক্রি কিংবা সেবন বন্ধ হচ্ছে না।

বড়দের দেখাদেখি ছোট বেলা থেকেই ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ ইছবর মিয়া নামের এক দিন মজুর বলেন-আমার বাবাও এই বিড়ি খেয়েছেন। ইছবর মিয়া প্রতিদিন তিন বান বিড়ি (তিন প্যাকেটে ৭৫ শলা) সেবন করার কথা উল্লেখ করে বলেন-এই বিড়ি সেবন না করলে আমার পেটে সমস্যা দেখা দেয় টয়লেট হয়না এবং রাতে ভাল করে ঘুম হয়ও না। গ্রামের দোকান গুলোতে ‘পাতার বিড়ি’ বিক্রি হওয়ায় বড়দের দেখাদেখি ছোট-ছোট শিশুদেরও বিড়ি সেবনের আসক্তি দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘পাতার বিড়ি’ সেবনকারী সতের বছরের এক যুবক বলেন, আমার বাবা এই বিড়ি সেবন করেন, আমি বাবার দেখেই শিখেছি, মাঠে কাজ করার সময় বাবা এবং আমি একসাথে বসেই এই বিড়ি খাই। এতে লজ্জার কিছু নেই বলেও মন্তব্য এই যুবকের। অনুসন্ধানে জানা গেছে-বালাগঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের ধুমপায়ীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ। বৃটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এই এলাকার ধুমপায়ীরা এটি সেবন করে আসছেন। ফলে দেশীয় বিড়ি কোম্পানী গুলো প্রতিবছর ব্যবসায়ীক ক্ষতি সহ সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে।

পাতার বিড়ি সেবন করেন এমন কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে- এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি তারা বংশ পরম্পরায় শিখে আসছেন। ফলে এটি ছাড়া ধুমপায়ীদের এক দিনও চলে না। এক কথায় এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি বৃহত্তর সিলেট তথা বালাগঞ্জের ধুমপায়ীদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। কিন্তু যুগ-যুগ ধরে অবৈধ পন্থায় এই বিড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও আর্থিক ফায়দার বিনিময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতাহীন ভুমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সীমান্তের চোরাকারবারী, পাইকারী বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারন ধুমপায়ীদের কাছে এটি সহজেই পৌছে দেয়া হয়। তাছাড়া পাতার বিড়ি চোরাই পথে আমদানী করতে সীমান্তে সৃষ্টি হয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দু’দেশের সীমান্ত রক্ষিদের যোগসাজেসে এটি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। মাঝে-মধ্যে সীমান্ত রক্ষিদের হাতে ধরা পড়ছে অবৈধ পথে আসা বিড়ির চালান। বিড়ির চালান নামাতে গিয়ে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষিদের গুলিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রানহানীর ঘটনা ও ঘটছে।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন-যে কোন অবৈধ পন্যের বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে আমরা সোচ্ছার। তবে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত রক্ষিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাতার বিড়ির চালান নিয়ে আসে। বিড়ির চালানের সন্ধান পেলেই সাথে-সাথে আটক করে আইনানুগ শাস্তি প্রদান করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: