সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

img_3199_22294সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আগাম বন্যায় একমাত্র বোরো ফসল হারানোর পর আবারও বন্যার প্রকোপে পড়ে জেলার কৃষকরা সর্বশান্ত হচ্ছেন। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায় জেলায় ৬০ হেক্টর রোপা আমন, আউস ৫৫ হেক্টর ও ২৫ হেক্টর বর্ষাকালীন সবজী বিনষ্ট হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের উপ-সহাকারী প্রকৌশলী রাজু চন্দ্র পাল জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের ২০ টি গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে শিল্পনগরী ছাতকের সংগে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ দুই দিন ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দ্বেড়শতধিক কাঁচাঘরবাড়ি ৫টি গরু,২০টি ভেড়া ও ১০টি ছাগলসহ ৭০০ হাঁসমুরগি মারা গেছে।
এছাড়া ৫০০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অসংখ্য পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সরজমিনে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় বানের পানি প্রবেশ করেছে। লোকজন গবাদিপশু নিয়ে এক সংগে বসবাস করছেন। নৌকায় চরে অনেক দূর থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল সংগ্রহ করছেন। কারো কারো রান্নাঘরে পানি ওঠে যাওয়ায় রান্না করতে তাদের মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের আলহাজ্ব খসরুল আলম জানান, তার ইউনিয়নের নোয়াবন, শ্রীপুর, তরং, মান্দিয়াতা, গোলাবাড়ি, ছিলাইলন তাহিরপুরসহ ১০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তালুত জানান, ৭ হাজার লোক পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ফতেহপুর ও দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন। আগামীকাল ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক ত্রাণ সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া গৃহ নির্মাণ সামগ্রীও প্রদান করা হবে।
দুর্গতের পাশে থেকে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক ভাবে সহযোগিতা করে যাবে। ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রঞ্জিত চৌধুরী রাজন বলেন, তার ইউনিয়নে সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আগাম বন্যায় ফসল হারা মানুষের উপর আকস্মিক বন্যা মরার উপর খারার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় চাল ও নগদ টাকা ও গৃহ নির্মাণ সামগ্রী দেয়ার আহ্বান জানান সরকারের কাছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, ধীর গতিতে পানি নেমে যাওয়ার কারণে মানুষের র্দুভোগ বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরী করে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল আহমদ জানান,বন্যা পাহাড়িঢলে তাহিরপুর,বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার গ্রামীণ সড়ক,স্লুইচ গেইট, বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ গ্রস্থ হয়েছে। পানি সরে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপান করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন জানান, সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এজন্য বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। রাতে বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: