সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিখোঁজ’ তালিকার ওজাকি কি কানাডায়?

82e0eb1aaa3ca14e16f59e5ab1a74b64-578f717d3c3e1-550x309নিউজ ডেস্ক : গুলশানে জঙ্গি হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রথম যে ১০ ব্যক্তির নিখোঁজ তালিকা প্রকাশিত হয় তার একজন হচ্ছেন ধর্মান্তরিত অধ্যাপক। মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি নামের ওই ব্যক্তির আগের নাম ছিল সুজিত দেবনাথ। সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্র জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে সেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেন। পরে জাপানেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন ও এক জাপানিকে বিয়ে করেন। এরপর একবার দেশে ফিরলেও গত এক বছর ধরেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করে লাপাত্তা রয়েছেন তিনি। তবে সুজিতের পরিবার রয়েছে জাপানে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা জনার্ধন দেবনাথ। তার ছেলে কেন ধর্মান্তরিত হলো এবং কী কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলো সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি।
এদিকে, তার পরিবার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মাস ছয়েক আগে কানাডা থেকে ওজাকি ওরফে সুজিত শেষবার কথা বলেছিলেন তার এক বন্ধুর সঙ্গে। এরপর তার সঙ্গে আর কারও যোগাযোগ হয়নি।
মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি ওরফে সুজিত দেবনাথের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে। তার বাবা জনার্ধন দেবনাথ এলাকায় পরিচিত কাপড় ব্যবসায়ী।
জনার্ধন জানান, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি সুজিত। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিখোঁজের তালিকায় যে তার ছেলের নাম রয়েছে গণমাধ্যমে ছবি দেখে সে খবরটি তিনি জানতে পারেন। এমনকি ছেলে নিখোঁজ থাকার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেননি তিনি। তার ছেলে সুজিত কোনও সন্ত্রাসী গ্রুপে যোগ দিয়েছে কিনা আদৌ এসব খবর জানেন না তিনি।
তিনি জানান, একমাত্র ছেলে সুজিত ও মেয়ে রিনা দেবনাথ আর স্ত্রীকে নিয়েই ছিল তার সংসার। ছেলে জাপানে প্রবাসী হওয়ায় আর মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এখন শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনেই গ্রামের বাড়িতে থাকছেন।
দীর্ঘ আলাপচারিতায় জনার্ধন দেবনাথ আরও জানান, ছেলে সুজিত জিনোদপুর ইউনিয়নের হুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে লাউর ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে। এরপর সে সিলেট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়। সেখান থেকে মেধা তালিকায় এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করে ২০০১ সালে জাপান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে সেখানকার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে জাপানের কিউটো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরবর্তীতে এক জাপানি মেয়েকে বিয়ে করে সেখানেই সংসার শুরু করেন। সংসার জীবনে ওজাকি ওরফে সুজিত চার ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তারা জাপানেই থাকেন। সুজিতের পাসপোর্ট নম্বর ঞক ৮০৯৯৮৬০ বলে জানান জনার্ধন দেবনাথ।
জনার্দন জানান, জাপানে থাকতেই এক বছর আগে সুজিত ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হন বলে খবর পাই। এরপর তার স্ত্রীও ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়। এরপর গত বছর তারা একবার দেশে এসেছিল। কিন্তু বাড়িতে ওঠেনি। তারা উঠেছিল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফের বাড়িতে। রউফ সাহেবের ছেলেও জাপান প্রবাসী হওয়ায় তার সঙ্গে সখ্যতার কারণেই সে বাড়িতে এসে উঠেছিল ধর্মান্তরিত সাইফুল্লাহ ওজাকি।
জনার্ধন দেবনাথ জানান, চেয়ারম্যানের বাড়িতে ওঠার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করেন তারা। সেই ছিল শেষ দেখা। ওর মা বাড়িতে আসতে বললেও সে বাড়ি আসতে রাজি হয়নি। এর এক বছর আগে জাপানে থাকাকালীন তার সঙ্গে মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয়। ছেলের জন্যে প্রতিদিনই তার মা কান্নাকাটি করে চোখের জলে বুক ভাসান। কিন্তু, এখন শোনেন জাপানেও নাকি আর আর থাকে না তার ছেলে। সে কোথায় থাকে কি করে কিছুই জানেন না তিনি।
জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান,‘মেধাবী ছাত্র সুজিতকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি ও জানি। সুজিত জাপানের কিউটো ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিল। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছ থেকে মোটর সাইকেল উপহার পেয়েছিল বলে জেনেছি। পরে সুজিত ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছে বলেও শুনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বছর খানেক আগে সে জাপান থেকে আমার বাড়িতে এসেছিল। এরপর তার মা-বাবার সঙ্গেও দেখা করে। তবে সে তার বাড়িতে যায়নি। সেবারই তার সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ নেই। তবে আমার (চেয়ারম্যান) ছেলেও জাপান থাকার সুবাদে যতদুর জানি সুজিত জাপানে নাই। সে কানাডায় চলে গেছে বলে আমার ছেলে জানিয়েছিল। ছয় মাস আগে ইন্টারনেটে আমার ছেলের সঙ্গে সুজিতের কথা হয়েছিল। এ অবস্থায় সে নিখোঁজ কিনা তাও আমরা জানি না। আমার ছেলের সঙ্গেও তার এখন আর কোনও যোগাযোগ নেই।’
সুজিতের মামা শংকর দেবনাথ জানান, ভাগ্নেকে আমরা মেধাবী ও ভাল ছেলে হিসেবেই জানি। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হলে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। এরপর নানাভাবে তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে কোথাও তার খোঁজ পাইনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরে কয়েক মাস আগে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকির নাম ঠিকানা যাচাই করতে বলেছিল। এরপর আমরা তদন্ত করে নাম ঠিকানা যাচাই করে পাঠিয়েছি।-আমাদের সময় অনলাইন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: