সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কলেজছাত্রী ইরাকে নিরাপত্তা হেফাজতে দিলেন আদালত

photo-1468910592নিউজ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ‘নিখোঁজ’ ছাত্রী নুরুন নাহার ইরার (১৮) সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। প্রেমের টানেই বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর আজ বুধবার ইরাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরা গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় শ্রীনগর থানায় এসে হাজির হন। এর আগে ‘নিখোঁজ’ ইরাকে না পেয়ে তাঁর পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে, তাদের সন্তান জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর একদিন মোবাইল ফোনে কথা হলে শিক্ষার্থী ইরা পরিবারকে জানান, তিনি পবিত্র জায়গায় আছেন। খোঁজাখুঁজি করে লাভ নেই।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-শ্রীনগর সার্কেল) শামসুজ্জামান বাবু জানান, কলেজছাত্রী ইরার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কাজেই তাঁকে হয় স্বামী কাছে অথবা মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করারই কথা।

কিন্তু স্বামীর হাতে ইরাকে তুলে দিতে চাইলে তাঁর পরিবার বাঁধ সাধে। আবার ইরা অসম্মতি জানায় মা-বাবার কাছে যেতে। এমন পরিস্থিতিতে দুপুরে ইরাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইরা শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ মাশুরগাঁও গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে। গত ১৯ জুন কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই ইরার মা শামীমা আক্তার শ্রীনগর থানায় জিডি করেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ কলেজছাত্রীর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

একটি ছবিতে দেখা যায়, দাঁড়িওয়ালা এক যুবকের সঙ্গে ইরা ও তাঁর আরো দুই বান্ধবী রয়েছেন। ওই যুবকের নাম সিরাজুল ইসলাম নয়ন (৩৫)। তিনি পাবনার বর্জনাথপুর গ্রামের আ. হামিদের ছেলে। সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার গুলশান ২-এর ৭২ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত আহমেদ গ্রুপের কর্মকর্তা। ২০১৫ সালে সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সিরাজুল কাজ করেন। ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার আগে তিনি ইরাসহ আরো কয়েকজনের গাইড হিসেবে তিন মাস নিযুক্ত ছিলেন।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে শ্রীনগর থানায় হাজির করার জন্য আহমেদ গ্রুপের কর্ণধারকে অনুরোধ করে পুলিশ। সিরাজুল ইসলাম থানায় পৌঁছানোর আধা ঘণ্টা আগে ইরা থানায় এসে হাজির হন। তিনি তাঁর জন্য অন্য কাউকে হয়রানি না করতে বলেন।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহিদুর রহমান জানান, তাঁদের আলাদাভাবে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে ইরা জানান, তিনি সিলেটে মাজারে ছিলেন। কথাবার্তা বিভ্রান্তিমূলক হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

একপর্যায়ে ইরা জানান, সিরাজুল ইসলাম নয়ন ও তিনি গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। তাঁরা ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে ঢাকার পুলিশ তাঁদের বাড্ডার ঠিকানা নিশ্চিত করে।

গতকাল মধ্যরাতে সিরাজুল ইসলাম নয়নকে তাঁর অফিসের লোকের কাছে এবং আজ বুধবার ইরাকে আদালতে পাঠানো হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: