সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধরপাকড় বরখাস্তে ব্যস্ত তুর্কি সরকার

034215kalerkantho-7-20-16-SJ-27আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় তুরস্কের রাজধানী আংকারায় পার্লামেন্ট ভবন বোমা হামলার শিকার হয়। গতকাল পার্লামেন্টের বিধ্বস্ত অংশ দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। ছবি : এএফপি

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর সরকার যখন ব্যাপক ধরপাকড় আর বরখাস্তকরণে ব্যস্ত, একই সময় মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহাল করা নিয়ে যখন কথা চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জনতার প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেন। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের জন্য অভিযুক্ত করা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীদের সমূলে উত্পাটনের কথাও বলেন তিনি।

তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল, উদারপন্থী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা কেমাল কিলিকদারোগলুর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম বলেন, ‘(অভ্যুত্থানকে ঘিরে) কারো মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হওয়া ঠিক নয়। আইনের অনুশাসনে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ কেউ আইনবিরুদ্ধ আচরণ করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। গুলেনের সমর্থকদের দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের শিকড় পর্যন্ত খুঁজে বের করব, যাতে কোনো গুপ্ত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আমাদের আশীর্বাদপুষ্ট জনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার সাহস না দেখায়।’

গত শুক্রবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন আট হাজার পুলিশসহ প্রায় ৯ হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। ছয় হাজার সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আকিন ওজতুর্কও রয়েছেন। অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওজতুর্ক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার তাঁকেসহ ২৬ জন সাবেক জেনারেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আংকারার একটি আদালত। এ ছাড়া অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে প্রায় তিন হাজার বিচারককে বরখাস্ত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে অভ্যুত্থানের পেছনের প্রধান হোতা হিসেবে উল্লেখ করছে সরকার। এই অভিযোগে তাঁর বিচার করার স্বার্থে তাঁকে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনো অভিযোগ শুনতে চান না, চান প্রমাণ। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী গতকাল জানান, অভ্যুত্থানে গুলেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে চারটি দলিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। গুলেন অবশ্য বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত নন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রে) এখানে আইনের শাসনই সবার ওপরে। বৈধ নয়, এমন কোনো বিষয়ের দিকে এ সরকার মনোযোগ দেবে, সেটা আমি বিশ্বাস করি না।’

গুলেনসহ সন্দেহভাজন সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে তুরস্ক সরকার মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনর্বহালের কথা ভাবছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘এটা (অভ্যুত্থান) স্পষ্টই রাজনৈতিক প্রতারণা।’ পার্লামেন্ট যদি ওই আইন কার্যকর করতে চায়, তিনি তাতে অবশ্যই সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র : এএফপি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: