সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাজনগরে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কালামুয়া ছড়ায় সিলিকা বালু উত্তোলন

49c4c8d8-5727-49e5-83ac-f96456e4ba3aবিশেষ প্রতিনিধি :
রাজনগরে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে উত্তরভাগ ইউনিয়নে কালামুয়া ছড়ায় সিলিকা বালু উত্তোলনের হিড়িক ছলছে। প্রকাশ্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন করলেও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নেই নজরদাড়ি। ইজারা না নিয়েও বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে প্রতিদিন। বালু মহাল থেকে অপরিকল্পিত ভাবে সংবিধিবদ্ধ আইন না মেনেই নৌকা ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে নদী ও ছড়ার পাড়। অবৈধ ভাবে মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দুই পাশ ভেঙ্গে গিয়ে ক্রমানয়ে প্রসস্থ হচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে কৃষি জমি ও জরবসতি। এক দিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্যদিকে মাটি ও বালি ব্যবস্থপনা আইন অমান্য করে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময়ী সম্পদ।

বালি ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন এর সত্যতা জানতে সরেজমিন কালামুয়া ছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নৌকা ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে উত্তরভাগ ইউনিয়নের রাস্থার একটি পাশে অবৈধ ভাবে রেখেছে বালু উত্তোলন কারীরা। স্থানীয় লোকজন জানালেন- কালামুয়া ছড়া উত্তরবাগ চা-বাগান থেকে শুরু করে প্রদান সড়ক পর্যন্ত বালু উত্তোলন করেন স্থানীয় হায়পুর গ্রামের শাহ কয়েছ আলী, সুয়েব আলী, জুবেদ খাঁ, রুমান মিয়া ও শিপন মিয়াসহ অন্যান্য প্রভাবশালী লোকজন। সূত্র জানায়- ২০১৩ সনের ১৮ জুন একটি প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মৌলভীবাজারে ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালু সম্পৃক্ত এর মধ্যে ১৯ টি-কে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়।

ইজারা প্রদনের আগে কোন পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) করা হয়নি এবং ইজারা গ্রহীতারাও কোন পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) দাখিল করেননি। খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন ১৯৯২ এর বিধানমতে সিলিকাবালু একটি খনিজ সম্পদ এবং কোন খনিজ সম্পদ উত্তোলন বা আহরণের পূর্বে পরিবেশ সংরক্ষণের বিধি বিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে সিলিকা বালু সমৃদ্ধ ওই এলাকার কয়েকটি স্থানে ইজারা প্রদান করে। ইজারা গ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনীভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এ বিষয়ে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত ৮ মার্চ জনস্বার্থে একটি রীট পিটিশন (নং ২৯৪৮/২০১৬) দায়ের করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। সেই সাথে ইজারাভুক্ত ছড়াসমূহ থেকে সকল প্রকার ড্রিল, ড্রেজার, বোমা মেশিন এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যান্ত্রিক মেশিনসমূহ অবিলম্বে জব্দ করার জন্য আদালত নির্দেশনা প্রদান করেন।

আদালতের এই নির্দেশনার পরও রাজনগরসহ জেলার সর্বত্র নদী ছড়ায় বোমা-ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করলেও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন নিরব ভৃমিকা পালন করে আসছেন। আদালতের নির্দেশনার পরও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কারী শাহ কয়েছ আলী এ প্রতিবেদকের কাছে ১৯ জুলাই সকালে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন- আমি গত বছর বালু মহাল ইজারা নিয়েছি। তাই বালু উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে আমি একা বালু উত্তোলন করি না আপনাকে ছবিসহ পাটাতে পারব। ছনই নামে অপর একজন বালু উত্তোলন করছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: