সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংস্কারের উদ্যোগ নেই রাবির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন

8c10618e-5b65-4f07-b1dc-6f311a185658সালমান শাকিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়::
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভা সমাবেশ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানাদির একমাত্র কেন্দ্রস্থল কাজী নজরুল ইসলাম মিলানায়তন আধুনিকীকরণে নেই কোন পদক্ষেপ। প্রায় ২ হাজার আসন বিশিষ্ট এই ভবন তৈরির কাজ শেষের পর থেকে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের বড় ধরনের সভা সমাবেশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আসছেন। তবে ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসলেও সংস্কারের মাধ্যমে একটি আধুনিক মিলনায়তন হিসাবে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহন করছেনা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় মিলানায়তন ভিজিট করে দেখা যায়-

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়
সর্বপ্রথম ডিজিটাল বিশ^বিদ্যালয় হিসাবে খ্যাত রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মিলনায়তন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয় মিলানায়তনগুলি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় শীতের সময় অধিক মাত্রায় শীত এবং গরমের সময় অধিক গরম অনুভুত হয়। অন্য দিকে দেশের মন্ত্রী পরিষদ থেকে শুরু করে দেশবরেন্য ব্যাক্তিবর্গ সেখানে অতিথি হয়ে আসেন । যদিও গরমের জন্য ভিতরে বৈদ্যুতিক পাখা রয়েছে তবে তার পরিমাণ আয়তনের তুলনায় খুবই কম। বাধ্য হয়ে গরম সহ্য করেই বিভিন্ন সময়ে আয়োজকদেরকে তাদেও অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত শীতের মধ্যে অনুষ্ঠান করতে হয় তাদেরকে।

লাইটিং ব্যাবস্থা উন্নত নয়
একটি ভবনের সৌন্দর্য্য বা শোভা বৃদ্ধির জন্য সেই ভবনের লাইটিং ব্যবস্থা উন্নত প্রযুক্তির হওয়া বর্তমান ডিজিটাল সময়ের দাবি। কিন্তু মিলনায়তনের ভিতরে প্রবেশ করলে বোঝা যায় এটা কোন অন্ধকার পৃথিবী যেখানে আলোর ছটাও পাওয়া মুশকিল। যদিও সেখানে উপরের দিকে লাইটিং তথা বৈদ্যুতিক বাল্ব এর ব্যবস্থা রয়েছে তবে তার অধিকাংশই অচল। অন্য দিকে মঞ্চের ভিতরের লাইট গুলির বেশির ভাগই নেই সেই সাথে ইলেট্রিকাল অন্যান্য সমস্যা তো আছেই। নি¤œ মানের বাল্ব হওয়ায় অল্পদিন যেতে না যেতেই তা নষ্ট হয়ে যায়।

উন্নত শব্দ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা নেই
একটি মিলনায়তনে সভা সমাবেশের জন্য উন্নত সাউন্ড সিস্টেম অপরিহার্য। তবে বিশ^বিদ্যালয়ের বিশাল মিলনায়তনটির উন্নত শব্দ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা দূরের কথা কোন ধরণের শব্দনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা নেই। যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানাদির জন্য এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুষ্ঠানাদির জন্যও বাহির থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া আনতে হয়। এবং তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় ।

মানের ডেকোরেশন ব্যবস্থা
আন্তর্জাতিক সেমিনার হওয়ার মত একটি মিলনায়তন হিসাবে উন্নত ডেকোরেশন ব্যবস্থাও নেই বিশ^বিদ্যালয় মিলানায়তনে। বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্য এখানে আসেন তবে তাদের অবস্থান অনুযায়ী মিলনায়তনের পরিবেশ উন্নত নয়। এছাড়া দীর্ঘদিন দেয়াল পেইন্ট না করার কারণে পেইন্টিং এর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে।

বরাদ্ধ নেই বাজেটে
অন্যদিকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক মিলনায়তনের তুলনায় উপরিউক্ত বিষয়গুলি বিশ^বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যমান না থাকা সত্ত্বেও আধুনিকায়ন বা সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্ধ নেই সর্বশেষ বাজেটে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৪৯০ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা উল্লেখ্য করে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে তবে বাজেট এবং বাজেট বক্তৃতা বিশ্লেষনে দেখা যায় যে সেখানে মিলনায়তন সহ বিভিন্ন খাত সংস্কার সাধনের জন্য শুধু অর্থের প্রয়োজন আছে বলে দাবি করা হয়েছে তবে মিলানয়তনের সংস্কার বা আধুনিকায়নের জন্য কোন বরাদ্ধ রাখা হয় নি। সর্বশেষ ২২ তম সিনেট অধিবেশনে এ বাজেট পেশ করা হয়।

মিলনায়তন আধুনিকায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অন্যন্য বিশ^বিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ^বিদ্যালয় উন্নত এবং দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও মিলনায়তনের অবস্থার খুবই নগন্ন। মিলনায়তনের কথা বিবেচনা করলে উন্নত মনে হয় না।
সংস্কার না হওয়ায় সাংবদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের থেকে যখন আধুনিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার মিলানায়তন আধুনিকায়নে প্রশাসনের থেকে পদক্ষেপ না থাকাটা দুঃখ জনক।
সংস্কার হওয়া বা মিলানায়তনের আধুনিকায়নের কথা জানতে চাইলে টিএসসিসি’র পরিচালক অধ্যাপক টি এম এম নুরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন,সংস্কার না হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে আমাকে নানা সমস্যার সম্মূখিন হতে হচ্ছে এবং অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে কারণ এর জন্য টিএসসিসির আলাদা কোন ফান্ডের ব্যাবস্থা নাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আমরা আধুনিকায়নের আশ্বাস পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, এটির সংস্কারের জন্য যে জনশক্তি দরকার তা আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে শুধু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংস্কারের জন্য বাজেট বরাদ্ধ না থাকার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যপক সায়েন উদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে বিষয়টি আছে তবে সরকার থেকে বরাদ্ধ না থাকায় আমরা সংস্কার কাজে হাত দিতে পারছি না। যেহেতু অনেক অর্থের প্রয়োজন সেহেতু বরাদ্ধ পেলেই অতি তাড়াতাড়ি সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন সরকার থেকে বাজেট বরাদ্ধ না থাকায় বিশ^বিদ্যালয় বাজেটে বরাদ্ধ পায়নি বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: