সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাফর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে হাকালুকি হাওর: নেপথ্যে ক্ষমতাসীনরা, প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ আহরণ

hakaluki hawar daily sylhetজালাল আহমদ ::
ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত মাছের অভয়াশ্রম হাকালুকি হাওর থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ আহরণ করে লুটপাট করা হচ্ছে। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। কোটি টাকার এ বাণিজ্যে শরিক ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। একটি নিবিড় সম্পর্কে টোকেনের মাধ্যমে চলছে বাণিজ্যটি। পুরো হাওরটি এখন জুড়ীর বেলাগাঁও ও বড়লেখার ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিভিন্ন মৎস্য সমিতির নামে জাফর বাহিনীই এখন হাওরের মৎস্য সম্পদ লুটপাট করছে। বিলগুলো ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব আয় করে থাকে।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, এশিয়ার সর্ববৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরটি এখন বিল ও মাছখেকো সিন্ডিকেটের কবলে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোপূর্বে সরকার হাওরের বেশ কয়েকটি বিলের ইজারা স্থগিত রেখে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারের এ উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে হাওরপাড়ের কতিপয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কালো থাবায়। তারা ভাড়াটিয়া জেলে দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের অবৈধ জালে মা ও পোনা মাছ আহরণ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। টোকেন সিস্টেমে প্রতিদিন অন্তত ৫-৭ লাখ টাকার পোনা মাছ নিধন হচ্ছে। অবৈধ মৎস্য নিধন বন্ধের দাবিতে মৎস্যজীবি সমিতি গত মাসে দুই দফা জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। প্রতি বছরের ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ তোড়জোড় করে পালন করা হয়, কিন্তু মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় প্রশাসনের যেনো কিছু করার নেই। পোনা মাছ বন্ধে এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে স্থানীয় মৎস্য দপ্তর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে ২৩৮টি বিল রয়েছে। বিলগুলো ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। বর্ষা মৌসুমে হাকালুকির বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে নানা প্রজাতির মা মাছ যখন বংশ বিস্তারে তৎপর, তখনই শিকারিদের ফাঁদে পড়ে ডিমওয়ালা মাছ। ফলে দ্রুত মাছের বংশ বিলুপ্ত হচ্ছে। শিকারিদের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া মা মাছ ডিম ছাড়ার পর পোনামাছ নিষিদ্ধ কাপড়ি জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে অসাধু জেলেরা মাছ আহরণ করছে। জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া, সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ-এই ৬ উপজেলায় সম্পৃক্ত মিঠাপানির বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। উপজেলাগুলোর বাসিন্দারা প্রশাসনের আনুকুল্য পেয়ে বাণিজ্যের এ সিন্ডিকেট তৈরি করে নির্বিঘ্নে পোনা মাছ নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছেন।

fhghgbঅনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দুধাইবিল বদ্ধজলমহাল, হুগলা, বরাং, তামসাকুড়ি, সিংজুড়ি নদী (বদ্ধ) জলমহালসহ প্রায় প্রতিটি ইজারাকৃত ও অভয়াশ্রম ঘোষিত জলমহাল থেকে প্রতিরাতে নিষিদ্ধ কাপড়ি ও বেড়জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন হচ্ছে। হাওরপারের প্রভাবশালীরা ৪০-৫০ জনের একেকটি গ্রুপে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে জেলে নিযুক্ত করে ৫-৬ হাজার ফুট লম্বা কাপড়ি জাল দিয়ে পোনা মাছ আহরণ করছে। ভোরবেলা খাঁচায় ভরে পোনা মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়ে থাকে। গত বছর উপজেলা প্রশাসন রাস্তা থেকে পোনা মাছের ১-২ চালান জব্দ করলেও এবার তা চোখে পড়েনি।

খুটাউরা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সমিতি হাওরের দুধাই বিলটি ১৪১৯ বাংলা হতে ১৪২৪ বাংলা পর্যন্ত ইজারা নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বর্ষার মৌসুমে হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামের জাফর মিয়া, মাসুক মিয়া, আব্দুল হক, ছফর উদ্দিন, খালেদ আহমদ গং ‘জাফর বাহিনী’ নামে প্রতিরাতে ইঞ্জিন নৌকায় হাজার হাজার ফুট লম্বা নিষিদ্ধ কাপড়ি জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ আহরণ করে বিক্রি করছে। গত ১৭ ও ২৫ মে প্রশাসনের উচ্চমহলে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আহমদপুর একতা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মলিন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তাদের সমিতি হাকালুকির হুগলাসহ কয়েকটি বিলের ইজারা নিয়েছে। কিন্তু জাফর বাহিনীর লোকজন বিল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে পোনা মাছ নিধন করছে। তাদের বাঁধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ১৫ দিন আগে সমিতির পক্ষ থেকে তিনি জলমহালে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। এসব প্রকাশ্যে চললেও স্থানীয় প্রশাসন যেনো এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।

মূলত পুরো হাওরটি এখন জুড়ীর বেলাগাঁও ও বড়লেখার ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারাই পুরো হাওরে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে হাওর মৎস্যশূণ্য করে লুটপাট চালাচ্ছে। এসব শিকারিরা তাণ্ডব চালাচ্ছে ২৪ ঘণ্টাই। ফলে শুধু মাছই নির্বংশ হচ্ছে না, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হাকালুকির জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্বও। হোগা (চাপিলা), ইছা, কেচকি ও তিতপুঁটি শিকারের নামে এসব মৎস্য শিকারি ও সিন্ডিকেট সদস্যরা শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে সব ধরণের মাছ। তাদের কাছে যেমন মা মাছ বলে কোনো মাছ নেই তেমনি ডিমওয়ালা বলেও বাছ-বিচার নেই।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন চার শতাধিক বেড়জাল নিয়ে এসব শিকারি ঝাপিয়ে পড়ে হাকালুকিতে। দিবারাত্র আহরণ করে সব ধরণের মাছ। শিকারিরা বিত্তবান শ্রেণীর না হলেও জালের মালিকরা সবাই বিত্তবান। এসব জালের মালিকরা এতোই বিত্তবান যে, বিলগুলো ইজারা নেওয়ার সময় তারাই নেন। জালের মালিকরাই মূলত সৃষ্টি করেছে টোকেন সিস্টেমের। টোকেন ছাড়া জাল দিয়ে মাছ ধরে ডাঙায় উঠলেই মাছসহ ধরা পড়ে যেতে হয় উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকজনের কাছে। সেখানে গিয়ে আর মাছ ধরবে না হাওরে-এমন শর্তে মুচলেকা দিয়ে টোকেন নিয়ে পুনরায় অসীম সাহসে শিকারে ঝাপিয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয় না। মাঝে-মধ্যে আইওয়াশ হিসেবে দরিদ্র জেলেদের ধরা হয়।

সূত্র আরও জানায়, পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শুক্কুর মিয়া, ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদ গং গোটাউরা-হাওরখাল বদ্ধ জলমহালটি ১৪২২ বাংলায় ইজারা নিয়েছে বলে এলাকায় প্রচারপূর্বক শুষ্ক মওসুমেই অস্থায়ী বাসা নির্মাণ করে বিল থেকে কোটি কোটি টাকার মৎস্য আহরণ ও বিক্রি করছে।

স্থানীয় জেলেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কাই করছে না। শুধুমাত্র সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলীর সুপারিশ বিবেচনায় সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও ওই সমিতিকে (রেজি: নং-২৫৩) ইজারা অনুমোদন দেয়া হয় গোটাউরা-হাওরখাল বদ্ধ জলমহালটি। জলমহাল ইজারা নীতির পরিপন্থী হওয়ায় অনুমোদনের পর মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিট পিটিশন (৮০৩৪/’১৫) এর প্রেক্ষিতে ওই ইজারা বাতিল করা হয়। কিন্তু পানকৌড়ি সমিতির লোকজন তথা জাফর বাহিনী ১৪২২ বাংলা হতে অদ্যাবধি অবৈধভাবে বিল থেকে মাছ আহরণ করছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জাফর বাহিনী ও পানকৌড়ি সমিতির সদস্যদের দাপটে অন্যান্য বিলের পাহারাদারদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। জাফর বাহিনীর অবৈধ কাজে বাঁধা দিলে অপহরণ করে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে। ইতোপূর্বে অন্তত ৩জন পাহারাদারকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়েছে। সম্প্িরত এক যুবককে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় চালায় ওই বাহিনী। এসব বিষয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় অনেকেই অবগত আছেন। জাফর বাহিনী অন্যান্য আরও ভাড়াটিয়া বাহিনীর কাছ থেকে বড়ো অংকের অর্থ নিয়ে রাতের আঁধারে মাছ নিধনে সহযোগিতা করে। গোটাউরা-হাওরখাল বদ্ধ জলমহাল ছাড়াও সরকারি অভয়াশ্রম ঘোষিত প্রতিটি বিল থেকে অবাধে মৎস্য নিধন করছে। প্রতিদিন রাতে শতাধিক লোক নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৫-১০ টি বড়ো ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে সৌর বিদ্যুত জ্বালিয়ে হাওরের প্রতিটি বিলে হামলে পড়ে মাছ লুটপাটে। একক আধিপত্য বিস্তার করে এলাকার নিরীহ লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নির্যাতন চালিয়ে হাওরের মৎস্য সম্পদ লুটে নিলেও প্রশাসন রয়েছে অনেকটা নির্বিকার।

শিকারি সূত্র জানায়, একেকটা জালের সাথে ৪০/৫০ জন করে শিকারি থাকে। ২০০০ হাত জালে থাকে ৫০ থেকে ৬০ জন। শিকারিদের এসব জাল ৪০০, ৫০০, ১২০০ ও ২০০০ হাত লম্বা হয়ে থাকে। কখনও কখনও ৪ হাজার হাত লম্বা জাল দিয়েও শিকার করা হয়ে থাকে। শিকারিদের সবচেয়ে ক্ষতিকারক জাল হচ্ছে তিতপুঁিট মারার কৌশলী জাল। একে বিষজালও বলা হয়ে থাকে। এই জাল পেতে শিকারিরা ছোটো ছোটো মাছের পোনা ধরে, গলফা জাল দিয়ে শিকার করে নিয়ে যায় বড়ো বড়ো মাছ। তাছাড়া সব শ্রেণীর মাছ শিকারে রয়েছে বেড়জাল। শিকারিদের সাথে জালের মালিকদের চুক্তি হলো সব খরচ বাদে জালের ১ ভাগ, শিকারিদের ২ ভাগ। তাতে করেই শিকারিদের জনপ্রতি আট’শ থেকে এক হাজার টাকা দৈনিক আয় থাকে। হাওরের মধ্যে কতো টাকার মাছ শিকার হলো তার হিসাবও রাখা হচ্ছে প্রতি মূহুর্তে। এককথায়, মাছ শিকার থেকে নিয়ে বিপণন সব কিছুই চলছে নির্ধারিত নিয়মে। তবে মজার ব্যাপার হলো, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগ্যে এসব মাছ খুব কমই জুটে। সব মাছ রাজধানী ও দেশের অন্যান্য স্থানে চলে যায়। প্রকাশ্য ব্যবসা হলেও সংশ্লি¬ষ্ট প্রশাসন তাতে নজর দেয় না। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণ জানা আছে স্থানীয় জনসাধারণেরও।

মাছ শিকারি আলমগীর (৪৫) ও তাহের আলীকে (৫০) বেআইনিভাবে মাছ শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, বেআইনি জেনেও শিকার করতে হচ্ছে। তাছাড়া জীবিকা নির্বাহের কোনো পথ নেই। তাহের আলী আরও জানান, আট জন সদস্যের পরিবারে তিনিই একমাত্র রোজগারি।
এদিকে পানকৌড়ি সমিতির ইজারা অনুমোদন হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ইতোপূর্বে হাইকোর্টের বাতিল সংক্রান্ত আদায় বহাল রেখে আদেশ দিয়েছেন।

হাকালুকি হাওরে মৎস্য প্রজনন ও উৎপাদন ক্ষেত্র রক্ষা না হওয়ায় মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্যও। তাই হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে ও সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে জাফর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাওর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাসহ মৎস্যজীবি ও মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা।
হাওওে অবাধে মাছ লুটের বিষয়ে জানতে জাফর আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পানকৌড়ি সমবায় সমিতির সভাপতি শুক্কুর মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু ইউসুফ জানান, ইতোপূর্বে হাওর থেকে তিনি বেশ কিছু অবৈধ কারেন্ট ও কাপড়ি জাল জব্দ করেন। এসব জাল উপজেলায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আমাদের লোকবলের অভাবে অনেক সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তবে অবৈধভাবে মৎস্য সম্পদ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিগগির হাওরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, যারাই মৎস্য সম্পদ লুটের সাথে জড়িত হোক তাদের বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা বিহিত ব্যবস্থা নেবো।

হাওরে মাছ ধরা প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য অফিসার আ.ক.ম. শফিকুজ্জামান জানান, প্রতিটি উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শিকারিদের প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: