সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গুলশান থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কার্যালয় ?

bnp5-550x468নিউজ ডেস্ক : গুলশান-বনানী এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছিলেন বিএনএফের চেয়ারম্যান ও ওই এলাকার সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে প্রায় ২ ঘন্টা অবস্থান শেষে চলে যাওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান। এরপর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য কার্যালয় উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া কূটনৈতিক এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
কূটনৈতিক এলাকাকে একটি নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গুলশান থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং বনানী থেকে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যালয় সরাতে হবে। তবে তাঁদের কার্যালয়ের কারণে এই এলাকায় কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন না দুই দলের নেতারা। এ ছাড়া এখানে শাসক দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের ছোট ছোট একাধিক কার্যালয় আছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের ডিসি ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি চিঠি দেন। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়াসহ কূটনৈতিক এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয় থাকায় ওই এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের আনাগোনা থাকে। মিছিল-মিটিংসহ মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকা-ের ঘটনাও ঘটে। চিঠিতে ৮ জানুয়ারি কানাডীয় হাইকমিশনের পাশে, ২৫ জানুয়ারি মার্কিন দূতাবাসের গ্যারেজের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলায় ১৮ জন আহত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি গুলশান-২-এর মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত কূটনীতিক বহনকারী গাড়ির ছাদে ককটেল বিস্ফোরিত হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
ইতোমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গুলশানের সব বাণিজ্যিক ভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও অন্যান্য অবৈধ ভবনের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ও।
রাজউকের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে উচ্ছেদ করা হবে রেস্টুরেন্ট ও বার-এর মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর পরের ধাপে আসবে রাজনৈতিক কার্যালয় ও অন্যান্য অবৈধ প্রতিষ্ঠান।
জানতে চাইলে গুলশান এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের (জোন-৪) অথরাইজ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, গুলশান একটি আবাসিক এলাকা। এখানে অনেক কূটনীতিক অবস্থান করেন। এই এলাকা থেকে সব বাণিজ্যিক কার্যালয়, বার, রেস্টুরেন্ট ও অবৈধ ভবন সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে এই তালিকায়।
কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া শুরু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাজউকের এই কর্মকর্তা বলেন, এটি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগির শুরু হবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া।
এই গুলশানেই অবস্থিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়। গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটি ব্যবহৃত হচ্ছে তার রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে।
রাজউকের অথরাইজ কর্মকর্তা বলেন, “শুধু খালেদা জিয়ার কার্যালয় নয়, এই ধরনের সব কার্যালয় ও ভবন সরিয়ে ফেলা হবে। অভিজাত এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।”
তবে রাজউকের তালিকায় বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থাকার বিষয়ে কিছু জানেন না দলটির নেতারা। জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চেয়ারপারসনের কার্যালয় সরিয়ে ফেলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাইনি আমরা।’
তিনি বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর আমরা করণীয় ঠিক করব। এর আগে কিছু বলা যায় না।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন বলেন, “শুধু গুলশান এলাকা নয়, পুরো দেশই তো অনিরাপদ। সারা দেশেই এখন জঙ্গি হামলা ঘটছে। সুতরাং নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেই ভালো হয়।”
ওই হামলার পর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার সেখান থেকে বাণিজ্যিক কার্যালয় ও অবৈধ ভবন সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০০৮ সালের জরিপে জানা যায়, পুরো গুলশানে ৯০৪টি আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরেক অভিজাত এলাকা বনানীতে রয়েছে এ ধরনের ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান। তবে গত আট বছরে এ সংখ্যা বেড়ে এখন দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। গুলশান আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় একদিকে অস্বাভাবিক যানজট বেড়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।
ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশান, বনানী ও বারিধারায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার জন্য এর আগেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজউক। কিন্তু প্রতিবারই পিছু হটেছে রাজধানীর উন্নয়ন তদারকির সংস্থাটি। সম্প্রতি জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবার।
রাজউক বলছে, গত কয়েক দিন ধরে গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রম চলছে। এটি শেষ হলেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অবশ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খুব শিগগির কূটনৈতিক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাখা হবে না। প্রাথমিকভাবে গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁ উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হবে।
এসব এলাকার স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালগুলো সরাতে তিন মাস সময় দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তাদের জন্য নতুন জমি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।- আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: