সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নর্থ সাউথে প্রেমিক শিশিরই বদলে দেয় নাদিয়াকে

2016_07_18_22_53_09_7x4QDQV2qbYTeyELhJArv0Ma1exO5Y_originalনিউজ ডেস্ক : নামাজ পড়লেও পোশাক-আশাকে অতটা রক্ষণশীল ছিলেন না রেজওয়ানা রোকন নাদিয়া (২২)। কিন্তু নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই হঠাৎ করেই বদলে যান এই তরুণী। পাশাপাশি ছোটবোন রামিতাকেও (১৫) উৎসাহিত করেন হিজাব পরতে। ধীরে ধীরে বদলে যান বাবা ডা. রোকন উদ্দিন (৫৫) ও মা নাঈমা বেগমও (৩৮)।

সপরিবারে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসক রোকন উদ্দিনের পরিবারের খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্যই মিলেছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির নাম ঘুরেফিরে আসছে। কারণ এই দুই হামলায় জড়িত অন্যতম দুই তরুণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র। এ ছাড়া গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হাসনাত করিম এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষক।

রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ার মাটির মসজিদের পাশে ৪৪১/বি নম্বর বাড়ি থেকে ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাকরি ছেড়ে সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন ডা. রোকন উদ্দিন। যাওয়ার সময় তারা বলে যান, ‘মালোয়েশিয়া যাচ্ছি। এ দেশ আর ভালো লাগে না। ওখানে গিয়ে দেখি, যদি কোনো মুসলিম দেশ ভালো লাগে তাহলে সেখানেই থেকে যাব।’

ওই বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে প্রায় ৮ বছর ধরে চাকরি করছেন হেলাল উদ্দিন। তিনিই এই তথ্য দেন।

হেলাল জানান, নাদিয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই হঠাৎ করে বদলে যান। নিয়মিত নামাজ পড়া এবং হিজাব পরে বাইরে বের হওয়া শুরু করেন। ছোটবোন ও মাকেও হিজাব পরতে উৎসাহিত করেন। এক সময় পুরো পরিবারই ধর্মকর্মে খুব মনোযোগী হয়ে ওঠে।

এদিকে নাদিয়ার বড় খালা হালিমা বেগম, যিনি ওই বাড়িতেই থাকেন এবং প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক বাবা আলী আহম্মেদের উত্তরাধিকারী হিসেবে হোমিওপ্যাথ চেম্বারে নিয়মিত বসেন, তিনি বলেন, ‘নাদিয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে সাদ কায়েস শিশিরের (২৮) সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক হয়। এর পর থেকেই নাদিয়ার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।’

‘নাদিয়া-শিশিরের সম্পর্কের কথা জেনে, তাদের বিয়েতে সম্মত হন বাবা রোকন উদ্দিন ও মা নাঈমা বেগম। বিয়ের পর নাদিয়া ও শিশির এই বাড়িতেই থাকতে শুরু করে। এর পরই বদলে যায় রোকন উদ্দিন ও নাঈমা বেগম। তাদের আচরণেও আসে ব্যাপক পরিবর্তন।’

‘সম্ভবত শিশিরের সিদ্ধান্তেই পুরো পরিবার নিয়ে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয় নাঈমা ও রোকন। তবে গত রোজায় নাঈমা আমার কাছে ফোন করেছিল। খুব নিচু গলায় শুধু এইটুকই বলল যে, আমরা তুরস্কে আছি। ভালো আছি। এরপর আর কারো সাথেই যোগাযোগ করেনি তারা’, বলেন নাঈমা আক্তারের বোন হালিমা বেগম।

নাঈমা সর্বশেষ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যশোর সরকারি এম এম কলেজে শিক্ষকতা করছিলেন। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ফ্রাস, জার্মানি ও মালয়েশিয়া যাবেন বলে ৪৬ দিনের ছুটি নেন। ছুটি শেষেও কর্মক্ষেত্রে আর যোগ দেননি বলে কলেজ সূত্রে জানা যায়।

গত ১ জুলাই গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত যে পাঁচ তরুণ যৌথ অভিযানে নিহত হয় তারা সবাই বেশ কিছু দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। এরপর সারা দেশে আরো অনেক তরুণ নিখোঁজ থাকার তথ্য প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে ১০ জনের ছবিসহ বিস্তারিত পরিচয় গণমাধ্যমে আসে। এই ঘটনার পরপরই ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পুলিশ এবং সরকারের পক্ষ থেকে ‘নিখোঁজ’ সন্তানদের বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়া হচ্ছে। পুলিশও এ ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে। নিখোঁজদের অনুসন্ধান করতে গিয়েই খিলগাঁওয়ের ওই পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্ধান পাওয়া গেছে আরও দুই যুবকের। এদের একজন ঢাকার গুলশানের সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক ওরফে মরক্কো (পাসপোর্ট নম্বর: ৪৭৬১৪৫৯৯২) এবং অন্যজন বনানীর তাওসীফ হোসেন (পাসপোর্ট নম্বর: বিই ০৩৫২৭৬১ ডব্লিউ ০৫৫৯২২৭)।

একই পরিবারের ৫ জন নিখোঁজের ঘটনায় ইতিমধ্যে রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে পুলিশ। তথ্যটি নিশ্চিত করে রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জিডি হয়েছে। এখন তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে আগে আমরা নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছি।’

উল্লেখ্য, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলায় জড়িত জঙ্গিদের মধ্যে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ। এর মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে শোলাকিয়ায় ঈদগাহে বোমা হামলায় নিহত আরেক জঙ্গিরও পরিচয়ে মেলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্টতা। জঙ্গিদের ‘আশ্রয়’ দেয়ার অভিযোগে রিমান্ডে আছেন খোদ প্রোভিসি। এরই মধ্যে ওই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী দম্পতি সপরিবারে নিখোঁজের সন্ধান মিলল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: