সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরে ৩ বছর ধরে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ

01. daily sylhet nikhuj sangbadতাহিরপুর প্রতিনিধি::
তাহিরপুরে তিন বছর ধরে নিখোঁজ এক মাদ্রাসার ছাত্র। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রায় আশাই ছেড়ে দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্রের নাম মোফাজ্জল হোসেন (১৭)। সে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাকমা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সিরাজ মিয়া ও মোছাম্মৎ হাজেরা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে।

পুলিশ সন্দেহ করছে সে ধর্মীয় উগ্রবাদি সংগঠনে যোগ দিয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে গত ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার তাহিরপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে। ডায়েরি নম্বর ৪৯৯।

তাহিরপুর থানা পুলিশ ও নিখোঁজ মোফাজ্জল হোসেনের পিতা সিরাজ মিয়া জানান, মোফাজ্জল হোসেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আমতলী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে সে কোরবানি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরে ১৫ দিন ঈদের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে আমতলী মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায়। বাড়ি থেকে যাওয়ার পরপরই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বছর দেড়েক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে আর কোনো খোঁজ করেনি তার পরিবার।

সম্প্রতি নিখোঁজের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা জানতে পেরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মোফাজ্জল হোসেনের পিতা সিরাজ মিয়া। সিরাজ মিয়া জানান, ছোটকাল থেকে মোফাজ্জল নামাজ কালাম পড়ত। সে জন্য প্রথমে তাকে নিজ গ্রামের লাকমা মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। পরে একই উপজেলার বাঁশতলা মাদ্রাসা ও বাদাঘাট মাদ্রাসায় ভর্তি করে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি আরও বলেন,তার আট ছেলে মেয়ের মধ্যে মোফাজ্জল দ্বিতীয়।

মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে খরচ কম হওয়ায় এবং ধর্মীয় বিষয়ে পড়ানো হয় বিধায় তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয় বলে জানান বাবা।

মোফাজ্জল হোসেনর মা হাজেরা খাতুন জানান, তিন বছর আগে কোরবানি ঈদের কয়েক দিন পর মোফাজ্জল কে তার বাবা সিরাজ মিয়া ফটিকছড়ি আমতলী মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য ট্যাকেরঘাট এলাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী ভাড়াটে মোটরসাইকেলে তুলে দেন। এই ছিল ছেলের সঙ্গে মায়ের শেষ দেখা। তারপর আর কোনো খোঁজ খবর নেই। এর কয়েকমাস পর সিরাজ মিয়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ওই মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার ছেলে সেখানে যায়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার ছেলের কোনো হদিস দিতে পারেননি।

লাকমা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, ২ বছর পূর্বে মোফাজ্জল ঈদেও সময় বাড়ি এসেছিল বাড়ি থেকে ফেরার পর সে পরিবারের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখেনি। বিষয়টি তখন তার পরিবার আমাকে অবহিত করেছিল।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, মোফাজ্জলের পিতা সিরাজ মিয়া আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছে। ইতিমধ্যে তার পরিবার ও মোফাজ্জলের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, মোফাজ্জলের ছবি সংগ্রহের জন্য তার বাড়ির লোকজনদের বলা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি বেতারবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে থানাপুলিশ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: