সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গি হামলার হুমকিদাতা শাফিকে ঘিরে ওসমানীনগরে বাড়ছে আতঙ্ক!

jonggi shafi daily sylhetবিশেষ প্রতিনিধি:: বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকি দেয়ার ঘটনায় পরিচয়ও পাওয়া তিন যুবকের মধ্যে তাহমিদ রহমান শাফির গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় হওয়ার খবর পেয়ে এলাকাবাসীর মনে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাহমিদ রহমান সাফি জন্ম সূত্রে ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের সফিউর রহমানের পুত্র। সফিউর রহমান ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালনসহ চাকরীকালিন সময়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন বড় পদে দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সোমবার সরেজমিনে দয়ামীর ইউনিয়নে পারকুল গ্রামের শাফিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বসত ঘরটি তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা কেউই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না।

সফিউর রহমানের বাড়ির রাস্তায় দাঁড়ানো জাহেদ মিয়া নামের এক ব্যাক্তি জানান,বিগত ছয় মাস ধরে আমি সফিউর রহমানের দূর সর্ম্পকের ভাতিজার মাধ্যমে এ বাড়িটির দেখা-শুনা করার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কিন্তু ওই পরিবারের লোকজনকে আমি কখন দেখিনি। তাদের কার সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। আমি শুধু দিনের বেলা এ বাড়িতে এসে দেখাশুনা করে যাই। সোমবার বাড়িতে পুলিশ আসায় জঙ্গী সংশ্লিষ্টতায় জড়িত রয়েছে বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে সফিউর রহমানের কোন ভাতিজার মাধ্যমে বাড়িটি দেখা শুনার দ্বায়িত্ব পেয়েছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহেদ মিয়া বলেন, তাঁর নাম তিনি জানেনা। তবে গোটা গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা করে দেখা গেছে। গোটা এলাকায় এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন ভাল লোকের ছেলে আইএসসের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এ কথাটি গ্রামবাসী মেনে নিতে পারছেন না। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে এ বিষয়টিই হয়ে উঠেছে ওসমানীনগর উপজেলাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

স্থানীয় প্রবীন ব্যাক্তিরা জানান, পেশাগত কারনে সাফিউর রহমান ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি বছরই দুই-এক বার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন এবং তার এলাকার মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন। কিন্তু মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি গ্রামে আসা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এলাকার লোকেরাও তাকে খুব সম্মান করত। কিন্তু তার ছেলে শাফির সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই আমাদের। কেউই তাকে চেনেন না। বাবার সঙ্গে শাফি দুই-এক বার বাড়িতে আসলেও এলাকার লোকজনদের সঙ্গে মেলামেশা করেনি। যার ফলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি তিনি বছর খানিক আগে মারা গেছেন ও ঢাকা বুদ্দিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। সাফিউর রমহান সর্বগুনে গুনান্নিত একজন মানুষ হওয়ায় তাঁর ছেলে এরকম জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ওই কথা শুনে পুরো এলাকাবাসী হতবাক হচ্ছেন। সোমবার বিকেলে থানা পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করে গেছে বলে তারা জানান।

দয়ামীর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, সাফির বাবা সাফিউর রহমান সাহেবকে একজন ভাল মানুষ হিসেবে এলাকাবাসী প্রবীন ব্যাক্তিরা জানেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করায় এলাকার কেউই সাফিউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে তাঁর ছেলে-মেয়েরা কে কি রকম বা কি করে এব্যাপারে আমরা এলাকাবাসি কিছুই জানিনা। সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে সাফিউর রহমানের ছেলের জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার খবর জানতে পেরে আমরা সবাই হতবাক হচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল আউওয়াল চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সোমবার একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, জঙ্গি হামলা চালানোর হুমকিদাতা তিন জনের একজনের বাড়ি এ উপজেলায় জানতে পেরে আমি উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সাফির পৈতিক বাড়িতে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারন নেই বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: