সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তারাপুর চা বাগান : দেবোত্তর সম্পত্তির প্রকৃত সেবায়েত কে?

ragggiibbbসিলেটের বহুল আলোচিত তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলদার রাগীব আলীর কাছ থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরুর পর একটি প্রশ্নই বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে-কে প্রকৃত সেবায়েত। আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন সেবায়েত দাবিদার পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ওরফে ডা. শঙ্করের কাছে আংশিক সম্পত্তি সমঝে দেওয়ার পর সেই প্রশ্নটি প্রবলভাবে দেখা দেয়। তার কারণ আদালত প্রকৃত সেবায়েতের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা বলেছেন। কিন্তু হিন্দু আইন ও আদালতের নির্দেশনা মতে ডা. পংকজ কুমার গুপ্ত ওরফে শঙ্কর সেবায়েত হতে থাকতে পারেন না। কারণ তিনি সেবায়েত হওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখেননি। তিনি ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করেননি কোনোদিন। কোনো সেবা করা হয়ে উঠেনি তার। পূজা অর্চনার ধারকাছেও নেই তিনি। এ অবস্থায় প্রকৃত সেবায়েত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সনাতন ধর্মান্বলীর নেতারা। এমনকি ইতোমধ্যে প্রকৃত সেবায়েত ছাড়া তারাপুর চা বাগানের শ্রীরাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ যুগলটিলা ইসখন মন্দির থেকে কারো কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে জানিয়েছেন ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নগরীর যুগলটিলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেটে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এমন দাবি জানান। দাবির পর প্রশাসনও বিগ্রহ স্থানান্তর প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ায়।

শিল্পপতি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৯ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৬ মাসের মধ্যে চা বাগানটি দখলমুক্ত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে তারাপুর চা বাগানে গড়ে তোলা আবাসিক প্রকল্প, এ সম্পত্তির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, এ বাগানকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াসহ ১৭টি নির্দেশনা দেয়া হয়। রায়ে বাগানের সব অবকাঠামো ৬ মাসের মধ্যে সরিয়ে সেখানে চা বাগান করার নির্দেশনাও দেয়া হয়। রায়ের ১৭ নির্দেশনার ৬ নং নির্দেশনা ‘ই’-তে বলা হয়, ‘হিন্দু আইন অনুযায়ী সেবায়েত অফিস পরিচালিত হয়, কোনো স্ব ধর্ম বা নীতি পরিত্যাগকারী উত্তরাধীকার হওয়া অযোগ্য এবং অফিসও তিনি পরিচালনার অধিকার রাখেন না’।
আদালতের নির্দেশে গতমাসে স্থানীয় প্রশাসন বাগানের সম্পত্তি সেবায়েত দাবিদার পঙ্কজ গুপ্তর কাছে হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির অংশ বিশেষ সমঝে দেওয়া হয়। যদিও পঙ্কজ সেবায়েত হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

একই সময়ে যুগলটিলা থেকে বাগানের বিগ্রহ স্থানান্তর প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। যে বিগ্রগহ ১৯৮৯ সালে বাগান থেকে যুগলটিলা মন্দিরে স্থানান্তরের পর ভক্তরা পূজা করে আসছেন। ওই দীর্ঘ সময় কোনো পূজা অর্চনা করেননি পঙ্কজ গুপ্ত। তিনি শুধু রাগীব আলীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এ অবস্থায় তাকে সেবায়েত মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসjন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইস্কন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীসহ সনাতন ধর্মের নেতারা। তারা বলেছেন, আদালতের নির্দেশ মতে যে প্রকৃত সেবায়েত তার কাছে বিগ্রহ হস্তান্তর করা যাবে। রাগীব আলীর কাছে দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রিকারী সেবায়েত হতে পারে না। সেবায়েত হতে হলে সেবা করতে হয়। তারা প্রশ্ন তুলেন, পঙ্কজ কুমার গুপ্ত কোন্ সেবা করেছেন, কাকে সেবা করেছেন?

  • সিদ্ধ মাধব দাস
     ইসকন, সিলেট
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: