সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান: বন্ধু থেকে বিশ্বাসঘাতক ফেতুল্লা গুলেন

147466_1নিউজ ডেস্ক: তুরস্কে এর আগেও বেশ কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। একাধিকবার সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরমধ্যে ১৯৬০, ১৯৭১, ১৯৮০ এবং ১৯৯৭ সালের অভ্যুত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানটি নানা কারণে নজিরবিহীন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এরকম একটা কিছু যে হতে পারে – তা কেউই ভাবেননি। কিন্তু কারা ছিল এর পেছনে?

তুর্কি সাংবাদিক এজগি বাসারান বিবিসির জন্য লেখা তার এক বিশ্লেষণে বলেছেন, ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পেছনে কারা ছিল তা নিয়ে বেশ কয়েকটি তত্ব বা ‘থিওরি’ বিভিন্ন মহলে ঘুরছে। এরমধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন- তুরস্কের সামরিক বাহিনীর মধ্যে এরদোগানপন্থী ছাড়াও দুটি গোষ্ঠী আছে। একদল হচ্ছেন যারা কামাল আতাতুর্কপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবসম্পন্ন। আরেকটি গোষ্ঠী হচ্ছে একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা – বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারী। এই গুলেন একসময় এরদোগানের মিত্র ছিলেন, তবে পরে তাদের মধ্যে শত্রুতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বলা হয়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় স্তরের গভীরে সর্বত্র গুলেনের সমর্থকরা বসে আছে – কিন্তু তাদের চিহ্নিত করা খুবই কঠিন।
এই তত্বের বিশ্লেষকদের মতে, কামাল আতাতুর্কপন্থী অফিসাররা গুলেনপন্থীদের কৌশলে নিজেদের দলে টেনে নিয়ে এই অভ্যুত্থানটি ঘটানোর চেষ্টা করে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান এর আগে তার ভাষায় একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সমান্তরাল রাষ্ট্রের হাত থেকে’ দেশকে মুক্ত করার কথা বলেছেন, এবং বিভিন্ন সময় এদের ‘খুঁজে বের করা ও গ্রেপ্তারের’ অভিযান চালিয়েছেন।

আরেকটি তত্ব এসেছে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে। তাদের বক্তব্য: এরদোগানের একে পার্টি সরকার গুলেন-সমর্থক সামরিক কর্মকর্তাদের চক্রান্তের বিষয়ে কিছুটা আগেই টের পেয়েছিল। যে কারণে ১৬ জুলাই তারিখেই গুলেন-সমর্থক কিছু সামরিক কর্মকর্তার শাস্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। যা টের পেয়ে অভ্যুত্থানকারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্রোহ ঘটিয়ে ফেলে। এটাই ছিল গুলেন সমর্থকদের ক্ষমতা দখলের একটা শেষ চেষ্টা।

একেপির সরকার অবশ্য বলছে, একজন সামরিক কৌঁসুলি এ অভ্যুত্থানের পেছনে ছিলেন, তার সাথে ছিলেন আরো ৪৬ জন অফিসার। এদের নাম শনিবার গভীর রাতে প্রকাশ করা হয়েছে।

তুরস্কের স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে সব বিশ্লেষণ এসেছে সবখানেই ফেতুল্লা গুলেনের নামটি এসেছে। আগে-পরের পরিস্থিতির আলোকে তুরস্কের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীরও বদ্যমূল ধারণা- এ কাজটি গুলেনপন্থীদের দ্বারাই ঘটেছে।

এছাড়া তুরস্কে শুক্রবার রাতের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে সরাসরি দায়ী করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। যদিও গুলেন ও তার সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তিনি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নিন্দাও করেছেন। স্বীকার-অস্বীকার যা-ই করুন, অভ্যুত্থানের ঘটনার পর ফেতুল্লা গুলেন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বজুড়ে তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ঔৎসুক্য।

কে এই গুলেন?
ফেতুল্লা গুলেন ১৯৪১ সালের ২৭ এপ্রিল তুরস্কের এরজুরুম নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি কুরআন শিক্ষা শুরু করেন। এরপর তিনি ১৯৪৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে তার বাবা অন্য একটা শহরে বদলি হওয়ায় তিনিও সেখানে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি কুরআনে হাফিজ হন ১৯৫১ সালে। এরপর বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন ও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটান।

এর পর তিনি ইমাম হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। আবেগঘন ওয়াজ নাসিহতের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে সে সময়ে বদিউযযামান সাইদ নুরসির আন্দোলন থেকে ইস্তফা দেন কিন্তু তিনি তার জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখার জন্য সাইদ নুরসির লেখা তাফসির ‘রিসালায়ই নুর’কে অবলম্বন করে তার ওয়াজ নসিহত চালিয়ে যেতে থাকেন। ফেতুল্লা গুলেন সেই সময়ের রাজনৈতিক ব্যাপারে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ও সেনা অভ্যুত্থান এর বিরুদ্ধে তার অভিমত ব্যক্ত করেন। এই সকল কারণে তিনি জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

ফেতুল্লাহ গুলেনের হাত ধরে তুরস্কে ১৯৬০ সালের দিকে শুরু হওয়া আন্দোলন হিজমেত যা স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন নামে পরিচিত। শিক্ষা, গণমাধ্যম, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ইত্যাদি নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রম তারা পরিচালনা করে। এই আন্দোলনের আওতায় সেক্যুলার কারিকুলাম অনুসারে তুরস্কে তিন শতাধিক এবং বিশ্বের ১৮০টি দেশে সহস্রাধিক স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। যদিও গত বছর রাশিয়ান সরকার ফেতুল্লা গুলেনের সকল কর্মকান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের রাশিয়া থেকে বিতাড়িত করেন।

তুরস্কের প্রভাবশালী কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও তিনি মালিক। এছাড়া তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়া প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মিডিয়া গ্রুপও রয়েছে। ’৯০-এর দশকে গুলেনের ‘আন্তঃধর্মীয় সংলাপ’ এই আন্দোলনকে বেশ জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৯৮ সালে ফেতুল্লা গুলেনের আয়োজনে দেশের সেক্যুলার ও ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যা দেশে-বিদেশে সবার নজর কাড়ে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তার ওয়াজ নসিহত ইসলামের আলোকে হওয়াই তিনি জনগণের ভালোবাসা ও সহানুভূতি অর্জন করেন।

তুরস্কে নাজিমুদ্দিন এরবাকানের নেতৃত্বে রেফাহ পার্টির জনপ্রিয়তা ও পরবর্তীতে ক্ষমতা গ্রহণ তুরস্কের মুসলিমদের মনে এক আশার আলো জ্বলে ওঠে। এরবাকান সেই সময়ে প্রায় সকল ইসলামপন্থীদের সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে সমর্থন লাভ করলেও ফেতুল্লাহ গুলেন থেকে তিনি কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা পাননি।

এরবাকান ক্ষমতায় আরোহণ করার পর পরই ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কাজ করা শুরু করেন। যেটা আমেরিকা-ইসরাইলসহ অন্যান্য ইয়াহুদিবাদী শক্তি ভালো ভাবে নেয়নি। এবং এরবাকান কে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তারা ওঠে পড়ে লাগে, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে পদচ্যুত করে। এর পেছনে ফেতুল্লা গুলেনেরও হাত ছিল।

১৯৯৭ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি এক টেলিভিশন প্রোগ্রামে বলেছিলেন, ‘এরবাকান তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার যোগ্য ছিলেন না। তিনি জনগণের আমানতকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি।’ তার এই মন্তব্যে মুসলিমরা খুবই মর্মাহত হন। একদিকে বাম ও জাতীয়তাবাদীরা অপরদিকে ফেতুল্লা গুলেনের কথা বার্তা ও তাদের বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি রেফাহ পার্টির জন্য মোকাবেলা করতে খুবই হিমশিম খেতে হয়। নাজিমুদ্দিন এরবাকানের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা বন্ধ করার ব্যাপারে তার প্রকাশ্য সম্মতি ছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হিজাব পরার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সর্বত্র এর বিপক্ষে নতুন করে আন্দোলন গড়ে ওঠে। গুলেন সে সময় এসব মুসলমানদের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং তার সংগঠনের অধীনস্থ মেয়েদেরকে হিজাব খুলে ক্লাস করার জন্য বলেন।

ফেতুল্লাহ গুলেন রেফাহ পার্টি যাতে ক্ষমতায় না থাকতে পারে সে জন্য ইয়াহুদিদের সাথে হাত মিলান এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক বাম আন্দোলনের নেতা বুলেন্ত এযেভিতকে সমর্থন করেন। সেই সময়ে টিভি-পত্রপত্রিকাতে এরবাকানকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আখিরাতে তিনি বুলেন্ত এযেভিত কে শাফায়াত করবেন বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তিনি আমেরিকাতে পাড়ি জমান।

২০০০ সালে রেফাহ পার্টিকে নিষিদ্ধ করে দেয়ার পর ফাযিলেত পার্টি খুলা হয়। আর সেখানে যুবক নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ গুল; রিজেপ তায়্যিপ এরদগান; বুলেন্ত আরিঞ্ছদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ২০০১ সালে এদের নেতৃত্বে একে পার্টি গঠন করার সময় কৌশলগত কারণে এরদুগান ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার সংগঠন গুলেন আন্দোলন যা তুরস্কে ‘হিযমেত’ এর পরোক্ষ সমর্থন পান। এরদোগানও তার প্রথম ৯ বছরের শাসনামলে তাদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন। সেই ১৯৯৪ সালে এরদোগান ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হবার পর থেকে গুলেন বন্ধুত্বের আড়ালে প্রচুর সুবিধা নেন। যে কারণে সংগঠনটি তুরস্করে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

এই সুযোগে সরকারি সকল জায়গাতেই তারা স্থান দখল করে সরকার এর ভেতর সরকার গঠন করে। এর ফলে এক সময়ে তুরস্কে সমাজসেবার অন্তরালে এই গুলেন ক্রমেই রাজনৈতিক উচ্ছ্বাবিলাসী হয়ে উঠেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গড়ে তোলা চিন্তা করেন। এর প্রমাণ হিসেবে সরকার সমর্থকরা ১৯৯৯ সালের একটি ভিডিওর উদাহরণ টানেন। যেখানে গুলেন তার সমর্থকদের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আর এসব নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ফেতুল্লাহ গুলেন এর সাথে এরদোগানের একে পার্টির সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে পরবর্তীতে ২০১৩ সালে একেপি ও গুলেন এর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সবশেষ গেজে পার্কের আন্দোলনের সময় এরদুগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রশাসনে তার লোকজন এবং বামদের ঐক্যবদ্ধ করেন ফেতুল্লা গুলেন। কিন্তু এরদুগান অনেকটা সফলতার সাথে সে সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় গুলেনপন্থীরা।গুলেনের এ ধরনের উচ্চাভিলাসকে ‘বন্ধু থেকে বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন এরদোগানপন্থীরা।

এছাড়াও তার অনেক চিন্তা-চেতনা তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক বিতর্কিত। যেমনটি নবলা যায়-লেখক ও সাংবাদিক সংগঠন এর দ্বারা প্রকাশিত কুরেসেল বারিশা দরু (খুজাদান কেলেবেগে-৩) নামক বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ‘ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে নাজিলকৃত আয়াতসমূহ; অথবা হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর সময়ে কিংবা তাদের নিজেদের নবীদের সময়ে বসবাস রত ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে সেই আয়াতগুলো এখন আর প্রযোজ্য নয়।’

এছাড়া সারা দুনিয়ার প্রায় ১৮০টি দেশে স্কুল রয়েছে সেই সকল স্কুল থেকে প্রতিবছর ১৫-১৬ বসরের যুবতী মেয়েদেরকে নিয়ে তার্কিশ অলিম্পিয়াডের নামে নাচগানের অনুষ্ঠান করে থাকে । সে সম্পর্কে তিনি বলছেন, সেখানে নাকি রাসূলুল্লাহ (সা) স্বয়ং উপস্থিত থাকেন (নাউজুবিল্লাহ)। আর সেই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা নাকি ওহুদের ময়দানে জিহাদ করার সমতুল্য।

গুলেন আন্দোলন এদের সর্বনিম্নস্থল হলো বিভিন্ন মেস, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট স্কুল, হোস্টেল ও তাদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। তাদের এই সকল মেসে ও বাসার ছাত্রদেরকে তাদের মন মানসিকতার আলোকে গড়ে তুলা হয়। তাদের বাসা ও মেসে থাকা অধিকাংশ ছাত্র নিজেদের পরিচয়কে গোপন করে চলে। তারা এতটায় গোপনীয় যে একই বিল্ডিংয়ে ২টা অ্যাপার্টমেন্টে এ থাকলেও তারা একজন আরেকজন সম্পর্কে বেখবর। তাদের তৈরি করা এই সকল যুবক শ্রেণী তাদের বড়দের পরিকল্পনা মত কেউ সেনাবাহিনীতে কেউবা আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ তাদের হর্তাকর্তাদের মন মত তারা নিজেদেরকে গঠন করে থাকে।

তাদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় সরকারি বাজেটের কাছাকাছি বলেই ধারণা করা হয়। তাদের প্রচারিত পত্রিকার গ্রাহকসংখা প্রায় ১ মিলিয়ন ও তাদের টিভি মিডিয়া হল সামানইয়ল টিভি পাশাপাশি তাদের ৩৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর পাশাপাশি দুনিয়ার প্রায় ১৮০টি দেশে এদের স্কুল রয়েছে। এগুলোতে ইসলামী শিক্ষা দেয়ার কথা বলা হলেও মূলত পাশ্চাত্য ধাঁচেই শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে।

সিআইএ এবং এফবিআইয়ের সাথে গুলেনের গভীর সম্পর্কের কথা সেই ৯০ দশক থেকে ওপেন সিক্রেট। ২০০৫ সালে এফবিআই নিজেদের ওয়েবসাইটে তাদের সহযোগী সংস্থাদের নাম প্রকাশ করেন যাতে চার নাম্বারে ছিল ‘দি গুলেন ইনস্টিটিউট’ তথা গুলেন মুভমেন্ট।

প্রশাসনের সর্বস্তরে গুলেনপন্থীদের লোকবল থাকায় এরদোগান ক্ষমতায় আসার পর ফেতুল্লাহ গুলেন যেন অদৃশ্য প্রধানমন্ত্রী বনে যান। তিনি আমেরিকার পেনসিলভানিয়াতে বসে যাকে যে পোস্টে দিতে বলেন তাকে সে পোস্টে দেয়া হয় এক পর্যায়ে দেখা যায় পুলিশ-সেনাবাহিনী থেকে শুরু অফিস-আদালত পর্যন্ত সব জায়গায় গুলেন মুভমেন্টের লোকের ব্যাপক এবং ভয়ঙ্কর উপস্থিতি। গুলেন মুভমেন্টের লোক হলেই পদ দেয়া হয়েছে। যা জেনেশুনে পায়ে কুড়াল মারারই শামিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার ফলাফল হিসেবে পরবর্তীতে সেক্যলারপর্ন্থীদের হাত মিলিয়ে এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।

এদিকে এরদোগান তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ক্রমান্বয়ে মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির কাজটা করে যাচ্ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গুলেনপন্থীদের কোচিং সেন্টারসহ কিছু বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে তদস্থলে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। এরকম একটা সিদ্ধান্ত গুলেন মুভমেন্ট সহজভাবে নিতে পারেনি। তারা এর পর থেকে এরদোগানের বিরুদ্ধে আরো বেশি উঠে পড়ে লাগে।

এর মধ্যে এরদোগানের বিরুদ্ধে ফেতুল্লাহ গুলেনের করা একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচিত হয়। এছাড়া ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে এরদোগানসহ মন্ত্রিপরিষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। যেটা চলে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত। কিছু মন্ত্রীর রদবদলের মাধ্যমে কোনো রকম কাটিয়ে ওঠেন এ বিপদ থেকে। ঐ দিকে গুলেন মিডিয়াতে এরদোগানের বিরুদ্ধে চলে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা।

এর কয়েক মাস আগে ইসরাইলি হামলায় সাত ফিলিস্তিনি শহীদ হলে গুলেনের মুখপাত্র সামানিয়ল টিভি বলে, ‘ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনের সাত সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।’আল কুদসের রক্ষার সংগ্রামে অবিরাম যুদ্ধরত ফিলিস্তিনি মোজাহিদদেরকে সন্ত্রাসী বলতে দ্বিধা করেনি এ তথাকথিত ইসলামিস্ট জামাত গুলেন মুভমেন্টের মিডিয়া।

১৭ ডিসেম্বরের ঘটনার পর থেকে এরদোগান বলে আসছেন, আমি তোমাদেরকে (গুলেন মুভমেন্ট) বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমার এত বড় ক্ষতি করলে।’

২০১১ সালে তুরস্কের একটা এনজিও আইএইচএস মাভি মারমারা নামের জাহাজে করে ফিলিস্তিনের দুর্গত অঞ্চলে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল, ভুমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় ইসরাইল সেখানে বিমান হামলা চালায়, ফলে ৯ জন নিহত হয়। সমগ্র দুনিয়ায় বিষয়টি আলোড়ন তৈরি করে এবং সবাই ইসরাইলকে আইনের মুখোমুখি করানোর দাবি জানায়। কিন্তু ফেতুল্লা গুলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি বলেন, মাভি মারমারার উচিত ছিল ইসরাইলের অনুমতি নেয়া। এ ছাড়াও মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা চালানোর সময় তিনি বৌদ্ধদের পক্ষ অবলম্বন করে বলেন, ‘বৌদ্ধ একটা হক ধর্ম।’

এভাবেই বিভিন্ন সময়ে ফেতুল্লা গুলেন মুসলমানদের স্বার্থের চেয়ে অন্যদের বড় করে দেখেন। মূলত তার পেছনে ইহুদি এবং পশ্চিমাদের কোটি কোটি মিলিয়ন ডলার খরচের মাধ্যমে এভাবেই তাকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী এই ব্যক্তিকে পশ্চিমারা তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করার মিথ্যা প্রয়াস চালান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: