সর্বশেষ আপডেট : ২৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্কুল ড্রেস না পরায় ছাত্রের প্যান্ট কেটে ফেললেন শিক্ষিকা!

13689455_10210266430241417_1883447889_nস্টাফ রিপোর্টার::
শ্রীমঙ্গলে এক ছাত্রের প্যান্ট কেটে দিলো এক শিক্ষিকা। সেই সাথে একই স্কুলের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি পিটা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব লাহারপুর গ্রামের ভূজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা যায়, শিক্ষিকার রোষানলের শিকার ঐ ছাত্রের নাম মুহিবুর রহমান হৃদয় (১০) । সে ভূজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেনীর ছাত্র। শিক্ষক কতৃক নির্ধারিত ইউনিফর্ম না বানানোর কারনে ইউনিফর্ম ছাড়া বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ায় ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সীমা ভট্টাচার্য ক্ষোভের মোহে শরীরচর্চার লাইনে থেকে ডেকে নিয়ে তার পরিহিত প্যান্ট ক্যাচি দিয়ে কেটে দেয় এবং লাঠি পেটা করে বলে জানায় ২য় শ্রেণীর ছাত্র মুহিবুর রহমান হৃদয়।

নির্যাতনের শিকার ২য় শ্রেণীর ছাত্র মুহিবুরের মা ফিরোজা বেগম ডেইলি সিলেটকে জানান, আজ রোববার ১১ টার দিকে আমার ছেলে মুহিবুর কাঁদতে কাঁদতে স্কুলে থেকে বাসায় ফিরে আমাকে জানায় যে সে স্কুল ড্রেস পরে যায়নি দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সীমা ভট্টাচার্য নাকি তার পরনের পুরনো প্যান্টটি ক্যাচি দিয়ে কেটে দেন।

তিনি আরো জানান, ছেলে মুহিবুরের মুখ থেকে এসব কথা শুনে ও তার পরিহিত প্যান্ট কাটা দেখে আমি তাকে নিয়ে সাথে সাথে স্কুলে গিয়ে স্কুলের ঐ ম্যাডামের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৬ মাস ধরে নতুন কাপড় বানানোর কথা বলে আসছি। কথা না শুনার কারনে এরকম করেছি। এর বিচার চাইলে ম্যাডাম স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে গিয়ে বিচার দিতে বলেন।

এ ব্যাপারে ভ’জপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সীমা ভট্টাচার্য্যরে সাথে কথা বললে তিনি ডেইলি সিলেটকে জানান, আসলে আগামী ২০-২২ তারিখের মধ্যে আমাদের ক্রস ভিজিট হবে। সেই কারনে আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্কুল ড্রেসের জন্য চাপ দিয়ে আসছি। প্রত্যেকের মত মুহিবুরকেও ৬ মাস ধরে ড্রেসের জন্য বলে যাচ্ছি। তবে আমি তার প্যান্ট কাটিনি। আমি বলেছিলাম নতুন প্যান্ট না বানালে পুরনো প্যান্টটা কেটে দেবো। আমার এই কথা শুনতে পেয়ে আমাদের স্কুলের এক শিক্ষার্থীরা তার হাতে থাকা ক্যাচি দিয়ে মুহিবুরের প্যান্টের নিচের অংশ কেটে দেয়। আমাদের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং থাকায় তখন আমি মিটিংয়ে ছিলাম। যখন মুহিবুরের মা এই ঘটনার বিচার চাইতে আসে তখন মিটিংয়ে থাকা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরজু মিয়া সমস্যার সমাধান দিয়ে ছেলেটির পরিবারের দারিদ্রতার কথা বিবেচনা করে ছেলেটির প্যান্ট সভাপতি নিজে কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে এ ব্যাপারে ভূজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরজু মিয়া ডেইলি সিলেটকে বলেন, আজ আমাদের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছিল। মিটিং চলাকালীন সময়ে বাইরে এক মহিলার চিৎকার চেচামেচি শুনে আমি আমাদের স্কুলের ম্যাডামকে বলি এর কারণ জানতে। মহিলাটি কোন মতেও চুপ না হওয়ায় আমি মিটিং থেকে এসে তাকে তার সমস্যা জানতে চাইলে সে স্পষ্ট করে কিছুই বলতে পারেনি। পরে আমি বাসায় যাওয়ার পর অন্যের মারফত জানতে পারি যে মহিলাটি হাবেল মিয়ার স্ত্রী। পরে ছেলেটির ঘটনাটি শুনতে পেয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে কথা বলি এবং এ বিষয় নিয়ে আগামীকাল ( সোমবার) প্রধান শিক্ষিকা সহ স্কুলে বসার স্বিদ্ধান্ত হলেও সোমবার আষাঢ়ী পূর্ণিমার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সোমবারের বদলে মঙ্গলবার স্কুলে প্রাঙ্গনে এ বিষয় নিয়ে বসবেন বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: