সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিপন্ন হতে চলেছে মৌলভীবাজারের জীববৈচিত্র্য!

45524gfgfনিজস্ব প্রতিবেদক ::
মানুষের অত্যাচারে বনে ঠাঁই নেই বন্যপ্রাণিদের। তাই ওরা লোকালয়ে জীবন বাঁচাতে এসে জীবন দিচ্ছে লোকজনের হাতে। মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ার এমন অঘটন ঘটছে প্রায়ই। নানা জাত ও বর্ণের না দেখা এমন বন্যপ্রাণিগুলো মানুষের হাতে ধরা পড়লে কৌতূহলী লোকজন তার সেবা করতে গিয়ে ওল্টো তাদেরই হাতে প্রাণ যাচ্ছে এ সকল নিরীহ প্রাণির। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর পাহাড় আর হাওরবেষ্টিত মৌলভীবাজারের চিরচেনা জীববৈচিত্র্য নানা কারণে এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে। নিরাপদ আবাসস্থল আর খাদ্য সংকট এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেলার পাহাড়ি বনাঞ্চলগুলো নানা অজুহাতে লিজ নিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে বন্যপ্রাণিদের নিরাপদ আবাসস্থল। এছাড়া ভরাট, নাব্যতা হ্রাস ও দখল হওয়া ছাড়াও নানা কারণে স্থানীয় হাওর ও নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে থাকায় এ সকল হাওর ও নদীর জলজ প্রাণিগুলো রয়েছে হুমকিতে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পাহাড়ি বনের বড় বড় ফলদ ও বনজ বৃক্ষ কেটে উজাড় করা ছাড়াও টি প্লানটেশনের নামে ধ্বংস করা হচ্ছে বন্য পরিবেশ। ফলদ ও বনজ বৃক্ষ নিধন হওয়া ছাড়াও পাহাড়ি বনগুলোর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট ছোট ঝিল, খাল ও নালাগুলোর নাব্যতা হ্রাস কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে ভরাট করার কারণে বন্যপ্রাণিরা মারাত্মক খাদ্য ও পানি সংকটে ভোগছে। নানা কারণে স্থানীয় হাওর ও নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে থাকায় এ সকল হাওর ও নদীর জলজ প্রাণিগুলো রয়েছে হুমকিতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার ছোট-বড় পাহাড়গুলো ছিলো বন্যপ্রাণির নিরাপদ আবাসস্থল। এ বনাঞ্চলে অবাধে ঘুরে বেড়াতো মায়া হরিণ, শির হাঁস, গণ্ডার, ময়ূর, মেছোবাঘ, বনমোরগসহ নানা জাত ও বর্ণের বন্যপ্রাণি। বিভিন্ন পাহাড়ি টিলায় দেখা যেতো লজ্জাবতী বানর, হনুমান, বানর, ধনেশ পাখি। কুলাউড়ার ষাঁড়েরগজ পাহাড়ে ও পাশের উপজেলার বনাঞ্চলে দেখা যেতো কাঠবিড়ালী, চিল, শকুন, হাতি, ভাল্লুক ও উল্লুকহ নানা প্রজাতির দেশীয় প্রাণি। বনবিভাগ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের পাহাড়ি বনাঞ্চলগুলো এক সময় বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য ছিলো। একযুগ আগেও রাঘনার বনে অসংখ্য ভাল্লুক ছিলো। সন্ধ্যার পর শ্রীমঙ্গলের অনেক অরণ্যে মেছোবাঘ, চিতাবাঘ ও হাতির ভয়ে মানুষেরা চলাফেরা করতে ভয় পেতো। কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার বিশাল বনভূমিতে হাতি, উল্লুক, ভাল্লুক, হরিণ, শিয়াল আর শতাধিক প্রজাতির পাখির দৌড়ঝাঁপ ছিলো হরদম। নানা কারণে এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে এসব প্রাণিসহ স্তন্যপায়ী, পাখি, মাছ, সাপ ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণি। যেগুলো এখনও টিকে আছে তারাও বাসস্থান ও খাবারের অনিশ্চয়তায় রয়েছে চরম হুমকির মুখে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র জাতীয় পরিষদ সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ.স.ম. ছালেহ সুহেল ও মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মহসিন পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন জানান, অবাধে পাহাড় কাটা, বন-জঙ্গল ও ঝোঁপ-ঝাড় কেটে ফেলা, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, হাওর, জলাশয় আর পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণেই এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে এসব জীববৈচিত্র্য। গাছপালা কেটে ফেলায় পাখির খাবারের জায়গা কমে যাচ্ছে। হাওর তীরবর্তী এলাকার ধানী জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পোকামাকড় এসব খেয়ে মারা যাচ্ছে পাখি, মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ নানা জলজ ও উদ্ভিদ প্রাণি। যে কয়েকটি প্রাণি এখনও অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে, অনেক সময় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসায় গ্রামবাসীর হামলায় তারাও প্রাণ হারাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৌলভীবাজারের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাওরে পানি নেই-পাহাড়ে জঙ্গল নেই, তাহলে প্রাণি থাকবে কি করে। তিনি আরও বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় যায় তাদেরই লোভ থাকে পাহাড়ের গাছ আর হাওরের মাছের দিকে। প্রাণির নিরাপদ আবাসস্থল আর খাদ্য নিরাপত্তা দিতে না পারলে ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যের ঐতিহ্য টিকবে কিভাবে। বনবিভাগের বিভাগীয় অফিস সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কুলাউড়ায় দু’টি নতুন বিট অফিস করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

যাতে ওখান থেকে হাকালুকি হাওর ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র্যের প্রতি আরও ভালোভাবে দেখাশুনা করা যায়। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি) মিহির কুমার দে জানান, হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সবকিছু টিকটাক থাকলে এ পরিকল্পনায় টি প্লানটেশন নামে এই প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চলমান বছরের শেষের দিকে। এ কাজগুলো বাস্তবায়ন হলে আশা করি মৌলভীবাজারের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।এছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবসময় সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ রয়েছে। তিনি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে আরও সচেতনভাবে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: