সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সৌদি আরবকে বাঁচিয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবেদন

Untitledhhhআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের হাত থাকার বিষয়ে ২৮ পৃষ্ঠার গোপন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেস।

ওই হামলার বিষয়ে প্রণীত মোট ৮৩৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে ২৮টি পৃষ্ঠা গত কয়েক বছর ধরে গোপন রাখা হয়েছিল যেখানে এ ঘটনার পরিকল্পনা ও অর্থ সহায়তায় সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিবরণ রয়েছে।

যদিও জনমতের প্রবল চাপের মুখে মার্কিন কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের জড়িত থাকা সংক্রান্ত ২৮ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যেমনটি প্রত্যাশা করা হয়েছিল সে অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় সৌদি সরকারের ভূমিকার বিষয়ে সেখানে জোরালো কিছু উল্লেখ নেই। এর ফলে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগণ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। সবাই আশা করেছিল, সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিষয়ে সঠিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর রিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

এদিকে, রিপাবলিকান দলের সিনেটর অ্যাডাম শিফ দাবি করেছেন, যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় সৌদি সরকারের হাত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় না। যদিও কংগ্রেসের প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, যে ১৯ ব্যক্তি বিমান ছিনতাই করেছিল তাদের মধ্যে ১৫ জনই ছিল সৌদি নাগরিক। তিনি আরো বলেছেন, সৌদি কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেসে ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেয়া রিয়াদের জন্য এখন সহজ হবে। মার্কিন এ সিনেটর আরো জানিয়েছেন, সৌদি আরব আগেই হুমকি দিয়েছিল, ১৪ বছর ধরে গোপন রাখা এ প্রতিবেদন যদি মার্কিন সরকার ফাঁস করে দেয় তাহলে আমেরিকায় গচ্ছিত তেল বিক্রি বাবদ ৭০ হাজার কোটি ডলার প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

আমেরিকার কোনো কোনো সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সৌদি সরকারের সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি সরকার যদিও ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে কিন্তু বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে সৌদি আরবই ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন জনগণ চায় ওয়াশিংটন-রিয়াদ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন এবং সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হোক। এর আগে গত মে মাসে মার্কিন সিনেট একটি প্রস্তাব পাশ করে যাতে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সৌদি আরবের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে। কিন্তু এতে সৌদি সরকার তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয় রিয়াদ। এর আগে সৌদি সরকার হুমকি দিয়েছিল যদি এ ধরণের প্রস্তাব পাশ করা হয় তাহলে আমেরিকা থেকে সব পুঁজি প্রত্যাহার করে নেবে। যদি এ হুমকি বাস্তবায়িত হত তাহলে মার্কিন অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন কর্মকর্তারা এমনভাবে ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের কিছু অংশ বাদ দিয়ে কিংবা পরিবর্তন করে প্রকাশ করেছেন যাতে জনমতকে খুশি করা যায় অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা যায়। সূত্র: রেতে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: