সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে প্রেমকাহিনী সত্যিকারের ভালোবাসতে শেখাবে

26নিউজ ডেস্ক : লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েটদের প্রেমকাহিনী থেকে অনেকেই অনুপ্রেরণা পান। কিন্তু তাদের প্রেমকাহিনীকেও হার মানায় কিছু কিছু ঘটনা। আধুনিকতার বিশ্বে যখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই দায়, সেখানে ওইসব ঘটনা মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়। আবেগী করে তোলে একটা সময়ের জন্য। তবে তাদের প্রেমকাহিনী গল্প-উপন্যাসে স্থান না পাওয়ায় মানুষ কিছুদিন পর ভুলেও যায়। এতে আক্ষেপও নেই সেই প্রেমিক যুগলদের। কারণ তারা তো একে অপরকে ভালোবেসেছেন। পাশে থেকেছেন। কথা রেখেছেন। অবশেষে জীবনও দিয়েছেন। এরচেয়ে পাওয়ার আর কী হতে পারে? চট্টগ্রামের বিপুল-লিমার এমনই একটি ঘটনা কিছুদিনের জন্য হলেও মানুষকে আবেগী করে রাখবে। ভালোবাসতে শেখাবে। একে অপরের পাশে থাকতে শেখাবে।

কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন গাইবান্ধার বাসিন্দা বিপুল মিয়া আর পটুয়াখালীর লিমা আক্তার। তারা দুজনেই থাকতেন শমসের পাড়ার বাদশা কলোনির ভাড়া বাসায়। একে অপরকে ভালোলাগা, ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে ফেলেন। অবশেষে দু’জন দু’জনকে বেঁধে ফেলেন বিয়ের বন্ধনে।

২১ বছরের পোশাকশ্রমিক বিপুল মিয়ার সঙ্গে তিন মাস আগে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন পোশাকশ্রমিক লিমা আক্তার (১৯)। বিয়ের সময়ই হয়তো শপথ করেছিলেন জীবনে যেমন একসঙ্গে থাকবেন তেমনি মরণেও! শপথ রেখেছেন তারা। আর সে জন্যই স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই নিজের ওড়না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী লিমা।

শুক্রবার রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার চান্দগাঁও ওয়ার্ডের শমসের পাড়ায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ খবর পেয়ে রাতে ওই এলাকার বাদশা মিয়ার কলোনি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে স্ত্রীর এমন ভালোবাসা দেখে!

চান্দগাঁও থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর জানান, তিন মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেন লিমা-বিপুল। তারা বাদশা কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশের কলোনিতে থাকতেন দুজনের পরিবারও। স্বামী বিপুল গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েন উভয়ে।

শুক্রবার সন্ধ্যার সময় বিপুল মিয়ার অসুখ গুরুতর হলে তার মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে স্বামীর যাবতীয় সেবা-যত্ন করেন স্ত্রী লিমা। এরই মাঝে সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় স্বামীর মৃত্যু হলে সেটি ‘সহ্য করতে না পেরে’ ঘরের চালার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন লিমা।

এরপর পাশের কলোনি থেকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য বিপুলের মা তাদের ডাকতে এলে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খুললে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটে স্বামী বিপুল মিয়ার নিথর দেহ ও চালার সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় স্ত্রী লিমাকে দেখতে পান।

পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে মরদেহ দু’টির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান ওসি শাহজাহান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: