সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৫০ বছরে চারবার অভ্যুত্থানের কবলে তুরস্ক

147358_1আন্তজাতিক ডেস্ক: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের মধ্যে দিয়ে তুরস্কে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু। কিন্তু সেই পথচলা বারবার হোঁচট খেয়েছে।

গত ৫০ বছরে দেশটিতে কমপক্ষে চারটি সফল সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ব্যর্থ সেনা অভুত্থানের চেষ্টা তো রয়েছেই। এর মধ্যে তিন বার অভ্যুত্থানে সরাসরি ক্ষমতা দখল করে তুরস্কের সেনাবাহিনী, আর ১৯৯৭ সালে ‘প্রস্তাবনা’ দিয়ে ক্ষমতার রদবদল ঘটায়।

প্রথম অভ্যুত্থান ১৯৬০ সালে
ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের চরম উত্তেজনার মধ্যে ১৯৬০ সালে তুরস্কে প্রথম সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরস ও প্রেসিডেন্ট সেলাল বায়ার আতাতুর্ক যুগের বেশ কিছু নিয়মনীতি বদলে ধর্মীয় নিয়মনীতির প্রচলন করেন।

সরকারের দমন-পীড়নমূলক আইন ও সমালোচনাধর্মী পত্রিকা বন্ধের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন শুরু করে বিরোধীরা। এ অবস্থায় ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতাসীন সরকার। এরপরই তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দৃশ্যপটে আসে সেনাবাহিনী।

ওই বছরের ২৭ মে অভ্যুত্থান ঘটায় তারা। তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সেমাল গুরসেল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সেনা-নিয়ন্ত্রিত নতুন রাজনীতির সূচনা করেন, অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনদেরসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। প্রথম এ অভ্যুত্থানের ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৯৬৫ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় অভ্যুত্থান ১৯৭১ সালে

পুরো ৬০-র দশকে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে তুরস্কে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় শ্রমিক সংগঠনগুলো বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি সংঘটিত করে।

পাশাপাশি ডানপন্থি দলগুলোও নানা ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। কমছিল মুদ্রার মান, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছিল বছর বছর ৮০ শতাংশ হারে। এ অবস্থায় এক দশকের মধ্যেই দ্বিতীয় অভ্যুত্থান হয় তুরস্কে।

‘শৃঙ্খলা ফেরাতে’ ১৯৭১ এর মার্চে দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সুলিমান ডেমিরেলকে দেশ পরিচালনায় কামাল আতাতুর্কের দর্শন মেনে নতুন একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য সরকার গড়তে ‘স্মারকলিপি’ দেন। কয়েক ঘণ্টা পর মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ডেমিরেল।

রক্তপাতহীন ওই অভ্যুত্থানে পর ‘সরাসরি’ ক্ষমতায় বসেনি সামরিক বাহিনী। তারা প্রথমে ডানপন্থি রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা নিহাত এরিমকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান নিযুক্ত করে।

দুই বছর পর দেশটির সংসদ অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা ফাহরি কোরুতার্ক-কে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।

তৃতীয় অভ্যুত্থান ১৯৮০ সালে

দ্বিতীয় দফা অভ্যুত্থানের পরের আট বছরে ১১জন প্রধানমন্ত্রী বদল করে তুরস্কের পার্লামেন্ট। অর্থনীতির ক্রমঅধোগতি আর বাম-ডান দলগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষে তুরস্কের রাস্তাগুলো তখন পরিণত হয়েছিল রক্তের সমুদ্রে।

১৯৭৯ সালের শেষ দিক থেকে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের গুঞ্জন ওঠে। পরের বছর মার্চে কয়েকজন জেনারেল অভ্যুত্থানের প্রক্রিয়া শুরু করে। বেশ কয়েকবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে তাদের চেষ্টা সফল হয়।

১৯৮২ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়নে গণভোটের ডাক দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাতে সাড়া দেয়, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যায়।

চতুর্থ অভ্যুত্থান হয় ১৯৯৭ সালে

তুরস্কের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ‘হস্তক্ষেপের’ সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৯৭ সালে।

ইসলামপন্থি ওয়েলফেয়ার পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার রাষ্ট্রে ‘মৌলবাদী নীতি’ প্রয়োগের চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ এনে সেনাবাহিনী সরকারকে কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। ইসলামপন্থি সরকার সেগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়।

পরে সেনাবাহিনীর চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেকমেতিন এরবাকান। পরের বছর তুরস্কে ওয়েলফেয়ার পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, এরবাকানকে দেয়া হয় পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা।

সরাসরি অভ্যুত্থান না করেও সরকার বদলের এ ঘটনাকে বিশ্লেষকরা ‘উত্তরাধুনিক ক্যু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নিষিদ্ধঘোষিত ওই ওয়েলফেয়ার পার্টির অনেক সদস্য পরে জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এ কে) পার্টিতে যোগ দেন, যাদের মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানও একজন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: