সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিবরাসের খালাতো ভাই সেজে আবিরও ছিলেন ঝিনাইদহে

13নিউজ ডেস্ক: গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাসের সঙ্গে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নিহত আবির রহমানও মাস খানেক ঝিনাইদহের সোনালীপাড়ার ওই জঙ্গি আস্তানার বাড়িতে ছিলেন।

সোনালীপাড়ার বাসিন্দারা আবিরের ছবি দেখে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাঈদ নাম ধারণ করে ওই জঙ্গি আস্তানায় মাস খানেক ছিলেন গুলশান হামলায় চিহ্নিত পাঁচ জঙ্গির একজন নিবরাস। আর নিবরাসের খালাতো ভাই পরিচয়ে ছিলেন আবির রহমান।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আবির (২২) চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তবে তার নিখোঁজ থাকার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় ঈদের আগেরদিন ৬ জুলাই। এর পরদিন ফেসবুক ও গণমাধ্যমে ছবি দেখে স্বজনেরা জানতে পারেন, শোলাকিয়ায় নিহত হয়েছেন আবির।

ঝিনাইদহ শহরে সোনালীপাড়ার ওই জঙ্গি আস্তানার লাগোয়া মসজিদের মাঠে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় অংশ নিতেন সাঈদ নামধারী নিবরাস। ওই মাঠে খেলতেন এমন কয়েকজন স্থানীয় তরুণকে গতকাল আবিরের ছবি দেখালে তারা তাকে শনাক্ত করেন ‘সাঈদ ভাইয়ের খালাতো ভাই’ হিসেবে। জঙ্গিদের ভাড়া করা ওই বাড়িতে রান্নার কাজ করতেন যে নারী, তিনিও আবিরের ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বাড়ির মালিকের স্ত্রী, গৃহকর্মী ও ফুটবল খেলার সাথিরা ছবি দেখে নিবরাসকে শনাক্ত করেন। গতকাল শুক্রবার আবার সেখানে আবিরের ছবি দেখানো হয়। স্থানীয় দুজন তরুণ বলেন, এই ছবি সাঈদ ওরফে নিবরাসের খালাতো ভাইয়ের। তিনি সবার সঙ্গে মিশতেন না, ফুটবলও খেলতেন না। মাঠের পাশে বসে সময় কাটাতেন। মাঝেমধ্যে মাঠের পাশে ছোট জায়গায় বাচ্চাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন।

ওই দুই স্থানীয় তরুণ বলেন, ‘ওই ভাইয়ের নাম কী জিজ্ঞাসা করলে সে জবাব দেওয়ার আগেই সাঈদ ভাই বলতেন, এটা আমার খালাতো ভাই।’ তারা বলেন, আবিরের চলাফেরা কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ ছিল। কেমন যেন হেলেদুলে হাঁটতেন।

আবিরদের মেসে তিন বেলা রান্না করে দিয়ে আসতেন স্থানীয় এক নারী। তিনি গতকাল বলেন, ‘সাঈদ ভাই (নিবরাস) আর ছবির এই ভাই (আবির) একই রুমে থাকতেন। তারা বেশির ভাগ সময় ঘরেই কাটাতেন।’ তিনি বলেন, সাঈদ ওরফে নিবরাস মাঝে মাঝে মোটরসাইকেলে চেপে বাইরে যেতেন, তবে আবিরকে বাইরে যেতে তিনি দেখেননি। আবির কবে মেস ছেড়ে গেছেন, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

সোনালীপাড়ার ওই বাড়ির মালিক সাবেক সেনাসদস্য কওছার আলী। কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেসহ তাকে এবং পাশের মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান ও সহকারী ইমাম সাব্বির হোসেনকে ৬ জুলাই ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এদের আটক করার কথা স্বীকার করেনি কোনো বাহিনী। স্থানীয় পুলিশ বলছে, তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

গত শুক্রবার বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহার বলেছিলেন, মাস চারেক আগে পাশের মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রথমে দুজন ও পরে আরও ছয়জন ওই বাড়িতে ভাড়ায় ওঠেন। তাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানিয়েছিলেন ইমাম রোকনুজ্জামান, যিনি নিজেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

এর মধ্যে দুজনের পরিচয় মিললেও বাকি ছয়জন কারা ছিলেন, সেটা এখনো জানা যায়নি। বিলকিস নাহার শুক্রবার বলেছিলেন, ওই বাড়িতে যে আটজন থাকতেন, তাদের মধ্যে ছয়জন রোজার শুরুতে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে চলে যান। বাকি দুজন গেছেন ২৮ জুন (গুলশান হামলার দুদিন আগে)।

আবিরের ব্যাপারে জানতে গতকাল আবার ওই বাড়িতে গেলে বিলকিস নাহার ঘরের দরজা খোলেননি। ঘরের জানালাও বন্ধ ছিল। ঘরের ভেতর থেকে একজন নারী বলেন, তাদের ওপর নানাভাবে চাপ এসেছে। তারা আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। কারা চাপ দিচ্ছে, সেটা বলতে চাননি তারা।

গুলশান হামলায় নিহত ও চিহ্নিত পাঁচ জঙ্গির মতো শোলাকিয়ায় হামলায় নিহত আবির এবং আহত হয়ে ধরা পড়া শফিউর চার থেকে ছয় মাস আগে বাড়ি ছাড়েন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এরপর থেকে তারা নিরুদ্দেশ ছিলেন, বাড়ির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না। সূত্র: প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: