সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিবরাসের ৭ সহযোগী এখন কোথায়?

2নিউজ ডেস্ক : গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় জড়িত নিবরাস ইসলামের সাত সহযোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুলশানে হামলার কিছু দিন আগে নিবরাস মেস থেকে চলে আসার পর তাদের কারোরই আর খোঁজ মিলছে না।

পুলিশের ধারণা, তাদের প্রত্যেকেই জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত। এই সাতজন ঝিনাইদহের মেসে নিবরাসের সঙ্গেই থাকত। চলাফেরা করত এক সঙ্গেই।

ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার সোনালীপাড়া মেসে ভাড়া থাকত নিবরাসসহ আটজন। সাবেক সেনাসদস্য কওছার আলী মেসটির মালিক। গুলশান হামলার পর ৬ জুলাই কওছার ও তার দুই ছেলেসহ স্থানীয় অন্তত পাঁচজনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে পুলিশ বা র‌্যাব তাদের আটকের কথা স্বীকার করেনি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের সাম্প্রতিক চার হত্যায় নিবরাস ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। নিবরাস সব সময় একটি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করত। তার মোটরসাইকেলে আরোহী হিসেবে থাকত আরও দু’জন। পুরোহিত আনন্দ গোপাল ও সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস হত্যাকাণ্ডেও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা। এ কারণে এ দুই হত্যায় নিবরাস ও তার সহযোগীরা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। খ্রিস্টান হোমিও চিকিৎসক সমির খাজা ও আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পায়নি পুলিশ। তবে এসব ঘটনায়ও একই চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাদের সবার পরিচয় জানা না গেলেও একজন বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তার নাম মোস্তাফিজ বলে জানায়। তারা নিজেদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেও পরিচয় দেয়।

নিবরাসদের মেসে রান্নার কাজ করা এক নারী সাংবাদিকদের বলেন, মেসে আটজন থাকলেও তাকে চারজনের জন্য রান্না করতে হতো। বাকি চারজন বাইরে খেত। ভাত ছাড়া আলুভর্তা, ডাল আর ডিম রান্না করতেন তিনি। মেসের মালিক কওছার আলীর ভাই তাহের আলী জানান, তার পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দু’জন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। অন্য তিন ভাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক।

এদিকে, ঝিনাইদহের সাম্প্রতিক চার হত্যার ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বলে খবর প্রকাশিত হয়। পুলিশ সে দাবি অস্বীকার করে জড়িতদের শনাক্তের কথা জানায়। তবে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে জনসম্মুখে না আনা ও আদালতে কেউ স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ঝিনাইদহ শহরে আরও কোনো জঙ্গি আস্তানা রয়েছে কি-না সেটাও খুঁজে দেখার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জঙ্গিদের ঝিনাইদহে অবস্থান ও গুলশান হামলার পর কয়েকজনকে গ্রেফতারের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার শেখ বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানে না। কে বা কারা তাদের আটক করেছে, আদৌ আটক করেছে কি-না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

মেসের মালিক সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস নাহার গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অবশ্য এর আগের দিন তিনি তার স্বামী-সন্তান ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম রোকনুজ্জামানসহ পাঁচজনকে আটকের কথা জানিয়েছিলেন।

এর আগে দুই হিন্দু পুরোহিত হত্যার পর ঝিনাইদহ জেলার ৪০০ পুলিশ একসঙ্গে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায়। এ অভিযানে জেএমবি সদস্য ও জামায়াত-শিবিরসহ প্রায় সাড়ে পাঁচশ’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হন। এ অভিযানের পরও সোনালীপাড়ার জঙ্গি আস্তানা অক্ষত ছিল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: