সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গুলশান-শোলাকিয়ায় চাপা পড়েছে মিতু হত্যা

mi-696x408ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
রাজধানীর গুলশানে গত ১ জুলাই হোটেল হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় এবং ঈদেরদিন (৭ জুলাই) কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার ঘটনায় চাপা পড়েছে চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে সন্তানের সামনে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত।

চলতি মাসের মাসের প্রথমদিন রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ জঙ্গীসহ দেশী-বিদেশী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যসহ মোট ২৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনদিন শোকও পালন করা হয়। দেশে প্রথমবারের মতো ঘটে যাওয়া এই সন্ত্রাসী ঘটনায় পুরো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গি দমনে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামে। গুলশান ট্রাজেডির শোক ভুলতে না ভুলতেই শোলাকিয়ায় ঈদের দিন এক জঙ্গী, এক গ্রামবাসী মহিলা এবং দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। দেশজুড়ে ফের জঙ্গী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসবের মধ্যেই চাপা পড়ে যায় মিতু হত্যার তদন্ত।

অবশ্য মিতু হত্যার পরেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এটাকে জঙ্গীরাই করেছে বলে উগ্রবাদিদের অভিযানে নামে। সাঁড়াশী অভিযানের পরও গুলশান-শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। তদন্ত সংস্থা গুলো হত্যায় সরাসরি একাধিক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ত্রাাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত বারবার দাবী করে আসলেও মূলহোতা বা নির্দেশদাতার নাম বলছেন না। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলে আসছেন সকল হত্যাকারী গ্রেফতারের পর তদন্ত সম্পন্ন হলেই বলা যাবে মূলহোতা বা নির্দেশদাতা সর্ম্পকে।

ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার হয়েছে এছাড়াও গত ৫ জুলাই রাশেদ ও নবী নামের দুজন ডিবি পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এবিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, ৫ জুলাই ডিবির একটি দল এই দুজনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও অন্য আসামীদের ধরতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের ঠাণ্ডাছড়ি নামে একটি এলাকায় গেলে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয় এবং এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই অভিযুক্ত নিহত হয়।

অবশ্য অনেকের আশঙ্কা ছিলো মিতু হত্যার আসামীরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবে। বিশেষ করে মূলহোতা মনে করা হচ্ছে যাকে সেই মুসাকে তদন্ত ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হতে পারে। মানবধিকার কর্মীদের মতে ঠান্ডা মাথায় এসব হত্যায় মিতু হত্যা তদন্ত বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

এদিকে গত ৩০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এবিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে বাবুল আক্তারকে নিয়ে গুরুর্ত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেয়ে, বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিতু হত্যার ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বাবুল আক্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করার হবেনা কিনা সেবিষয়েও আলোচনা করা হয়। বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া জন্য পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে রাখা নিয়েও আলোচনা হয়।

সভায় মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারকে বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। তদন্তের মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তার আগে তদন্তে আরো গুরুত্ব দিয়ে বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার আরো প্রমাণ একাট্ট্রা করার কথা বলা হয়।

সূত্র জানায়, তদন্তে মিতু হত্যার সঙ্গে জড়িত যাদের যাদের নাম এসেছে আগে গ্রেফতার পক্ষে। এরধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। বাকীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে। সবাইকে গ্রেফতারের পর তথ্য যাচাই-বাছাই করেই তবে বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিশ্লেষন করা হবে। এরপরই প্রয়োজন অনুসারে তাকে গ্রেফতারের করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, বাবুল আক্তার ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলেন। যে কারণে তাকে নির্দেশদাতা হিসেবে তদন্তে যদি বেরিয়ে আসে তবে তাকে শেষভাগে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাবুল আক্তারকে বাহিনী থেকে অব্যাহতি নয়, প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বলে জানা গেছে, এসপি বাবুল আক্তার যদি মিতু হত্যার সঙ্গে জড়িত থেকে থাকেন তবে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা হবে এই ধারণাটি ভুল। বরং এতে ভাবমূর্তি আরো খারাপ হবে। অপরাধীর যেইহোক তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হলে স্বচ্ছতা চলে আসবে সবখানে।

একই ধরণের কথা বাবুল আক্তারের স্বশুর পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন এবং শ্যালিকও গণমাধ্যমকে বলে আসছেন। তারা বলছেন মিতুর হত্যাকারীদের বিচার চাই। তবে এতে যেনো নিদোর্ষ কেউ ফেঁসে না যায়। সুষ্টু তদন্ত করেই প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে তারা আরো একটি কথা বারবার বলে আসছেন বাবুল আক্তারই মিতু হত্যায় জড়িত এটি তাদের বিশ্বাস হয়না।

মিতু হত্যা মামলা তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ইতিধ্যে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একাধিক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৫ জুন গ্রেফতার হওয়া আসামি ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার ইতিমধ্যে (গত ২৬ জুন) আদালতে দোষ স্বীকার জবাববন্দি দিয়েছে।

এছাড়া ৩০ জুন গভীর রাতে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মুসার ভাই সাইদুল শিকদার সাবু ও শাহজাহানকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, মিতু হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মুসার ভাই ছিলেন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওই মোটরসাইকেলটির সরবারাহকারী। অন্যদিকে শাহজাহান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

এরপর ২৮ জুন অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তাদের কাছ থেকে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তবে মূলহোতা মুসাকে ধরতে বিমানবন্দর ও দেশের সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলোতে ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হলেও এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে উঠে আসা কালুকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

৫ জুন মিতু হত্যার পরপরই পুলিশ, গোয়েন্দা এবং সরকারী দলের নেতারা বলে আসছেন জঙ্গীরাই তাকে হত্যা করেছে। এনিয়ে পুলিশ সারাদেশে এক সপ্তাহব্যাপী সাঁড়াশী অভিযান চালায়। যাতে প্রায় ১৩ হাজার জন গ্রেফতার হয়। এরমধ্যে ১৯৪ জন জঙ্গী ছিলো। যারা দেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে তার শ্বশুর বাড়ি খিলগাঁও মেরাদিয়া ১২০ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবুল আক্তারের শ্বশুর পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন এবং খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল হোসেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) দেখা করতে বলেছেন বলে বাবুলকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশ্য এরআগে একই দিন বিকালে বেইলি রোডে পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে বিসিএস ২৪ তম ব্যাচের ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহন করতে বের হওয়ার সময় এসপি বাবুল আক্তার বাসায় পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন আইজি স্যারের সঙ্গে দেখা করেই ফিরবো।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকাল ৭টার দিকে নগরীর জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি করে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ছেলেকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি বাবুল আক্তারের পদোন্নতির পর ঢাকায় অবস্থান করলেও তার স্ত্রী ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নগরীর জিইসি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: