সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনু ও মিতু হত্যা মামলা থমকে আছে

b-1নিউজ ডেস্ক : একটি নতুন ইস্যু। আরো একটি ঘটনা। এর পর চাপা পড়ে দেশের সব চেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গুলশান হামলার প্রেক্ষিতে আবারো হারিয়ে গেল চাঞ্চল্যকর মিতু ও তনু হত্যাকান্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়। গণমাধ্যমগুলোর নজর এখন ঐ দুই হত্যাকান্ড থেকে অনেক দূরে। সবাই ব্যস্ত গুলশান হামলা ও জঙ্গিবাদ ইস্যুতে। তাই আবারো আড়াল হলো মিতু ও তনু হত্যাকান্ড
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু ও চট্টগ্রামে এসপি বাবুলে স্ত্রী মিতু হত্যাকান্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জঙ্গিবিরোধী সফল অভিযানের নেতৃত্বদানকারী বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুনের যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে কিছুই পায়নি পুলিশ। একজন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এই ঘটনায় তার কিছুই জানা নেই। মিতু হত্যা মামলায় রবিন ও গুন্নু নামে আরও দুই জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ৩৯ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ছুটিতে, নাকি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাব চাওয়া হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। এদিকে আলোচিত তনু হত্যা মামলাও থমকে আছে। হত্যার দুধরনের রিপোর্টের ফলে মামলার গতিও অনেকটা থমকে আছে।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন,‘তনু থাকলে ঈদটা অন্য রকম হতো। বড় ছেলে মনে হয় বাড়িতে আইব না। ডরে আইতে চায় না। এবার আমরার ঈদ অইব না।’ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়।
আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত রোজায়ও মেয়েটা ছিল। সন্ধ্যার আগেই ইফতারি বানাইত। আমার হাইপ্রেশার (উচ্চ রক্তচাপ), তাই কোনো কাজ করতে দিত না। কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে আবাসিক কোয়ার্টারেই সব সময় রোজার ঈদ করছি। কিন্তু এবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করব।’ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে এবার হতভাগ্য পরিবারটি ঈদ করেন।
তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ১৯ বছরে তারে (তনু) ছাড়া এই প্রথম ঈদ করতাছি। গ্রামের বাড়িতে এসে আসরের নামাজের পর তনুর কবর জিয়ারত করছি। দোয়া ছাড়া আমাদের এখন করার কিছু নেই। আল্লাহ সব দেখছেন, তিনি নিশ্চয়ই মেয়ে হত্যার বিচার করবেন।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার সঙ্গে সন্দেহভাজন কত লোক ধরা হয়। অথচ তনু হত্যার সঙ্গে জড়িত একটা লোকও ধরা পড়ে না। সিআইডি বলছে, ঈদের পর নামবে। আমি চাই বাবুল আক্তারের স্ত্রী ও তনুসহ সব হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করুক পুলিশ।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তনু হত্যা মামলার তদন্তসহায়ক দলের একজন বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধ রয়েছে। ঢাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। ঈদের ছুটির পর মামলার গতি আরও বাড়বে। ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিআইডি এ মামলার কিনারা করতে চায়।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘তনুর পরিবার একেক সময়ে একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। মিডিয়ার সামনে কথা বলছে। আমরা তদন্ত করছি। আসামি শনাক্ত হয়নি, আমরা কিসের ওপর অভিযোগপত্র দেব? আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।’
কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের কালভার্টের কাছের ঝোপ থেকে ২০ মার্চ উদ্ধার করা হয় তনুর লাশ। এ ঘটনায় ২১ মার্চ তাঁর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এদিকে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ৩৯ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি কি ছুটিতে, নাকি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাব চাওয়া হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। বাবুল নিজেও চুপ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বুধবার বলেন, স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) খুন হওয়ার পর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত এই কর্মকর্তা আর কর্মস্থলে আসছেন না। তিনি ছুটির আবেদনও করেননি; বরং তাঁর পদত্যাগপত্র পড়ে আছে। এটি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সদর দপ্তর।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার জানান, ‘বাবুল আক্তার পুলিশ সদর দপ্তরের লোক। তিনি ছুটিতে আছেন, নাকি চাকরিতে আছেন, সেটা আমি জানি না।’
বাবুলের কর্মস্থলে অনুপস্থিতের বিষয়ে তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। হত্যাকা-ের পর বাবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। সেই মামলায় ২৪ জুন গভীর রাতে খিলগাঁও নওয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁকে। স্ত্রী খুন হওয়ার পর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তিন কর্মকর্তা বাবুলকে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখনই তাঁর পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়। তবে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা না-করা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবুলকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, হয় তাঁকে বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে, নইলে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি হতে হবে। বাবুল আক্তার বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এসব ক্ষেত্রে মাঝামাঝি কোনো পন্থা থাকতে পারে না। হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে। বাবুল যদি এতে জড়িত হন, তাহলে আর দশজন অপরাধীর যা হয়, তাঁরও তা হবে। আর তা না হলে তিনি সসম্মানে পুলিশ বাহিনীতে থাকবেন। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
তদন্তের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, মাহমুদা খানম হত্যা মামলার তদন্তে বলার মতো অগ্রগতি নেই। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসামি মনিরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অস্ত্র সরবরাহকারী ভোলাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেপ্তার বাকি আসামিদের রিমান্ড শুনানি হবে ১৭ জুলাই। খুনের নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করা গেছে কি না, এর জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘পরিষ্কার না হয়ে বলতে পারব না।’
আসামিদের মধ্যে নবী ও রাশেদ ৫ জুলাই ভোরে রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মুছাকে ২২ জুন বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে দাবি করে আসছেন তাঁর স্ত্রী পান্না আক্তার। পুলিশ তা অস্বীকার করে বলছে, মুছাকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। পলাতক রয়েছেন আসামি কালু। গ্রেপ্তার হয়েছেন ওয়াসিম, আনোয়ার, শাহজাহান, মুছার ভাই সাইদুল শিকদার ওরফে সাকু, অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা ও ভোলার সহযোগী মনির।
চট্টগ্রাম পুলিশের সূত্র জানায়, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. মনিরকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: