সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘জুতা ভাইসা উঠছে, মাইয়াডা ভাসে নাই’

6নিউজ ডেস্ক :: ‘মানিক আমার বাঁইচে নাই। ভাঁজা মাছ-ভাত খাইয়ে ডুইব্বা গ্যাছে। মায়ে আমার চালু আছিল। চালু মাইয়া সব সময় হাসি-খুশি থাকতো। সানজিদা বাঁইচে নাই। জুতা ভাইসা উঠছে, মাইয়াডা ভাসে নাই।’

রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণ ঝিলের সঙ্গে সংযুক্ত নালায় ডুবে যাওয়া ৬ বছরের শিশু সানজিদার শোকে এমন বিলাপ করছিলেন মা রুবি আক্তার।

বুধবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতে মহাখালী দক্ষিণ ঝিলপাড়ে শাহ আলম ও রুবি আক্তার দম্পতির ছোট এক রুমের বাসায় গিয়ে তাদের এ আর্তনাদ শোনা যায়।

এরআগে দুপুর দেড়টার দিকে সমবয়সী এক শিশুর সঙ্গে খেলতে গিয়ে ঝিলের ওই ময়লা-আবর্জনাযুক্ত নালায় ডুবে যায় সানজিদা। খবর পেয়ে এসে বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টানা ৯ ঘণ্টা চেষ্টা করেও সানজিদার সন্ধান পায়নি। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

ঝিলপাড়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বুকের ধন সানজিদাকে হারিয়ে শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন বাবা শাহ আলম ও মা রুবি আক্তার। মেয়ের জন্য কান্নায় চোখের পাতা ফুলে উঠেছে তাদের।

সানজিদার জন্য গত ঈদে কেনা পোশাক ও তোলা ছবি নেড়ে-চেড়ে দেখছেন আর বিলাপ করছিলেন রুবি আক্তার।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে প্রতিবেশী শিশু তামিমের সঙ্গে খেলতে যায় সানজিদা। হঠাৎ করে সে ঝিলের ময়লাযুক্ত নালায় তলিয়ে যায়। পরে তামিমই দৌঁড়ে এসে সানজিদার বাসায় খবর দেয়। খবর পেয়ে এলাকার নারী-পুরুষ অনেকেই নালায় ঝাঁপিয়ে পড়ে সানজিদাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানান, ময়লা জমে থাকা এ নালাটি ১০/১২ ফুট গভীর। নালাটির নিচে পাকা। তবে পাকা স্থানের ওপরে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত ময়লার স্তূপ রয়েছে।

শাহ আলম ও রুবি আক্তারের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট। প্রায় ৩০ বছর আগে ঢাকায় এসেছেন শাহ আলম। রুবেল, রাসেল ও শান্তা ও সানজিদা চার সন্তানের মধ্যে সানজিদা সবার ছোট। ভ্যান চালক শাহ আলমের কঠোর পরিশ্রম করে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের চাহিদা পূরণ করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি।

তিনি জানান, মাত্র আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় ছয় জন একই রুমে বসবাস করে আসছেন। তারপরও সানজিদাকে ঈদে দেড় হাজার টাকা খরচা করে এক জোড়া জামা কিনে দিয়েছেন। এই জামা এখন শুধুই স্মৃতি।

শাহ আলম বলেন, ‘মাইয়াডা বাইচা নাই! লাশটাতো পামু। মাইয়া আমার চঞ্চল ও জিদ আছিল। যদি কই আমার লগে যাইব যাইয়া সারছে।’

মহাখালী বাস টার্মিনালের পেছনে থাকা ওই নালাটি নিকুঞ্জ হয়ে সরাসরি হাতিরঝিলে গিয়ে পড়েছে বলেও জানায় এলাকাবাসী।

বুধবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) আব্দুল হালিম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: