সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বপ্না অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত

Mirzapur-eill-picture-1নিউজ ডেস্ক:
আল্লাহ রে, আল্লাহ, আল্লাহ কেন আমারে মরণ দেয়না, আমারে একফুটা বিষ আইনা দ্যান, আমি আর বাঁচতে চাই না। সুন্দর মুখ পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যন্ত্রণায় কথা বলতে না পারলেও কুকিয়ে কুকিয়ে এভাবেই সব সময় নিজের মৃত্যু কামনা করছেন স্বপ্না বেগম (৩০)।

বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগরপাড়া) স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে ছোট্ট একটি ছাপরা ঘরের চকির উপর শুয়ে কুকিয়ে কুকিয়ে কান্না করছেন তিনি। ঘরে ঢুকতেই পচা দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।

স্বপ্নার স্বামী হাসান মিয়া বলেন, মুখের মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সে কারণে এখন আর কেউ তার কাছেও আসতে চায়না।

হাসান মিয়া জানান, ১৩ বছর আগে একই পাড়ার মেয়ে স্বপ্নাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে স্বপন (৯) তপন (৭) ও আরজিনা (৫) নামে তিনটি সন্তান রয়েছে। অভাবের সংসারে একদিন রিকসা চালিয়ে, অন্যদিন ম্যাচে গ্যাস ভরার কাজ করে ভালই কাটছিল তাদের সংসার। কিন্ত গত দেড় বছর আগে হঠাৎ স্ত্রী স্বপ্নার মুখের একপাশে গলার নিচে একটা গোটা দেখা দেয়। ব্যাথার কারণে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা করা হলেও কোন উন্নতি হয়নি। পরে এক লোকের পরামর্শে টাঙ্গাইলের বটতলার একটি হোমিও প্যাথিক ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খেলে এক রাতের মধ্যে গোটার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং মুখে পচন ধরে।

আর্থিক অবস্থা ভাল না হলেও তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের এক শতক বাড়ি বন্ধক রেখে এবং পাড়া প্রতিবেশেীদের সাহায্য নিয়ে প্রথমে ঢাকা পিজি হাসপাতাল পরে মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করান। দীর্ঘ দেড় বছরের চিকিৎসায় প্রায় ৫/৬ লাখ টাকা খরচ হলেও অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়েছে।

অজ্ঞাত এই রোগে বর্তমানে স্বপ্নার মুখের এক পাশের মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হয়েছে। যন্ত্রণায় কথা বলতে না পারলেও কুকিয়ে কুকিয়ে সব সময় নিজের মৃত্যু কামনা করছেন।তিনি বলেন এই নরক যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভাল।

স্বপ্নার স্বামী হাসান মিয়া বলেন, ইতিমধ্যে চিকিৎসা করে সর্বশান্ত হয়ে গেছি। ডাক্তার বলেছেন ভারতের মাদ্রাস নিয়ে চিকিৎসা করলে ভাল হতে পারে। তাতে আরও ৫/৬ লাখ টাকা লাগবে।

স্বপ্নার ছোট বোন রত্না বলেন, মুখ ও গাড়ের মাংস পচে চুয়ে চুয়ে রস বের হচ্ছে গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। টাকার অভাবে এখন চিকিৎসাও বন্ধ।

ওই এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী মো. মাসুদ রানা বলেন, গরিব মানুষ, চিকিৎসা করে ইতিমধ্যে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। আমরাও যতদূর সম্ভব সাহায্য করেছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। তিনি সমাজের বৃত্তবানদের এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সাহায্য পাঠানো ঠিকানা : মাসুদ পারভেজ, ১৪৪.১০১.৭৪০১৭ ডাচ-বাংলা ব্যাংক, মির্জাপুর শাখা, টাঙ্গাইল। মোবাইল-০১৭৩২৩২০৯৫৩

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: