সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নেই সর্বদলীয় কমিটি

images-16নিউজ ডেস্ক : গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পর পর দুটি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও তল্লাশী জোরদার করা হয়েছে। এরপরও প্রতিনিদই হুমকি দেয়া হচ্ছে সেবায়েত ও পুরোহিদদের। দেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। সরকার হুমকিতে নড়েচড়ে বসলেও জঙ্গি মূলৎপাটনে দরকার সমন্বিত  উদ্যোগ। আর এ উদ্যেগের কথা বার বার বলে আসছে বিএনপি জোট। সরকার জঙ্গি হামলাকে জাতীয় সমস্যা বললেও সমাধানে এখন পর্যন্ত উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এছাড়া জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দেবে সংস্থাটি। এ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুর উন্নয়ন না হলে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের ওপর রোববার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে এক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

দেশের উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছে, জনগণের সম্মিলিত ঐক্য ছাড়া কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তা নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গুলশানের ক্যাফেতে অস্ত্রধারীদের হামলায় নিহতদের স্মরণে পূর্ব ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত শোকসভায় দলের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দল মত নির্বিশেষে উগ্রবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আবারও আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে আমরা বারবার বলে আসছি জঙ্গির বিষয়ে হালকা করে দেখবেন না। এটা শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের আজকে যে উদ্ভব হয়েছে, তার সম্পর্ক রয়েছে। উনারা এটাকে উড়িয়ে দিলেন, উড়িয়ে শুধু দেননি, এরসঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনীতিকে জড়িত করলেন। এর উদ্দেশ্য একটাই আসল সত্যটাকে ধামাচাপা দেওয়া। আসল সত্য যেসব ঘটনা ঘটছে, তা আড়াল করে বিএনপিকে দোষারোপ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে হাসিল করা হচ্ছে।

তবে জঙ্গিবাদ দমন আন্দোলনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইলে বিআরটিএর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

সেতুমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ সমস্যা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয় এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। এই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে পারস্পরিক তথ্য ও টেকনিক্যাল সহযোগিতা আদান-প্রদান হতেই পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। কী কী বিষয় আদান প্রদান হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসময় তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দেশের সকলকে জঙ্গি দমনে সামাজিক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জঙ্গি সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ যেটা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, আসুন সবকিছু ভুলে গিয়ে একত্রিত হই, এক হই, এই ভয়ঙ্কর দানবকে প্রতিহত করি। কিন্তু সেটা কখনই সম্ভব হবে না, যদি না গণতন্ত্রকে আপনি চলতে দেন, যদি না জানালা-দরজাগুলো খুলে দেন, যদি না আমাদের কথা বলার সুযোগটা সৃষ্টি না করেন। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই ভয়ঙ্কর দানব (জঙ্গিবাদ), এই শত্রুকে পরাজিত করা যাবে না। এই শত্রুকে পরাজিত করতে হলে দলমত নির্বিশেষে, ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেভাবে এই দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সেই লড়াইয়ে হাতিয়ার হচ্ছে জনগণ, হাতিয়ার হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায় সেটা পারা যাবে না।

এদিকে রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার পর পরিবর্তন এসেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ও চিঠি পাঠিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগেই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও সব বিমানবন্দরে বেড়েছে নজরদারি ও সতর্কতা। নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসাকেন্দ্র বা বাসাবাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কোথাও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা, তল্লাশিও করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলা হচ্ছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর ও গণগ্রন্থাগারের মতো যেসব স্থানে বেশি লোক সমাগম হয়, সেসব স্থানে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৭টি দপ্তর ও সংস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বা উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করতে সংস্থাগুলোকে মানা করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেসরকারি বা নিজস্ব উদ্যোগেও নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিপণিবিতান, মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনের লোকজন জানান, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনার পর সতর্ক হয়ে উঠেছেন তারা। মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের অনেক দোকান মালিক নিজে থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। ‘নাসির ফেব্রিক্স’ নামে একটি কাপড়ের দোকানে নতুন করে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যাংকের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার নিটল-নিলয় টাওয়ারে একটি শীর্ষ মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাইকে পরিচয়পত্র দৃশ্যমান করে রাখতে হচ্ছে।’

গুলশানে ক্যাফেতে হামলার পর রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে হামলার হুমকি দেয় জঙ্গিরা। এর পর ওই শপিংমলসহ সব বিপণিবিতানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি সতর্কতা। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কারওয়ান বাজার এলাকার কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে কড়াকড়ি। কিছু হাসপাতালেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়িতেও নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন নাগরিকরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সবাইকে পুলিশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: