সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লাউয়াছড়ার ৮০০ একরেরও বেশি বনভূমি বেদখল!

lawachora news daily sylhetনিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৮০০ একরেরও বেশি বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। দখল হওয়া এসব ভূমিতে গড়ে উঠেছে জনবসতি। আবাদ করা হচ্ছে লেবু, আনারস, রবিশস্য। প্রতি বছর দখলদারিত্বের পরিসর বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা দখলের বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা জানেন না, উদ্যানের কী পরিমাণ বনভূমি বেদখল হয়েছে। তাদের মতে প্রায় ৮৬ একর ভূমি বেদখল আছে।প্রতিবেশ ও প্রাণিবৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে লাউয়াছড়ার বনভূমি দখল হতে থাকলে উদ্যানের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে সংরক্ষিত এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সালে বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ নামে বনবিভাগ আরও একটি শাখা চালু করে লাউয়াছড়ার ওই শাখার মৌলভীবাজার রেঞ্জের আওতায় দেওয়া হয়। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।২০০৪ সালে থেকে প্রথমে নির্সগ সহায়তা প্রকল্প এবং বর্তমানে সমন্বিত রক্ষিত এলাকা সহ-ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (আইপ্যাক) এই উদ্যানের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ শাখাকে সহায়তা করেছে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ইউএসএআইডি।

লাউয়াছড়ার খাসি ও ত্রিপুরা আদিবাসীরা জানিয়েছে, বাগমারা ছাড়াও লাউয়াছড়া উদ্যানের লংগুরপাড়, রাসটিলা, ছাতকছড়া এলাকায় অন্তত ৩০০ একর বনভূমি বেদখল হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বনভূমি উদ্ধারে বনবিভাগের কোনো ধরণের তৎপরতা নেই। সঠিকভাবে সীমানা চিহিৃত না করায় কি পরিমাণ ভূমি বেদখল আছে তার হিসাবও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

লাউয়াছড়ার বনভূমি দখল করে গড়ে উঠা বাগমারা, রাসটিলা, ছাতকছড়া ও ডলুছড়াসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বনভূমি দখলে নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় আনারস, কাঁঠাল ও লেবুর বাগান করা হয়েছে। পাহাড়-টিলার খাদে করা হয়েছে ধানের আবাদও।
২০০৪ থেকে ২০০৫ সালে বাগমারা এলাকায় বনবিভাগ ৪ দশমিক ৫ একর এলাকায় গাছ লাগায়। বনায়ন করা ওই এলাকাটি এখন আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। তিনি সেখানে কাঁঠাল, পেয়ারা, আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলের বাগান করেছেন।

একই এলাকার কাদির মিয়া জানান, তিন একর বনভূমি তার দখলে রয়েছে। শামসুল মিয়ার দখলে রয়েছে সাত একরেরও বেশি বনভূমি। বাগমারা গ্রামের নজির মিয়া, চেরাগ আলী, মো: আসলাম, মাসুক মিয়া; রাসটিলার ফিরোজ মিয়া ও আব্দুল গফুর; ছাতকছড়ার আলম মিয়া, নেয়ামত উল্লাহ, মোতালেব মিয়াসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপন এবং ফলের বাগান করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, ১৯৬৫ সালে ভারত থেকে আসা ৭০টি পরিবার এখানে বসতি স্থাপন করে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পরে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর থেকে আরও প্রায় ১২০টি পরিবার এখানে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ পরিবার লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরে বিভিন্ন অংশে বসবাস করছে। এসব পরিবারের লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্রমশ উদ্যানের বনভূমি গ্রাস হচ্ছে। তাদের দাবি, যারা এখানে বসতি স্থাপন করেছে তারা ভূমিহীন। অভিযোগ আছে, দখলদারদের মধ্যে কেউ কেউ লাউয়াছড়া বনের গাছ পাচারের সঙ্গেও জড়িত।

লাউয়াছড়া বনবিটের বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, তাঁর জানা মতে-৮৬ একরের বনভূমি বেদখল হয়েছে। এর মধ্যে জানকিছড়া-ডলুছড়ায় ২ দশমিক ৫ একর। বাকিটা উদ্যানের বাগমারা এলাকায়। তিনি বলেন, বাগমারায় দখলদাররা আদালতে মামলা করেছে। এর জন্য এসব ভূমি উদ্ধার করা সহজ হচ্ছে না।
শ্রীমঙ্গল আনারস বাগানের মালিক সাহেদ আহমদ জানান, সংরক্ষিত বন দখল করে ফলের বাগান গড়ে ওঠায় লাউয়াছড়ার নির্জনতা নষ্ট হচ্ছে। বনের আয়তন ক্রমশ কমে যাওয়ায় প্রাণিকূলের খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। বন্যপ্রাণিরা এ বনকে আর নিরাপদ মনে করছে না। শুধু তাই নয়, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে একসময় ওই বনের আদিবাসীরাও অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও মিহির কুমার দে জানান, ইতোমধ্যেই বনভিাগের সীমানা চিহিৃত করা হয়েছে। কি পরিমাণ ভূমি প্রভাবশালীদের দখলে আছে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০০ একরের মতো জমি বেদখলে আছে। তবে সঠিক হিসাব আমার মনে নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: