সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট কারাগারে রবিদাসের ফাঁসি কার্যকর

Robi Rash Hangingনিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মাকু রবিদাস (৪৭) নামে এক আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তার ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ রাজু। তার সাথে ছিলেন আরো ৫ জন জল্লাদ।

প্রতেক্ষদর্শী একজন নিরাপত্তা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফাঁসিতে ঝুলানোর সময় মাকু রবিদাসস্বাভাবিক ছিলেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত (১২ জুলাই) ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এসময় কারাগারের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমিনুর রহমান, পুলিশ কমিশনারের পক্ষে উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বাসুদেব বনিক, সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, সহকারী সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্টরা।

ফাঁসি কার্যকরের জন্য গত রোববার ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় জল্লাদ রাজুকে। যার পুরো নাম জিএম তানভীর হাসান ওরফে রাজু। আগেই প্রস্তুত করা হয় ফাঁসির মঞ্চ। প্রস্তুত রাখা হয় মরদেহ বহনের ব্যাগ, একটি অ্যাম্বুলেন্স।

মাকু রবিদাসকে শেষবারের মতো কৃতকর্মের জন্য দোষ স্বীকার করে ভগবানের কাছে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরোহিত অমৃত রাম ভট্টাচার্যকে কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন আরও বলেন, সোমবার (১১ জুলাই) মাকু রবি দাসের স্বজনেরা তার সঙ্গে দেখা করে গেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও ৫ জন স্বজন শেষবারের মতো দেখা করেন। রাত ৮টায় পরিবারের ৫ সদস্য তার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করে বের হয়ে যান। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মাকু রবিদাসের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। মাকু রবিদাসের স্ত্রী প্রায় ৬ মাস আগে মারা গেছেন।

শেষ ইচ্ছে পূরণ : মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে মাকু রবিদাসের শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। শেষ ইচ্ছা হিসেবে মাকু রবিদাস কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বনফুলের মিষ্টি খেতে চেয়েছেন। তার ইচ্ছানুযায়ী এক কেজি বনফুলের মিষ্টি কিনে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারকেল, ডাব, পোলাও খেতে চেয়েছেন মাকু রবিদাস। সেগুলোও নিজ খরচে কিনে এনে খেতে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শেষ ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি তার পরিবারের লোকজনের দেওয়া খাবার পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে খেতে দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর কারাগারের নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে মরদেহ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

যে অপরাধে ফাঁসি : ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত মাকু রবিদাস হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাওয়ের সমাধনী রবি দাসের ছেলে। ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশী নাইনকা রবিদাসকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মাকু রবিদাস।

২০০৩ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত নাইনকা রবিদাস হত্যা মামলায় (দায়রা ৫৭/২০০২) মাকু রবিদাসকে মৃত্যুদন্ডদেশ দেন। পরবর্তীতে মাকু রবিদাস জেল আপিল (জেল পিটিশন নং-০৩/২০০৭) করলেও তার মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তাও নামঞ্জুর হয়।

গত ১২ মে কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসি কার্যকরের আদেশ দিলেও পবিত্র রমজান মাস থাকায় তা কার্যকর করা যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: