সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লাউয়াছড়ায় বণ্য প্রানী উধাও!

154735_origমো.মোস্তাফিজুর রহমান ::
দেশের একমাত্র রেইনফরেষ্ট হিসাবে পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের ছুটিতে  হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার হতে মঙ্গলবার পর্যন্ত লাউয়াছড়ায় প্রায় ১৩ হাজার দেশী পর্যটক এর আগমন ঘটেছে বলে পরিসংখ্যানে জানা যায়। বনে ঘুরতে আসা এক অপরিচিত পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার পর্যটকের উপস্থিতি, হৈ-হুল্লোর, চিৎকার আর মাইকের শব্দে বন্যপ্রাণীরা উধাও! দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা দেখা পাননি বন্যপ্রাণীর। গুলসান এর ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও ৫দিনে মাত্র ৫জন বিদেশি লাউয়াছড়া দেখতে আসেন। যা বিগত ১০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে বনবিট কর্মকর্তা জানান।
জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরের পর থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে অপূর্ব রূপ ধারণ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়। লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিসংখ্যান অনুয়ারী সরকার ঘোষিত সংরতি বনের সৌন্দর্য দেখতে ঈদের হতে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত লাউয়াছড়ায় ৫দিনে ১৩ হাজার পর্যটক এর আগমন হয়। প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার হতে তিন হাজার পর্যটক বনের ভিতরে ভ্রমন করেন। শুধু পর্যটক নয় তার সাথে প্রায় ছোট বড় প্রায় ৭৭৩টি গাড়ি প্রবেশ করে। বনের ভিতরে উচ্চ স্বরে হাল্লাচিৎকার ও গাড়ি হর্নে বনের পশুপাখিরা ভয়ে উধাও হয়ে যায়। ঈদের দিন ৩ হাজার ৭শত ৪৬জন, ঈদের ২য় দিন ৩ হাজার ২শত ৫৭জন, ঈদের ৩য় দিন ২ হাজার ৬শত ৬৪জন, ঈদের ৪র্থ দিন ২ হাজার ৬৯জন ও ঈদের ৫ দিন ১ হাজার জন পর্যটক প্রবেশ ফি দিয়ে লাউয়াছড়া সৌর্ন্দয পর্যবেন করেন। এ দিকে লাউয়াছড়া ভিতরে অরতি রেলক্রসিং পর্যটকদের মৃত্যুর ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই রেলক্রসিং পারাপারের সময় অজ্ঞাত এক পর্যটক ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।
ল্উায়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এ ঈদে মাত্র ৫জন বিদেশেী বেড়াতে এসেছেন! বাকীরা দেশী। বিদেশী পর্যটকের উপস্থিতির সংখ্যা একেবারে নগন্য থাকার কারন হিসাবে গুলশানের সন্ত্রাসী ঘটনাকে উল্লেখ করেন টু গাইড শেখর দাস। তিনি বলেন, আমরা এবারের ঈদে বেকার সময় কাটিয়েছি। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে বিদেশী পর্যটকের কারনে আমাদের আয় ছিল বেশি। এবার তা হয়নি। একই কথা জানান,  ট্যুর গাইড আহাদ মিয়া ,ট্যুর অপারেটর রিজভী আহমদ ও ইউসুফ আলী।
দেশের বিভিন্ন স্থান হতে আসার পর্যটকরা লাউয়াছড়া ঘুরতে এসে হতাশ হয়েছেন। যে আগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন তা পুরণ হয়নি। বনের ভিতরের উল্লুক, হরিণ, বানরসহ নানা প্রজাতির পশুপাখির পরির্বর্তে  শুধুমাত্র লম্বা লম্বা গাছ দেখেছেন। পর্যটক আসহাবুর রহমান, মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি দেখার আগ্রহটা ছিল আলাদা অনুভূতির। কিন্তু লাউয়াছড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও কোনও প্রাণির দেখা মেলেনি। প্রাণীগুলো গেল কোথায় তা জানতে চান।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, বনের একটি নির্দিষ্ট স্থানকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছে। এই বনে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী আছে। এটাকে উদ্যান ঘোষণার পর থেকেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার সংগ্রহ, আবাসস্থলে আশ্রয় গ্রহণ সবকিছুই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, অধিক পর্যটকের হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার, মাইকের শব্দ, গাড়ির হর্ন সব মিলিয়ে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে। ফলে অধিক পর্যটকের তৎপরতা বন্যপ্রাণীর বাস উপযোগী পরিবেশ হারাতে বসেছে।
লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) রেজাউল করিম বলেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থায় টহলে ছিল পর্যটক সহায়ক পুলিশ সদস্যরা। বণ্যপ্রাণী নেই কেন জানতে চাইলে, তিনি সরাসরি কিছু না বললেও তিনি জানান, আমরা পর্যটকদেরদল বেঁধে বা হায় উল্লুর চিৎকার না করতে নিষেধ করলেও পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকার তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে বন্যপ্রাণীরা ভয় পেয়ে লোকালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: