সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ মিনিট ৬০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরে শ্রমজীবি মহিলাকে মারপিঠ করে হাড় ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনায় মামলা

6আল হেলাল ::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় শ্রমজীবি মহিলাকে মারপিঠক্রমে ডান কাঁধে হাড়ভাঙ্গা জখম করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগের তদন্ত করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৩টায় উপজেলার বাদাঘাট ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জালাল সরজমিনে গিয়ে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। মামলার বিবরনে প্রকাশ, গত ২৮ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের উত্তর মোকশেদপুর গ্রামের নুরুজ আলীর বসতবাড়িতে হামলা করে একই গ্রামের রইছ উদ্দিন মিয়ার স্ত্রী জুলেখা খাতুন,জুলেখার পুত্র জুয়েল,মৃত মাদার আলীর স্ত্রী হানিফা খাতুন,ছড়ারপাড় গ্রামের আব্দুস সামাদের পুত্র ফজর মিয়া ও মাছিমপুর গ্রামের আবুনি মিয়াসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। নুরুজ আলীর ৭ বছরের কন্যা সুমাইয়ার সাথে জুলেখার কন্যা রতœা বেগম (১০) এর মধ্যে বসার মোড়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এই বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা নুরুজ আলীর বসত ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৩০) কে চুলমুঠো ধরে বেদম মারপিঠ করতে করতে ঘরের মেঝেতে ফেলে দেয়। জুলেখা খাতুন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা ঘরের মেঝেতে ফেলে মোর্শেদার বুকের উপর ডান পা দ্বারা মাড়িয়ে তাকে প্রানে হত্যার চেষ্টার পাশাপাশি তার গলার চেইন ও কোমড়ের ডান পাশে পড়নের কাপড়ে পেছানো মোড়ানো নগদ টাকা জোরপূর্বক ছিনতাই করে নেয়।

পরে সন্ত্রাসীরা মোর্শেদা বেগমকে টেনে ছেচড়িয়ে ঘর হতে বাড়ির উঠানে ফেলে কাঠের রুইল ও ছেলী দ্বারা এলোপাতাড়িভাবে বারি মেরে মোর্শেদা বেগমের ডান কাধে হাড়ভাঙ্গা জখম করে। এছাড়া উপর্যূপরী বারি ও ঘুতা মেরে মোর্শেদা বেগমের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জখম করে। সন্ত্রাসীরা মোর্শেদা বেগমকে মেরে অজ্ঞান অবস্থায় উঠানে ফেলে রেখে তাদের বসত ঘরের বেড়া ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। গত ২৯ জুন আশঙ্কাজনক অবস্থায় জখমী মোর্শেদাকে জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের এফ.এস ওয়ার্ডের ৫ নং বেডে ডাঃ বিশ্বজিৎ গোলদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে বেডরেস্টে ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোর্শেদা।

পরে জখমী মোর্শেদার পক্ষে তার স্বামী নুরুজ আলী বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তাহিরপুর থানা ওসি মোঃ শহীদুল্লাহর নির্দেশে এস আই জালাল মামলার অভিযোগটি তদন্ত করেন। গ্রামবাসী জানান, জুলেখা খাতুন প্রায় ৩ বছর আগে ভারতের একটি বিএসএফ ক্যাম্পে আটক ছিলেন। অনৈতিক কর্মকান্ডসহ সীমান্তে চোরাই ব্যাবসায় জড়িত থেকে রাতারাতি অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। একজন স্বামী পরিত্যক্তা বখাটে উশৃঙ্খল ঝগড়াটে মহিলা হিসেবে প্রায়ই কারনে অকারনে মোর্শেদার সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের শান্তিভঙ্গ করে যাচ্ছেন।

গত ৫ মাস আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা মুর্শেদার বসত বাড়ি হতে তাকে চুলমুঠো ধরে টেনে হেছড়ে ঘর হতে বের করে তাদের বিল্ডিং বসতঘরে নিয়ে জোরপূর্বক আটকিয়ে রাখে এবং বেদম মারপিঠক্রমে আহত করে। এ ঘটনায় গ্রামে সালিশ বৈঠকে জুলেখা ও তার সন্ত্রাসীদেরকে দোষারুপ করে সামাজিকভাবে বিচার ফায়সালা হয়। এবং মোর্শেদার কাছে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে সকল সন্ত্রাসীরা। অনুমান ৩ মাস আগে জুলেখার পুত্র জুয়েল গ্রামের হাছেন আলীর চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশন দেখার সময় প্রতিবেশী হান্নান মিয়ার ছেলে সাদ্দাম (১০) কে চায়ের কাপ দ্বারা বারি মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে সন্ত্রাসী জুয়েল মিয়াকে এক হাজার চারশত টাকা জরিমানা প্রদানের দন্ড দেয়া হয়। এস আই জালাল বলেন,আমরা তদন্তে বাদীপক্ষের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। মোকশেদার হাড়ভাঙ্গা জখমের চিহ্নও দেখেছি। এখন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: