সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গুলশানের আর্টিসানে হামলা: একটি মাইক্রোবাস ঘিরেই রহস্য

full_547922148_1468305203নিউজ ডেস্ক : গুলশানের আর্টিসান বেকারি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে সামনে চলে এসেছে একটি রহস্যেঘেরা মাইক্রোবাস। হলুদ নম্বর প্লেটযুক্ত মাইক্রোবাসে সন্ত্রাসীরা হোটেলটিতে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এই গাড়িটির মুভমেন্ট ধরা পড়েছে। তবে গাড়িটি আদৌ জঙ্গিদের বহন করছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে, গাড়িটির সন্ধান পাওয়া গেলে এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। বিশেষ করে পুলিশি অ্যাকশনের সময় জঙ্গিদের আউটডোরে থাকা ব্যাকআপ টিমের সদস্যদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা রেস্টুরেন্টটির পেছন দিকের লেক পার হয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে তাদের নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করেছে। এছাড়া তদন্তের নতুন ক্লু হিসেবে আক্রান্ত হোটেলটির দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মীকেও খোঁজা হচ্ছে। যারা ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছে।

সূত্র জানায়, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালাতে জঙ্গিরা প্রায় দুই মাস আগে থেকে ছক কষেছে। এরপর পুরো হামলা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তারা একাধিবার হোটেলটি রেকি করেছে। ঘটনার একদিন আগেও তাদের দু’একজনকে এখানে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরা এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলা চালাতে এলেও তারা চেয়েছিল বিদেশী হত্যার অপারেশন সাকসেসফুল করে নিরাপদে সটকে পড়বে। এজন্য ইফতারির পর নিরিবিলি সময়টাকে বেছে নেয়।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাইক্রোবাসটি সেখানে দাঁড় করানো ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এক সময় মাইক্রোবাসটিও ওই স্থান ত্যাগ করে। ঘটনাস্থল হলি আর্টিজান বেকারির আশপাশের ২৮টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পর তা পর্যালোচনা করে এসব বিষয় নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি যে উগ্রাপন্থা বেছে নেয়া জঙ্গিরা করেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েকজন তো স্পটেই মারা গেছে। কিন্তু তারা চাইছেন, এর শেকড় অনুসন্ধান করতে। দেশের মধ্যে কিংবা দেশের বাইরে থেকে কারা এদের মদদসহ বিভিন্ন রসদ জুগিয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জঙ্গিরা মাইক্রোবাস থেকে দ্রুত নেমে হলি অর্টিজানে ঢুকে পড়ে। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রেস্টুরেন্টটিতে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে। এছাড়া হামলাকারী একাধিক জঙ্গির দুই হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তিন যুবকের এক হাতে পিস্তল জাতীয় ক্ষুদ্রাস্ত্র এবং অপর হাতে তরবারির মতো ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে একে একে হোটেলটিতে অবস্থানরত বিদেশীদের প্রত্যেকে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। কেউ কেউ তখনও বেঁচে ছিলেন। কিন্তু নৃশংস জঙ্গিরা তাদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং রীতিমতো প্রত্যেককে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। আকস্মিক এ হামলার ঘটনায় হলি আর্টিজান বেকারির সশস্ত্র দু’জন নিরাপত্তাকর্মী জীবন বাঁচাতে অস্ত্র নিয়েই পালিয়ে যান। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো হদিস মেলেনি। পুলিশ এখন তাদের খুঁজছে।

তদন্ত সূত্র বলেছে, আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থেমে থেমে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও ভিডিও ফুটেজে রেস্টুরেন্টটির বাইরে ৭ থেকে ৮ যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করার জন্য গুলি করা শুরু করলে তারা দ্রুত রেস্টুরেন্টটির পেছন দিকে চলে যায়। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ওই যুবকদের খোঁজে পুলিশ রেস্টুরেন্টের পেছনে অভিযান চালালেও তাদের আর পাওয়া যায়নি। এ থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলাকারীদের জন্য রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন লেকে আগে থেকে নৌকা অপেক্ষা করছিল। পুলিশি প্রতিরোধ শুরু হওয়ার পরপরই এসব ওয়াচ টিমের জঙ্গি সদস্যরা দ্রুত নৌকায় পার হয়ে কূটনৈতিক জোনের পার্ক রোড এলাকায় চলে যায়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সন্দেহভাজন এসব জঙ্গি সদস্য যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশের সব ক’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও নৌপথে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশকে এসব সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয়সহ ছবিও সরবরাহ করা হয়েছে।

এছাড়া ন্যক্কারজনক এ হামলার পেছনে মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে এমন সন্দেহভাজন ১০ জঙ্গির ছবিসহ তালিকা ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, এদের কেউ যাতে ভারতীয় সীমান্ত ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য তাদের ছবি সংবলিত বায়োডাটা ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরা হল- ঢাকার মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান, যুনায়েদ খান, যুবায়েদুর রহিম, ইব্রাহিম হাসান খান, আশরাফ মাহমুদ ইসলাম, সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী, সাইফুল্লা জাকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাজিবুল্লাহ আনসারী ও লক্ষ্মীপুরের তাজুদ্দিন। অভিভাবকদের কাছে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে এদের ছবিসহ বিজ্ঞাপন গত কয়েকদিন থেকে গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় অংশ নেয়া জঙ্গিদের মধ্যে যারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তাদের অনেকে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। এজন্য বিজিবি ও বিএসএফকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। তবে দেশের মধ্যে অবস্থান করে থাকলে তাদের সহসা ধরা পড়তেই হবে, পুলিশ এমনটিই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

এদিকে জব্দ করা সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ন্যক্কারজনক ওই হামলার ঘটনা তদন্তে সহায়ক বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে কাউন্টার টেরোরিজমের (সিটি) তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসানাত রেজার দেয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, জিম্মি অবস্থায় জঙ্গিরা তার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল এবং তাদের নির্দেশ মানতে বাধ্য করেছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। এও বলেন, তার সঙ্গে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে জিম্মি থাকায় তাদের প্রাণে রক্ষা করতে তিনি জঙ্গিদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু হাসানাত করিমের তথ্যে অসংলগ্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, আরও যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বলা সমীচীন হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: