সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় অটোরিক্সা চালকদের সীমাহীন চাঁদাবাজি, অসহায় যাত্রীরা

2d8c8454-ba94-4b9d-9c1d-754ebc5867fdজালাল আহমদ ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালকদের সীমাহীন চাঁদাবাজি, স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। অটোরিক্সা চালকরা বেপরোয়া হওয়ায় একধরণের জিম্মী হয়ে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় যেনো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ যেনো দেখার কেউ নেই। ঈদের দিন থেকে বড়লেখা-বিয়ানীবাজার, বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া রোড এবং আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়ার দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে চালকরা। এ নিয়ে যাত্রী-চালক কথা কাটাকাটি এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিন ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখানকার সিএনজি চালকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বিচার পাওয়ার জায়গাই যেনো নেই যাত্রীদের। বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগিতা করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে স্ট্যান্ডের সিরিয়াল আগে নেয়া যেনো চালকদের একটি ট্রাডিশনে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে চলাচল করেন যাত্রীরা। গত ৭ মাসে অটোরিক্সা চালকদের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন রুটে অন্য গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাক্কা লেগে অন্তত ৫ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এছাড়া অনেকে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন।

এদিকে ঈদের সকাল থেকে কোনো ধরণের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বড়লেখা-বিয়ানীবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে অটোরিক্সা চালকরা। এছাড়া কাঁঠালতলী থেকে মাধবকু- জলপ্রপাত এলাকা পর্যন্ত মাত্র ৭ কিলোমিটার জায়গার নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকার চেয়ে ২০-৩০ টাকা আদায় ছাড়াও কখনও কখনও অপরিচিত যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া আদায় করেছে চালকরা। এ নিয়ে যাত্রী-চালকদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। কিন্তু সমাধান পাননি মাধবকু-ে গমনকারী পর্যটকরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ওপেন চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে চালকরা জানায়, রাস্তা ভালো না থাকায় কয়েক বছর আগে থেকেই কাঁঠালতলী থেকে মাধবকু- পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে উন্নত রাস্তা হয়েছে তবে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কেনো-এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেনি।

চালকদের কাছে নিতান্ত অসহায় ও জিম্মী যাত্রীরা জানান, ভাড়ার বিষয়ে কথা বললেই অটোরিক্সা চালকরা দাপট দেখায়। বাজে ভাষায় গালি-গালাজ করে। এমনকি মারধরও করে থাকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন রুটে ৪ শতাধিক অটোরিক্সা চলাচল করছে। এগুলোর বেশিরভাগই লাইসেন্স নেই। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালকও নেই। যারা চালক হিসেবে অটোরিক্সা চালাচ্ছে, এদের বেশিরভাগই অদক্ষ ও অল্পবয়সি। তারা কোনো নিয়ম-নীতিরই তোয়াক্কা করে না। অনেক অটোরিক্সার আবার রেজিস্ট্রেশনও নেই। ইচ্ছেমতো গাড়ি চালনাই যেনো তাদের প্যাশন। যত্রতত্র গাড়ি রেখে তীব্র যানজটেরও মূল কারণ এই অটোরিক্সা। পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে অটোরিক্সা চালকরা। রাস্তার উভয় পাশে ইচ্ছেমতো গাড়ি রেখে নিজেদের দখলে রেখেছে। এসব বিষয়ে রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনও রয়েছে নির্বিকার। উপজেলায় যে সকল অটোরিক্সা চলছে, সেগুলোর একটিরও আবার মিটার সংযোজন করা নয়। ফলে যাত্রীরা চালকদের ইচ্ছেমতো আদায়কৃত ভাড়া দিয়ে চলাচল করছেন।

ঢাকা থেকে বন্ধুদের নিয়ে মাধবকু- দেখতে আসা রেদোয়ান, তানিম, সাইফুল, ইমরান, আনন্দ প্রমুখ অভিযোগ করেন, ট্রেনে আসার কারণে অটোরিক্সায় করে কাঁঠালতলী থেকে মাধবকু- যেতে আমাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁঠালতলী অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের সভাপতি আলাম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে স্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ জানান, কমিটির সিদ্ধান্তেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলা অটো টেম্পু সিএনজি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, কোথাও ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, সিএনজি পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে একটি নিদের্শনা দেয়া আছে। তবে কোথাও কোনো যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: