সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাঁচ জঙ্গির ‘আসল’ নাম নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা

full_1582977282_1468255733নিউজ ডেস্ক: গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় পাঁচ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের পাঁচটি নাম প্রকাশ করা হয়। আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। কিন্তু নিহত ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেরিয়ে আসতে থাকে জঙ্গিদের আসল নাম ও পরিচয়। তার সঙ্গে পুলিশের দেওয়া নামের কোনো মিল ছিলনা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. ছানোয়ার হোসেন গত শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে তিনি ওই পাঁচটি নামকে জঙ্গিদের সাংগঠনিক ‘কোড’ নাম বলে উল্লেখ করেছেন।

ছানোয়ারের ওই পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন উত্তরহীন রয়ে গেছে। পুলিশ এই সব কাল্পনিক নামগুলো কোথায় পেল? পাঁচটি নামই ভুল প্রমাণের পরও পুলিশের কোনো বক্তব্য নেই কেন?

জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের সদস্যদের নামকরণের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। দলে ভেড়ানোর পর থেকে নতুন সদস্যের নাম ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকে। আস্তানা পরিবর্তন, নতুন বাসা ভাড়া, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রদান, অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ ও হস্তান্তর, দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রভৃতি পরিবর্তনের সময়ে তাদের নতুন নতুন নাম দিয়ে থাকে তাদের ওপরের সারির নেতারা। একজন জঙ্গি সদস্য যতবার এই সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে ততবার তার নতুন নাম দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সূত্র থেকে ১ জুলাইয়ের গুলশান ট্র্যাজেডির কয়েকজন আক্রমণকারীর নাম গোয়েন্দাদের কাছে চলে আসে ঘটনা ঘটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, এত দ্রুত পুলিশ এই নাম কীভাবে পেল?

২০১৫ সালে সংঘটিত আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জেএমবির এই খণ্ডিত অংশটি দেশব্যাপী প্রায় তিন ডজন হামলা চালিয়েছে। এ সকল ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই গ্রুপের শতাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ইউনিট। এ পর্যন্ত সেসব ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশের রহস্য ভেদ করতে পেরেছে পুলিশ, বাকিগুলোর রহস্যভেদও সময়ের ব্যাপার। সবগুলো ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশ জানতে পেরেছে হামলাকারী ও নির্দেশদাতার নাম (ছদ্মনাম)। এসব ঘটনা তদন্ত করে পুলিশের কাছে জমেছে এক বিশাল তথ্যভান্ডার ও তথ্য প্রাপ্তির অসংখ্য চ্যানেল। পুলিশের এই তথ্যপ্রবাহের রাস্তা থেকে ইতিপূর্বে জানা গেছে অসংখ্য হামলার পূর্বাভাস। ফলে ঢাকা ও দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কয়েক ডজন হামলা সংঘটন এবং হামলার প্রস্তুতি নস্যাৎ করতে পেরেছে পুলিশ।

জঙ্গিসংক্রান্তে পুলিশের বিশাল তথ্যভান্ডার, তথ্যপ্রাপ্তির অসংখ্য চ্যানেল এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাদের অনেক দ্রুত এবং সহজে তথ্য পেতে সহায়তা করে। এটি ভিন্ন পেশার লোকজনের জানার বা বোঝার অবকাশ খুব কমই থাকে।

সেই প্রেক্ষিতেই গুলশানের সেই রেস্তোরাঁয় উল্লিখিত ছদ্মনামের কয়েকজন জঙ্গির (বিকাশ, আকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন) শারীরিক অস্তিত্বের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পায় পুলিশ। তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণে বোঝা যায়, সর্বশেষ আস্তানায় তারা এই নাম ধারণ করে এই অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি পুলিশকে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত করে এবং সূত্রগুলোর তথ্যের পারস্পরিক পার্থক্য খুব কম ছিল, যা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর তাদের নামসহ (সর্বশেষ আস্তানায় আসার আগে প্রদত্ত ছদ্মনামের ভিত্তিতে) শনাক্ত করে দিতে গোয়েন্দা সূত্রগুলো সাহায্য করে। একাধিক সূত্র সমর্থন করার পর পুলিশ সেসব নাম প্রকাশ করে। যারা ওই পাঁচ জঙ্গিকে আগে থেকে চিনতেন তারা অনলাইনে ছবিগুলো দেখে তিনজনকে চিহ্নিত করে ফেসবুকে তাদের আসল নাম-পরিচয় দিতে থাকেন। বাকি দুজনের আসল পরিচয় উদ্ধার হয় ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে’ বগুড়া থেকে।

এবার শুরু হয় তাদের আসল নাম এবং পুলিশ প্রদত্ত নামগুলো নিয়ে বিতর্ক। আসল নামের সন্ধান পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের তালিকাভুক্ত প্রকাশিত নাম নিয়ে দেখা দেয় সংশয় ও অবিশ্বাস। বস্তুত পুলিশ ঘোষিত নামগুলো (সাংগঠনিক ছদ্মনাম) আর পরিচিতজনদের থেকে প্রাপ্ত আসল নামের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ব্যক্তির অস্তিত্ব একই পাওয়া যায়।

সাইট ইন্টেলিজেন্সও নিহত পাঁচ জঙ্গির ছবির পাশাপাশি পাঁচটি নাম প্রকাশ করেছে, সেগুলোও প্রকৃত নামের থেকে পৃথক ছিল। সে নামগুলো হলো: আবু উমর, আবু সালমা, আবু রহিম, আবু মুসলিম ও আবু মুহারিব। আর, পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত নাম: বিকাশ, আকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। (সূত্র:সংবাদমাধ্যম)

পরে জনগণ ও পুলিশের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নামগুলো: নিবরাস ইসলাম (সাংগঠনিক ছদ্মনাম রিপন), মীর সামেহ মোবাশ্বের (আকাশ), রোহান ইবনে ইমতিয়াজ (বিকাশ), খাইরুল ইসলাম পায়েল (বাঁধন) ও শফিকুল ইসলাম (ডন)।

জঙ্গিবিরোধী কাজ শুধু নাম দিয়ে হয় না, নামগুলো কোড হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে নামের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে হয়। এভাবেই কাজ হচ্ছে দেশে-বিদেশে। সূত্র: প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: