সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিখোঁজ বাশার ও শরিফুলের সন্ধানে পুলিশ

2016_07_11_21_52_10_N1XgvvHZ5k4CPGkVaCPbqNMiFTXZEE_originalনিউজ ডেস্ক : গুলশানে হামলাকারীদের কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন থানায় জিডি ও তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। নিখোঁজ ১০ যুবকের একজন তানোরের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার।

অপরদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন হওয়ার পরে বাগমারা উপজেলার শরিফুল নামে এক যুবকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। শরিফুল রাবি ইংরেজি বিভাগেরই শিক্ষার্থী। রাজশাহীতে নিখোঁজ বাশার ও শরিফুলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারা যায় যে, মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার নিখোঁজ আছেন। বাশার তানোরের লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।

ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমণ্ডি শাখা থেকে লেখাপড়া করার পরে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন বাশার। সেখানেই বিয়ে। সেই সূত্রে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ঢাকা তেজগাঁওয়ে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো বাশার। গত ৬ থেকে ৭ মাস আগে তেজগাঁওয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে বাশার নিখোঁজ হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাশারের পরিবারের এক সদস্য বাংলামেইলকে জানান, পহেলা জুলাই শুক্রবার গুলসানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার আগে নিহত ৫ জঙ্গি দীর্ঘ দিন নিখোঁজ ছিল। এই ঘটনার পর কোনো পরিবারে কেউ নিখোঁজ থাকলে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলারক্ষকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ৬ থেকে ৭ মাস ধরে নিখোঁজ মোহাম্মদ বাসারুজ্জামানের শ্বশুর ঈদের আগে ঢাকা তেজগাঁও থানা তার সন্ধান চেয়ে জিডি করেন এবং বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অভিভাকদের জিডির পর নিখোঁজ ১০ যুবকের ছবি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পায়। এরপরেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

তানোর উপজেলার লালপুর গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও লালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দীনের ছেলে বাশার দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড়।

সোমবার সকালে বাশারের লালপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা সিরাজ উদ্দীনকে পাওয়া যায়নি। তিনিও ছেলের খোঁজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বাশারের মা বানিসা বেগম ওরফে বানু বাংলামেইলকে জানান, তার ছেলে বাসার ছোট থেকেই লাজুক প্রকৃতির ছিলো। গ্রামে ছেলেদের সাথে একটু কম মিশতো। তাদের আরো একটি বাড়ি রাজশাহীতে আছে। ভালো পড়াশুনা করার জন্য ছোট থেকেই রাজশাহীতে মানুষ হয়েছে বাশার। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য গত ১০ বছর আগে ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সে থেকে বাশার বাড়িতে খুব কম আসতেন। এক পর্যায়ে গত দুই বছর আগে ঢাকা তেজগাঁওয়ে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই ঘর জামাই থাকতেন।

বিয়ের পর গ্রামের বাড়িতে মাত্র একবার এসেছিলেন। তার এক বছরের একটি মেয়ে আছে। মাঝে মাঝে আগে মোবাইলে কথা বলতেন। গত ৭ মাস আগে বাশার দুই মাসের জন্য অফিসের কাজে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বলে শ্বশুর বাড়ি থেকে বিদায় হন। সেই থেকে তার আর কোনো খোঁজ নাই বা কোনো ফোনও করেননি।

লালপুর গ্রামে বাশারের প্রতিবেশিরা জানান, বাশার এই গ্রামের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। ছোট থেকেই সে শহরের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করেছে। গ্রামে খুব কম আসতো। মাঝে মাঝে এলেও গ্রামে সেরকম মিশতেন না এবং কথাও কম বলতেন। এ কারণে গ্রামের অনেক ছেলেই তাকে চেনে না।

বাশারের মামা তানোরের তালান্দ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাংলামেইলকে জানান, বাশার আমার ছোট বোনের ছেলে। পারিবারিক কিছু দ্বন্দ্বের জন্য বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে দীর্ঘ দিন মনোমালিন্য থাকায় যোগাযোগ নেই। বিশেষ কোনো যোগাযোগও ছিলো না। কয়েকদিন আগে পত্র-পত্রিকায় তার নিখোঁজের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি অবাক করেছে তাকে।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বাংলামেইলকে জানান, তেজগাঁও থানায় জিডির পর তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। বাশার লেখাপড়ার সুবাদে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বাড়ির বাইরে শহরে থেকেছেন। গ্রামে খুব কম আসতেন। তাই গ্রামের অনেকে তাকে চেনে না। দীর্ঘ দিন গ্রামে না আসায় এমন কি নিজের মামাও তার বর্তমান ছবি দেখে চিনতে পারছেন না।

ওসি আরো জানান, কী উদ্দেশ্যে বাশার নিখোঁজ রয়েছে বা দেশে না বিদেশে রয়েছে তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, চলতি বছর রাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুনের ঘটনার পরে ওই বিভাগেরই শিক্ষার্থী শরিফুল নিখোঁজ থাকার ঘটনাটি ধরা পড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। এরপরে, সেই সময় ওই নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল হাকিম ও ভাই আরিফুল ইসলামকে আটকও করে পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ জানান, শরিফুলকে খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, নিখোঁজ শরিফুলের পরিবারের দাবি, পারিবারের সদস্যদের সঙ্গে শরিফুলের কোনো যোগাযোগ নেই।-বাংলা মেইল ২৪

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: