সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে নীলু হত্যা : দুটি নাতনী বেঁচে আছে না মারা গেছে জানি না

21993_itm10ডেইলি সিলেট নিউজ : সিলেটে নীলুর বিয়ের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন মা সালমা বেগম। পিতা আবদুস শুকুরও নির্বাক হয়ে গেছেন। মুখের সব ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। পাষণ্ডের মতো নীলুকে খুন করে দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছে হন্তারক স্বামী।-মানবজমিন।
নীলু দুটি সন্তানইবা এখন কেমন আছে, কোথায় আছে কেউ জানে না। আর গতকাল বিকালে সিলেট শহরের পশ্চিম পীর মহল্লা থেকে নীলুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে, ঈদের দিন কিংবা পরদিন নীলুকে খুন করেছে ঘাতক স্বামী কয়েস আহমদ। নীলুর পুরো নাম আয়শা খানম নীলু। বয়স ২৫ কিংবা ২৬।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাখরখাল গ্রামের আবদুশ শুকুরের মেয়ে সে। প্রায় ৪ বছর আগে ধুমধাম করে বিয়ানীবাজারের বীরশ্রী গ্রামের কয়েস আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয় নীলুর। এরপর থেকে নীলু ও কয়েসের সংসার ভালোই চলে। তবে, বিয়ের পর থেকে কয়েস নীলুর পিতা মাতার কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল।
এরই মধ্যে তাদের সংসারে দুটি সন্তানের জন্ম হয়। বড় মেয়ের বয়স ৩ বছর আর ছোটটির বয়স এক বছর। বিয়ের পর থেকে তারা সিলেট নগরীর পশ্চিম পীর মহল্লার ১৮৩-৫ নম্বর বাসায় ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিল। ওই বাসার একটু দূরে নীলুর পিতা আবদুশ শুকুরও পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
ঈদের কয়েক দিন আগে কয়েস স্ত্রী নীলু ও সন্তানদের নিয়ে জকিগঞ্জে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে তারা ফিরে ঈদের দুই দিন আগে। আসার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রায় সময় কয়েস ও নীলুর মধ্যে ঝগড়া হতো। তাদের ঝগড়ার কারণে বসবাসই দায় হয়ে পড়েছিল ওই এলাকায়।
এদিকে, ঈদের দিন রাত থেকে নীলুর বাসায় কোনো সাড়া-শব্দ মিলছিল না। দরোজা ছিল বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। এ কারণে প্রতিবেশীরা ধারণা করেন, ঈদের ছুটিতে তারা বাড়ি চলে গেছে। কেউ খোঁজ নেয়নি। গতকাল দুপুরে হঠাৎ করে নীলুর ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে করে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন।
বিকালে বিমানবন্দর থানা পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নীলুর লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিমানবন্দর থানার ওসি গৌছুল আলম জানিয়েছেন, নীলুর গলায় রশি পেঁছানো ছিল। তবে, লাশ মাটিতেই ছিল। তার ধারণা, নীলুকে শাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হতে পারে। এদিকে, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেছে। স্থানীয়রা জানান, নীলুর লাশ অনেকটা গলে গিয়েছিল।
তারা বলেন, ঈদের দিন রাতে কিংবা পরদিন সকালে নীলুকে হত্যা করা হতে পারে। তবে, দুই সন্তান কোথায় সেটি তারা অনুমান করতে পারছেন না। নীলুর বাবা আবদুশ শুকুর জানান, ঈদের দিন থেকে তারা নীলুর মোবাইল বন্ধ পাচ্ছেন। কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
গতকাল তারা এসে দেখেন ঘর তালাবদ্ধ। তিনি বলেন, নীলুর স্বামী কয়েস প্রায় সময় যৌতুকের দাবিতে নীলুকে মারধর করতো। এসব বিষয় নীলু তার পরিবারকে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, তার দুটি নাতনী বেঁচে আছে না মারা গেছে জানেন না। তাদের সন্ধান বের করতে তিনি পুলিশের কাছে দাবি জানান। আর নীলুর ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, চার বছর আগে নীলুর বিয়ে হয়। তার বড় আদরের মেয়ে ছিল নীলু। এ কারণে ধুমধাম করে বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে অনেকটা কাজ ছেড়ে দেয় কয়েস। শেষ মুহূর্তে সে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দিয়েছিল। তিনি বলেন, যৌতুকের কারণে শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে খুন করা হয়।
ওসি জানিয়েছেন, লাশের ময়নাতদন্তের পর খোলাসা হবে নীলুকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন অভিযোগ নিয়ে পুলিশ কয়েসের সন্ধান করবে বলে জানান তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: