সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আতঙ্কের মাঝেও মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়

6c30769a-168e-4735-b900-5d2bb7a67f54বড়লেখা প্রতিনিধি ::
ঈদের আনন্দে প্রকৃতির বুকে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। গুলশান ও শোলাকিয়া ট্র্যাজেডির পর সারাদেশে আতংক বিরাজ করলেও সেই আতংক উপো করে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভীড় জমিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা। অপরূপ সৌন্দর্য্যরে জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সংরতি বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ প্রতিটি পর্যটন স্পট ছিলো হাজার হাজার পর্যটকদের ভীড়ে উৎসবমুখর। আনন্দের এই দিনে দূর-দূরান্ত থেকে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যান লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক, মাধবকু- ও হামহাম জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওরসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

দীর্ঘ ৯ দিনের টানা ছুটিতে নির্মল সবুজের স্বাদ নিতে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই, মাধবপুর লেক, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক আকর্ষণ করেছে পর্যটকদের চোখ। শুধু তাই নয়, জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথাড়িয়া পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা দেশের দীর্ঘতম জলপ্রপাত মাধবকু-ে বছরের অন্যান্য ছুটির সময়ের মতোই এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। অনেকে ছুটে যান যানজট আর কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঈদের আনন্দকে উপভোগ করতে। দিনভর গভীর সবুজ অরণ্যের বুকে সোনালি সূর্যের আলো ঝলমল করেছে। প্রখর রোদে চিরহরিৎ সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে কিংবা বৃরে ডালের দিকে ছিলো হাজারও ভ্রমণপিপাসুর দৃষ্টি। যদি একবারের জন্য হলেও শোনা যায় বিলুপ্ত প্রাণি উল্লুকের ডাক। গাছের ডালে দেখা যায় লজ্জাবতী কিংবা চশমাপরা হনুমান। তবে নীরব এই স্থানে এতো লোকের সমাগম দেখে মাঝে-মধ্যে দু’একটা চশমাপরা হনুমান, হরিণ ও বানর ছাড়া তেমন কোনো প্রাণি দেখতে পাননি পর্যটকরা। তবে সবাই দল বেঁধে দিনভর ঘুরে বেড়িয়েছেন। দেখেছেন বিরল প্রজাতির আফ্রিকান টিকওক, সারি সারি ডুমুর, লটকন, সেগুন, আমলকি, জলপাইসহ নাম না জানা নানান প্রজাতির বৃ। যদিও এবারের ঈদে সারা দেশে আইএস হামলার আতংক বিরাজ করছে।
কোনো ধরণের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের প থেকে কঠোর নিরাপত্তা পরিলতি হয়েছে। এসব পর্যটন স্পটে পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীা-নিরীা ছাড়া কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তারপরও বিগত বছরের চেয়ে এ বছর ঈদের দিনে পর্যটকের সমাগম কোনো েেত্র কম নয়। ঈদের ছুটিতে এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। তাছাড়া লাউয়াছড়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের দিক-নির্দেশনা, বিনোদন ও নিরাপত্তা দিতে পর্যটক পুলিশের পাশাপাশি সেখানে সার্বণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ইকো-গাইডরাও। তবে অতিরিক্ত পর্যটকদের আগমন এবং যানবাহনের কারণে বন্যপ্রাণির আবাসভূমির তি হচ্ছে বলে জানান বন কর্মকর্তা। ঢাকার ধানমন্ডি থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ষাটোর্ধ্ব মিসেস শামছুদ্দিন জানান, শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমরা এখানে এসে কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। ঢাকার খিলতে থেকে শামিম তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার ও ৭ বছরের ছোট্টমণি রাইসাকে নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বেড়াতে এসেছেন। নাজনীন আক্তার জানান, ইট লোহার শহর ছেড়ে এখানে এসে একটু স্বস্তি লাগছে। বানর, হরিণ ও চশমাপরা হনুমান দেখে আমার মেয়েটা খুবই উৎফুল্ল। সিলেটের তরুণী রিমা জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ সবক’টি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখবেন, ঈদে বেড়ানোর আনন্দটাই আলাদা। এদিকে মাধবকু- জলপ্রপাত পর্যটন স্পটে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতেও পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভীড় লক্ষ্য করার মতো। পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গী হামলা পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

ঈদ আসে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব আর সৌহার্দ্যরে বার্তা নিয়ে। এই একটি দিনে প্রকৃতির বুকে গড়ে উঠা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সবাই যেনো এক কাতারে শামিল। বিনোদনের আশায় ছুটে যান প্রকৃতির নিবিড় শীতল ছায়ায়। তার সান্নিধ্যের কাছে থেকে ফিরে এসে আবার একটি বছরের অপো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: