সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যেভাবে ছেলেদের ব্রেইন-ওয়াশ করে দলে ভেড়ায় জঙ্গিরা!

ISডেইলি সিলেট ডেস্ক :: আইএস (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক সিরিয়া) জঙ্গিদের নিয়ে গবেষণাধর্মী নানা প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ক্যাপ্টাগন অ্যাম্ফিটামিন নামের বড়ি উচ্চ ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়েই জঙ্গিরা বিবেক বিবেচনা বর্জিত নানা নৃশংসতায় মেতে উঠছে। এই নেশাজাত দ্রব্যটি গ্রহণের কারণে জঙ্গিদের উন্মত্ততা আরও বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর পরোয়া না করেই তারা যে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

মনোচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘ওষুধটি খেলে মানুষের দেহমনে এক ধরনের উদ্দাম ও সুখ সুখ ভাব সৃষ্টি হয়। ওষুধটি খাওয়ার পর লোকে বেশি কথা বলা শুরু করে, ঘুম হারাম হয়ে যায়, খাওয়া-দাওয়ার রুচি কমে গেলেও শরীরে ব্যাপক শক্তি অনুভূত হয়।’

জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সাল থেকেই অ্যাম্ফিটামিন নামের এই ওষুধটির উৎপাদন বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এরপরও মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে অ্যাম্ফিটামিনের প্রসার ঘটেই চলছে। সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও তুরস্কের ল্যাবগুলোতে এ ট্যাবলেটের উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে।

আইএসের মাধ্যমে এসব নেশাজাত ট্যাবলেট এখন বাংলাদেশেও জঙ্গিদের হাতে হাতে পৌঁছেছে। এসব ট্যাবলেটের ভয়ঙ্কর নেশাতেই একশ্রেণির যুবক জঙ্গিবাদিত্বের নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে।

দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট তথা আইএস ইস্যুতে এখন খুবই উদ্বিগ্ন। প্রিয়জনরা যেমন ভীত, তেমনি শঙ্কিত তরুণ-তরুণীরাও। শঙ্কার ভয় বাসা বুনেছে সর্বস্তরে। সবার মনে একটা ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় প্রশ্ন! কেন মানুষ আইএসে যোগ দেয়? কী লোভনীয়তা লুকিয়ে আছে আইএসে?

একাকীত্ব, বেকারত্ব ও চরম হতাশা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় তরুণ-তরুণীরা নতুন কিছু করতে চায়। জীবনে চায় অ্যাডভেঞ্চার। কোনো কিছু না পারার যন্ত্রণায় হতাশাগ্রস্ততার সুযোগ নেয় চারপাশে ওত পেতে থাকা দুষ্ট মনের মানুষগুলো। ‘দেখো ছেলে, তুমি খারাপদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। চমৎকার একটা দেশের বাসিন্দা হবে তুমি। সেখানে তুমি অনেক সুন্দরী রমণী পাবে। তারা তোমার দাস হয়ে থাকবে। তোমাকে সেবা করার জন্য তারা অপেক্ষা করছে। কেন ঘরে বসে আছ।

তোমাকে যারা চাকর বানাতে চায়, কেন তাদের চাকর হয়ে থাকবে। আমাদের সঙ্গে এসো। জীবনে বৈচিত্র্য পাবে। হিরোর মতো বাঁচার সাধ পাবে। সবার উপরে থাকবে তোমার ইচ্ছার প্রাধান্য। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।’ এমন সব প্রলোভনের কারণেই একশ্রেণির তরুণ জড়িয়ে পড়ে উগ্রপন্থি দলে।

বিকৃত যৌনতার সঙ্গে মাদকাসক্ত আর ধর্মীয় বিভ্রান্তির কবলে পড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীদের সংগ্রহ করে আইএস জঙ্গি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইরাক, সিরিয়ায় সম্মুখযুদ্ধে মৃত আইএস যোদ্ধাদের পকেটে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। সুইসাইড মিশনগুলোর আগে দীর্ঘ কয়েক মাস তাদের প্রস্তুতি নিতে হয়, এ সময়ে তাদের নিয়মিত ক্যাপ্টাগন পিল খাওয়ানো হয়।

ঢাকায় মৃত জঙ্গিদের পূর্বেকার ছবি ও কয়েক মাস পরে হামলা করে নিহত ছবির চেহারা বা অবয়বগত কিছু পার্থক্যের মূল কারণ এই ক্যাপ্টাগন।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মন্ত্রী তোফায়েল বলেন, ছেলেদের মস্তিষ্ক বিকৃত করা হয়েছে। হেপ্টাগন (এক ধরনের মাদক) দিয়ে। এটা খেলে নাকি সুপার সোলজার হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আইএস তারা এটা ব্যবহার করে।’

‘এ ধরনের পরিবারের (শিল্পপতি পরিবার) ছেলেদের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে প্রমাণ পাচ্ছি, তা হতাশাজনক। উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোকে অবশ্যই তাদের সন্তানদের দিকে নজর দিতে হবে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: