সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘নিখোঁজ’ গুলশান হামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শী

300_20114-550x292নিউজ ডেস্ক : গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর ১০ দিন পার হলো গতকাল রোববার। ভয়ঙ্কর ওই হামলার পরদিন দেশি-বিদেশি ২০ জনের মরদেহ এবং জিম্মিদশা থেকে জীবিত ১৩ জনকে উদ্ধার করেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে একজনের আটকের কথা বলেছিলেন। পরে আরও একজনের কথা উল্লেখ করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিম ও কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খান তাদের হেফাজতেই আছেন। শুধু তারাই নন, আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকায় আছে। কিন্তু আটক বলে তথ্য প্রকাশের পর ওই দুজনের অবস্থানের বিষয়টি এখন আর পরিষ্কার করছে না পুলিশ। হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিবকে ছাড়ার ব্যাপারে পুলিশ ও তাদের স্বজনদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলার পর উদ্ধারদের তালিকায় নাম থাকলেও খোঁজ মিলছে না নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের। এমনকি এ ঘটনার মামলায়ও নাম নেই তাদের।

ব্যবসায়ী শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমিদ কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ঘটনার একদিন আগে দেশে ফিরে ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন বলে দাবি তাদের পরিবারের সদস্যদের। এ ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় জীবিত অবস্থায় যে ৩২ জনকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সে তালিকায়ও তাহমিদের নাম রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে তার খোঁজ পায়নি পরিবার।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে হাসনাতকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতি দিয়েছিল। ক্যাফেতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যে পাঁচ হামলাকারী নিহত হন, তাদের মধ্যে নিবরাস ইসলামও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ঘটনার রাতে ওই ক্যাফেতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত রেজা।

ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই দুজনকে এখনো আদালতে সোপর্দ করা হয়নি। তুলে দেওয়া হয়নি কারো জিম্মায়ও। অন্যদিকে তারা এখনো ঘরে ফিরে আসেননি বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তাতে উদ্ধারকৃতদের তালিকায় নাম থাকলেও আসামিদের মধ্যে ওই দুজনের নাম নেই। মামলায় জীবিত অবস্থায় যে ১৩ জনকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সে তালিকায় হাসনাত ও তাহমিদেরও নাম রয়েছে। ঘটনার পরদিন আর্টিজান রেস্টুরেন্ট থেকে পুলিশ ওই দুজনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে গেলেও এখন তাদের বিষয়ে কোনো তথ্যই দিচ্ছে না। মিলছে না তাদের অবস্থানের খোঁজ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব এখন কোথায়?

হাসনাত করিমের বাবা এম রেজাউল করিম গতকাল দুপুরে বলেন, ঘটনার পরদিন (২ জুলাই) জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর হাসনাতসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশ বলেছিল ঘটনার বর্ণনা জেনে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দিলেও হাসনাতকে রেখে দেওয়া হয়। এরপর ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরনা দিয়েও ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। এমনকি তার বিষয়ে এখন কিছুই বলছে না পুলিশ। হাসনাত হার্টের রোগী। দুই দফায় তার অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসক তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিলেও এ কয়েক দিন হাসনাত হার্টের ওষুধ পাচ্ছে কিনা তাও জানেন না তিনি। তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বিশিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, যেহেতু ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় হাসনাত করিমকে আসামি করা হয়নি, তাই তার বিষয়ে আপাতত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তবে আদালতের মাধ্যমে ছেলের অবস্থান পরিষ্কারের একটি পথ রয়েছে।

রেজাউল করিম আরও বলেন, মেয়ে সাফা করিমের জন্মদিন পালন করতে সেদিন (১ জুলাই) স্ত্রী শারমিন পারভীন ও ছেলে রায়ান করিমকে নিয়ে হাসনাত হলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিলেন। এরপর জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে ডিবি পুলিশ বাসা থেকে তার ল্যাপটপ নিয়ে যায়। সবকিছুই কেমন ধোঁয়াশা মনে হচ্ছে। কোনো সন্দেহ থাকলে তদন্ত করে পুলিশ তার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করুক, ব্যবস্থা নিক। এতে তো কারোরই আপত্তি নেই। কিন্তু তার অবস্থান তো পরিষ্কার করবে তারা। তিনি বলেন, পুলিশ স্বীকার না করলেও আমরা নিশ্চিত, হাসনাত ডিবি পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। আদালতে কিংবা পরিবারের কাছে ছেলেকে তুলে দেওয়ারও জোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে হলি আর্টিজান থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তাহমিদ হাসিব খানের বাবা আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান ওরফে শাহরিয়ার খান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, প্রথমে ডিবি পুলিশ তাহমিদের আটকের বিষয়ে তাদের নিশ্চিত করেছিল। এখন কিছুই বলছে না। তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজন হলে রাখুক। কিন্তু তার অবস্থান আমাদের কাছে পরিষ্কার করবে না পুলিশ?

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা শুক্রবার কয়েকটি গণমাধ্যমকে বলেন, হাসনাত ও তাহমিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমানও জানান, যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ এখন পুলিশের কাছে নেই। তবে শনিবার রাতেই ডিএমপির মুখপাত্র ও কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের ডিআইজি মনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, তাদের পুলিশ ধরেওনি, ছাড়েওনি। গতকাল এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকেই বলেন, নো কমেন্টস।-আমাদের সময.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: