সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম হতে পারে আরেক গুরুত্বপূর্ণ ‘পিকনিক স্পট’!

Stadium_Sylhet

দেলোয়ার হোসাইন :: চারিদিকে চাবাগান, সবুজে আচ্ছাদিত বেশ ক’টি টিলার মাঝখানে এক অপরূপ সৌন্দর্য্যে লীলাভূমি। কার না দেখতে ইচ্ছে করে? সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ টি-২০ ম্যাচ দিয়ে যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে অভিষেক হয়েছিলো।

অভিষেকের সময়ই বাংলাদেশের সেরা ভেন্যুর খ্যাতি লাভ করে স্টেডিয়ামটি। রয়েছে (গ্রীণ গ্যালারি) সবুজ গ্যালারিও। ছোট ছোট টিলা আর চা বাগান ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে মাঝে গড়ে উঠা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মুগ্ধ করে যে কাউকে।

প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠা স্টেডিয়ামটি টিলার মাঝখানে একখন্ড সমতল ভুমি। চারিদিকে উঁচুনিচু টিলা, চা বাগানের আকর্ষিক রূপ মুগ্ধতা যে কাউকেট টেনে প্রকৃতির হাওয়ায়। রয়েছে সেই অনিন্দ সুন্দর স্টেডিয়ামটিতে অনেকটা পিকনিক স্পটই স্থাপন করা হয়েছে।

সিলেটের ঐতিহ্য চা, কমলা আর আনারসের বাগান দেখতে হলে কাউকে আর ছুটে যেতে হবে না এখানে-ওখানে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ারম ‘অঘোষিত’ পিকনিক স্পটে গেলেই দেখা মিলবে সবকিছুর। ঈদ ছাড়াও এখানে প্রতিদিন ভিড় জমান সৌন্দর্য্য পিপাসুরা। পরিবারপরিজন নিয়ে চাবাগানের সবুজ আচ্ছাদিত চোখজোড়ানো মাঠ দেখে প্রশান্ত মনে ফেরেন বাসাবাড়িতে।

নতুন সাজে সাজানো মাঠের চারিদিক দেখলে যে কেউ বলবেন স্টেডিয়াম নয়, যেনো পিকনকি স্পট। এই ঈদে যে কেউ চাইলে ঘুরে আসতে পারনে প্রকৃতির অপরুপ এই স্টেডিয়ামটি। এজন্য অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।

বিমানবন্দর সড়ক ঘেষে যাওয়া স্টেডিয়ামের মূল ফটকে প্রবেশ করা মাত্রই প্রকৃতির অপরুপ রুপ লাবণ্য মুগ্ধ করবে আপনাকে। রাস্তার উভয় পাশে চা বাগানের পাহাড়ি পথ মিনিট চারেক হাটলে পৌছে যাবেন স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর হাতের ডান পাশের পাহাড়ি ঝর্ণা মন ভুলিয়ে নেবে যে কারো। টিলা, পাথর আর পানির ঝর্ণার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বক ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে যাবে কোন গহীন জঙ্গলের ঝর্ণাতে। তার ওপর চার পাশে সারি সারি চা বাগানের দৃশ্য অপরুপ।

স্টেডিয়ামে ডান পেশে গেষে একটু এগোলে অবাকই হতে হবে আপনাকে। গ্যান্ড ষ্ট্যান্ডের পাশের উপরের টিলায় চোখ ঝুড়াবে। গ্রামীণ ছনের ছোট্ট ঘরটি পর্যটকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে প্রান্তিক জনপদে। টিলার সিড়ি বেঁয়ে উপরে উঠলে অপরুপ প্রকৃতি মনে শান্তির পরশ ছুঁয়ে দেবে। বিশাল উপরের টিলার চারপাশে সারিসারি আনারস বাগান, চা বাগান কমলার বাগান মুগ্ধ করবে পর্যটকদের। সব মিলিয়ে দারুণ এক পিকনিক স্পটই হবে স্টেডিয়ামটি।

প্রকৃতির এসব সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি আধুনিক স্টেডিয়ামতো রয়েছেই। স্টেডিয়ামটির গ্র্যান্ড ষ্ট্যান্ডের নিচ তলায় প্রবেশ করলে মনে হবে না এটি কোন কোন স্টেডিয়াম। চারিদিকে সৌন্দর্য্য আর পরিবেশ দেখে মনে হবে আপনি যেনো প্রবেশ করেছেন কোন পাঁচ তারকা হোটেলে।

একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয়, তাই অপরূপ সাজে সাজানো হয় মাঠটিকে। আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ের দু’অধিনায়ক যখন মাঠে টস করতে নামেন তখনই অফিসিয়ালী স্টার টিভির মাধ্যমে সারা পৃথিবীর ক্রিকেট প্রেমীরা প্রত্যক্ষ করেন ক্রিকেটের নতুন এই ভেন্যুটি। আয়ারল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জিম্বাবুয়েকে এবং ১৬৩ রানে আটকে দেয় তাদেরকে।

পরে সহজেই এই রান টপকে তারা জয়লাভ করে। এবং নতুন এই ভেন্যুতে প্রথম জয়লাভকারী দল হিসাবে রেকর্ডবুকে তাদের নাম তুলে নেয়। বাংলাদেশের সবগুলো স্টেডিয়ামের মত সিলেটের এই স্টেডিয়াম ও নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা।

শুরুতে কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর দায়িত্ব নেবে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মালিকানায় দেশের একমাত্র ক্রিকেট স্টেডিয়াম কক্সবাজারে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত স্টেডিয়ামটিকে সিলেট স্টেডিয়াম অথবা সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম বলা যাবে না। যদিও টিভি কমেন্টেটররা গতকাল তাই উল্লেখ করেছেন। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের মূল কারিগর বিএনপি সরকারের সফল অর্থমন্ত্রী সিলেটের কৃতি সন্তান মরহুম এম সাইফুর রহমান।

শুরুতে এর নাম ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে নামটি পরিবর্তন করা হয়। অনেকটাই অবহেলিত এই স্টেডিয়ামটি নতুন রূপ প্রদান করেন সিলেটের আরেক কৃতি সন্তান বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। শুধু মাত্র তাঁর একক এবং আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসাবে মর্যাদা পেয়েছে স্টেডিয়ামটি।

চা বাগান আর টিলা ঘেরা সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে আগেই। আর এখন পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হওয়ায় দেশের সীমারেখা পেরিয়ে এশিয়ার অন্যতম সুন্দর ভেন্যুর তালিকায় উপরের দিকে লাক্কাতুরায় অবস্থিত মাঠটি।

স্টেডিয়ামের একাংশে থাকা টিলা কেটে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গ্রিন গ্যালারি। বাংলাদেশে এর আগে কোন আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে গ্রিন গ্যালারি নির্মিত হয়নি। সংশি ষ্ট সবাই মনে করছেন- দৃষ্টি নন্দন এই গ্রিন গ্যালারির কল্যাণে বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশাপাশি জায়গা করে নিবে সিলেটবাসীর স্বপেড়বর এই স্টেডিয়ামটি। শুধু কি গ্রিন গ্যালারি?

স্টেডিয়ামটির চারপাশের নয়নাভিরাম চা বাগানের সবুজের সমারোহও কোন অংশেই কম নয়। আর আকৃতির দিক দিয়েও এগিয়ে সিলেটের এই মাঠটি। ৬১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৮৫ ফুট প্রস্থ নিয়ে গড়ে উঠা এই স্টেডিয়ামটি দেশের অন্যতম বড় একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

স্টেডিয়ামের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এসব স্পটের আরও পরিচর্যা করা হচ্ছে। নান্দরিক রুপ পাচ্ছে টিলার উপর, চা বাগান, আনারসের বাগান আর কমলার বাগান। ঝর্ণার উপরে স্থাপন করা হচ্ছে ফুলের গাছ। বছর খানেক পরে এসব স্পট আরও নান্দনিক হবে। পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: