সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যৌতুকের জন্য গাছের সঙ্গে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

Tortureডেইলি সিলেট ডেস্ক :: বিশ হাজার টাকা কাল হয়ে দাঁড়ালো গৃহবধূ আতিয়া বেগমের জন্য। পিতা যৌতুকের তিন ভাগ টাকা পরিশোধ করতে পারলেও বাকি ২০ হাজার টাকা দিতে পারেননি। তাই যৌতুকের দাবি মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে গৃহবধূ আতিয়াকে। নির্মম ও বর্বর ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার মধ্য ফলিয়া গ্রামে। নির্যাতনের নায়ক হলেন পাষণ্ড স্বামী ফারুক, তার ভাই ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

দিনের বেলা প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে স্থানীয় এক মেম্বর তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু গ্রাম্য সালিশের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে থানা পুলিশ করতে দেয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী জানায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মধ্য ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল্লাহ সরকারের মেয়ে আতিয়া বেগম। ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয় একই গ্রামের মোজা মিস্ত্রির ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের সময় আতিয়ার বাবা তার মেয়ের সুখের কথা ভেবে যৌতুক হিসাবে জামাই ফারুককে ৮০ হাজার টাকা দেন।

বাকি রাখেন ২০ হাজার। এই ২০ হাজার টাকা আর দেয়া হয়নি। ফারুক মিস্ত্রির কাজ করেন। সংসার মোটামুটি চলে। আতিয়ার সংসারে ভাতের অভাব নেই। সুখেই কাটছিল তাদের সংসার। ১০ বছর সংসার জীবনে তাদের ২ সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মগ্রহণের পর থেকেই ফারুকের সঙ্গে আতিয়ার যৌতুকের বাকি ২০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে প্রায়ই কথাকাটাকাটি হতো।

এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে ফারুক স্ত্রী আতিয়া ও তার দুই সন্তানকে রেখে কাজের কথা বলে চলে যান। সেই যাওয়া। আর খোঁজখবর নিতেন না স্ত্রী-সন্তানের। শ্বশুরবাড়িতে বোঝা হয়ে খেয়ে না খেয়ে ছিলেন আতিয়া। এক পর্যায়ে পেটের তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাবার জোগাড় করেন।

কিন্তু স্বামী ফারুক তার ভরন-পোষণের জন্য কোনো টাকাও দিত না, বাড়িতেও আসতো না। সে তার কর্মস্থল থেকে তার পিতামাতা ও ভাইবোনের নামে টাকা পাঠাতো। এই টাকা তারা স্ত্রী আতিয়া ও তার সন্তানদের জন্য কোন কাজে লাগাতো না। স্বামীর প্রতীক্ষায় দীর্ঘদিন পেটের কষ্ট দিয়ে সন্তানসহ মাটি কামড়ে থাকার পর বাধ্য হয়ে ২০১৫ সালে আতিয়া তার বাবার সংসারে চলে যান।

বাবার সংসারে নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে বোঝা হয়ে থাকেন। এতো কষ্টের কথা শুনেও স্বামী ফারুক ও তার ভাই-বোন ও মা-বাবার মন গলেনি। তারা শুধু বলতেন যৌতুকের বাকি ২০ হাজার টাকা না দিলে ফারুক আর বাড়িতে আসবে না। সে বিয়ে করে অন্যত্র থাকবে। গেলো রমজান মাসে আতিয়া শুনতে পায় যে, তার স্বামী ফারুক বাড়িতে এসেছে।

তারপর তার স্বামীর দাবি নিয়ে আতিয়া তার দুই সন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়ি থেকে শনিবার স্বামী ফারুকের বাড়িতে যায়। তাকে দেখেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে স্বামী ফারুকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা যৌতুকের টাকা নিয়ে এসেছে কিনা জানতে চায়। কিন্তু আতিয়ার না শব্দ শুনে তারা ক্ষেপে যায়। দেবর সঞ্জু, সুমন, আব্দুর রশিদসহ বাড়ির লোকজন তাকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তারপর টেনেহিঁচড়ে প্রকাশ্যে বাড়ির পাশে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে।

মারপিটে তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত ইউপি মেম্বার বাচ্চু মিয়ার লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেন। তারপর গ্রাম্য সালিশের বিচারের আশ্বাস দেন। আজ বিকালে সালিশ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে বলে শোনা গেছে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করতে নিষেধ করে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে। সে কারণে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যায়ে জানানো হয়নি।

-মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: