সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে

Peace_Tv_Block_logo

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পিস টিভি বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার পরপরই তা সিলেটে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের কেবল অপারেটররা পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন।

সিলেট কেবল সিস্টেমস লিমিটেড (এসসিএস) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনেল আহমদ বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা পিস টিভি বন্ধ করে দিয়েছি”।

জঙ্গিবাদে উৎসাহ যোগানোর অভিযোগে বাংলাদেশে বিতর্কিত ‘ইসলামী চিন্তাবিদ’ জাকির নায়েক পরিচালিত ‘পিস টিভি’র সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বাংলাদেশে গুলশানে জঙ্গি হামলায় অংশগ্রহণকারী একাধিক জঙ্গি জাকির নায়েক ও পিস টিভির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ। এরপর পিস টিভি বন্ধের দাবি উঠে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী জাকির নায়েকের পিস টিভির ভারতেও বৈধ কোন লাইসেন্স নেই। ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর এ টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করা হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিবিসি’র সংবাদে বলা হয়, বাংলাদেশে ‘পিস টিভি’ সম্প্রচারের অনুমতি বাতিল এবং কেবল অপারেটরদের সেটি না প্রদর্শন করার জন্য আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করছে সরকার।

এর আগে দুপুরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রীসভা কমিটির এক বৈঠকে বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশের আলেম ওলামারা বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন, এই টিভিতে প্রচারিত অনেক কিছু কোরান, সুন্নাহ এবং হাদীসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই এ ব্যপারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

“এছাড়া জাকির নাইকের নির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য একজন সাধারণ মানুষকে জঙ্গিবাদী তৎপরতার দিকে উস্কানি দেয়। সেকারণে আমরা এই টিভির সম্প্রচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।”

তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন যে কোম্পানি বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার করে তাদের অনুমতি বাতিল করা হবে এবং সোমবারই এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে তথ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া কোন কেবল অপারেটর যদি বিনা অনুমতিতে পিস টিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার কারণে দুবাই থেকে সম্প্রচারিত চ্যানেলটির অনুষ্ঠান এখন বাংলায় ভাষান্তর করে দেখানো হয়।

ফলে সরকারী উদ্যোগে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত হলেও তার ফলাফল কতটা দেখা যাবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

চ্যানেলটির কয়েকজন নিয়মিত দর্শক বলছিলেন টিভিতে দেখা না গেলে তারা ইউটিউব বা ইন্টারনেটে ডাউনলোড করে অনুষ্ঠান শোনেন।

এদিকে, জঙ্গিবাদের বিস্তার প্রতিরোধে কোন একটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করার কতটা সুফল পাওয়া যাবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

মিডিয়া বিশ্লেষক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলছেন, “এখন প্রযুক্তির বিকাশের ফলে যারা ‘পিস টিভি’ দেখতে চায় তারা বিকল্প পথে সেটি দেখার ব্যবস্থা করে নেবে। উল্টো এখন হঠাৎ করে সম্প্রচার বন্ধ হবার ফলে বরং আরো অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে।” এদিকে, এরআগে শনিবারই ‘পিস টিভি’র সম্প্রচার বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: