সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখতে বাড়ি ছেড়ে সিলেটে ঈদ!

Porjoton_Lead_Logoশুয়াইব হাসান :: আপনি যখন ঘুমে, ভোর তখন সকাল ৬টা। সিলেটের রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা। হাটতে বের হয়েছি। হঠাৎ একটি বাস, তিনটি নোয়া এবং একটি হাইয়েচ ভর্তি লোক সিলেট-তামাবিল সড়ক হয়ে যাচ্ছিল। টিলাগড় পয়েন্টে গাড়ির গতি কিছুটা থামাতেই জানালা দিয়ে উঁকি দেয়া লোকটাকে প্রশ্ন করলাম- এতো ভোরে কোথায় যাচ্ছেন ভাই? উত্তরে- ‍”জাফলং যাবো। আপনাদের প্রকৃতি কন্যা জাফলং দেখার জন্য পটুয়াখালি থেকে সিলেটে এসে ঈদ করলাম!”

এভাবে ৪০ মিনিটের মধ্যে একে একে অন্তত ১০টি বাস এবং আরো অর্ধশত গাড়ি ছুটলো তামাবিল অভিমুখে। একটি গাড়িও ফাঁকা নেই।

হ্যাঁ, পাঠকের হয়তো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি নিজেও প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি। কিন্তু, এতো ভোরে একের পর এক এরকম অন্তত ৪০টি গাড়ি জাফলং অভিমূখে যেতে দেখে কী আর অবিশ্বাস করা যায়। প্রতিদিন এরকম অন্তত তিন থেকে চারশ’ গাড়ি ছুটেছে তামাবিল সড়ক হয়েছে। এ কারণে পাবরিক বাস, লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা সংকটে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আম্বরখানায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা সংকর ভৌমিক এ প্রতিবেদককে বলেন, সবাই শখের বসে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ছুঁটছে। গাড়িগুলো রিজার্ভ ধরতে ব্যস্ত। তাই এখন যাত্রীগাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে।

নিজের ছেলেমেয়েও বিছনাকান্দিতে গিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অন্য কাজে ব্যস্ত। তাদের মা ও মামাদের দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। জানি না, ছেলেমেয়েরা বাসায় ফিরে অসুস্থ হয় নাকি।

06প্রকৃতির ছায়াঘেরা জাফলং, শীলত পানির বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, নীলনদ খ্যাত লালাখাল, লোভছড়ানো লোভাছড়া কিংবা বিশাল টাঙুয়া, ও আখালুকি , চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল, ঝর্ণার শীলত স্বচ্ছ জল হামহাম, মাধবকুণ্ড- হয়তো আমাদের কাছে জন্মসূত্রে দেখা বিধায় এর সৌন্দর্য্যের প্রতি আলাদা কোন টান নেই। কিন্তু, সিলেটের বাইরে অথবা দেশের বাইরে থেকে আসা পর্যটকররা এটাকে কিভাবে নিচ্ছে তা হয়তো আমরা কল্পনায়ও ভাবতে পারিনি।

সম্প্রতি গুলশানে জঙি হামলার পর সিলেটে পর্যটক সমাগম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও পাথর আর পকৃতির শ্যামলীমায় আচ্ছাদিত সিলেটকে এক নজরে না দেখলে হয়তো তৃঞ্চা মেটেনা প্রকৃতিপ্রেমীদের। এজন্য এতো নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও ছুটছেন। কেবল জীবনের ঝুঁকি নয়, আছে রাস্তার ভোগান্তিও।

গুলশানে বিদেশীদের হত্যার পর বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বাইরে বের হতে নিষেধ করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে এবার সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে অগ্রীম বুকিং বাতিল করেছে তারা। এ কারণে সিলেটের পর্যটনে কিছুটা ধ্বস নামতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছিল।

কিন্তু, ঈদের পরদিন থেকে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড় জানান দিচ্ছে, এ প্রকৃতি স্বচ্ছ, শীলত, মায়াবতি। এর টানে মানুষ ঘরে বসে থাকতে পারে না। ছুটে যায় প্রকৃতি আচ্ছাদিত পর্যটন স্পটগুলোতে।

03সিলেটের প্রায় প্রতিটি প্রর্যটনকেন্দ্রের রয়েছে আলাদা রূপ, সৌন্দর্য্য ও প্রকৃতি। তাই পর্যটকেরা এসবের বিভিন্ন নামও দিয়েছেন। এবারে প্রকৃতি কন্যা জাফলং ছাড়াও সবুজে আচ্ছাদিত ছোট-বড় পাথর ছুয়ে ভেসে আসা হিমশীতল পানির বিছনাকান্দি, নীলনদ খ্যাত লালাখাল, শ্রীপুর, দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল (এটি পর্যটনকেন্দ্র নয়), মাধবকুণ্ড কিংবা লোভাছড়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের ভীড় চোখে পড়ার মতো।

ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আবার যুবক ছেলেমেয়েরা বন্ধুবন্ধব নিয়ে ছুটছেন পর্যটনকেন্দ্রে। সিলেটের যারা দূরে যেতে যারছেন না তারা ড্রীমল্যান্ড ওয়াটার পার্ক কিং জাকারিয়া সিটি, এ্যাডভেঞ্জার ওয়ার্ড এর দিকে ছুটছেন।

এছাড়া প্রকৃতির মায়ার টান আছে সিলেটের সুরমায়। নদীর উপর নির্মিত সেতুগুলো এখন আলাদা এক পর্যটন। বিকেলের সূর্য ঢোবার সাথে সাথেই তরুণ-তরুণীদের ভীড় জমে এখানে। বিশেষ করে বাইপাস শাহপরান (রহ.) সেতু, নবনির্মিত কাজিরবাজার সেতুতে রাত পর্যন্ত সেলফি, গল্প-আড্ডায় জমে উঠে।

02

এদিকে, সিলেট নগরীর পানসী, ভোজনবাড়ি, পাঁচভাই, পালকীসহ ছোটবড় রেস্টুরেন্টে সকাল-বিকাল ভীড় লেগে আছে। ঈদে ফাঁকা শহরে রেস্টুরেন্টগুলোতে এতো ভিড় লাগার কারণ জানতে চাইলে পানসীর কর্মকর্তা ইয়াসীন জানান, পর্যটকরা রাতে বেশি ভীড় করছেন। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে এসে তারা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া সেরে নিচ্ছেন।

ঈদের আগে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদেশী হোটেলগুলোতে পর্যটকরা অগ্রীম বুকিং বাতিল করেছিলেন। এর সুবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা বুকিং নিয়েছিল বলে জানিয়েছে হোটেলগুলো।

07

অন্যদিকে আইনশৃংখলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ঈদে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেলের সবক’টি কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে ১৫ রমজানের মধ্যে। তবে, গুলশানের ঘটনার পর কিছু বিদেশী বুকিং বাতিল হয়েছে। এ্যাম্বেসি থেকে তাদেরকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

05তবে, একজন গেষ্ট (অতিথি) বুকিং বাতিল করলেও আরো অনেকে অপেক্ষামান ছিল; যাদেরকে আমরা রুম দিতে পারছিলাম না। এই সুযোগে দেশের অনেকে বুকিং পেয়ে গেছেন।

সিলেট হোটেল এন্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিন আহমদ বলেন, পনেরো রোজার পর থেকে সিলেটের বেশিরভাগ হোটেল মোটেলের অধিকাংশ রুম বুকিং হয়ে গিয়েছিলো, শুক্রবার রাতে গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও একে একে তাদের বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। এতে করে হতাশ হয়ে পড়েন সিলেটের হোটেল ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, গুলশানের হামলা ছাড়াও সিলেটের নাজুক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও এবার অনেক পর্যটক সিলেট বিমুখ। যোগযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় পর্যটকরা আগের মতো সিলেট আসছেন না। তবে, এবার যারা পর্যটনে যাচ্ছেন তারা বেশিরভাগই স্থানীয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, ‘সিলেট মহানগরীতে বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিদেশীরা যেসব হোটেলে অবস্থান করছেন সেসব হোটেল ছাড়াও পুরো সিলেট নগরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।’ পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তায় দায়িত্বরত আছে বলে জানান তিনি।

গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা পলাশ চৌধুরী জানান, বিজিবি আনসার টুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসক সবার সাথে বৈঠক হয়। তারাই সহযোগিতা করছে। আমাদের ইন্টার্নাল সিকিউরিটি তো আছেই। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পর্যটক উপস্থিতিও বেশ ভাল।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: