সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

১৫০ কোটি টাকার জোগান দিয়েছেন মীর কাসেম আলী

Mir-kasemডেইলি সিলেট ডেস্ক :: শেখ হাসিনার সরকার ফেলে দেয়া ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক হিসেবে একটি জঙ্গিগোষ্ঠী শুলশানে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় করাচি ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে হাজার হাজার ফোন কল হয়েছে।

ওই রাতে লন্ডন প্রবাসী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের মুঠোফোনও ব্যস্ত ছিল।

আর ফাঁসির দণ্ড থেকে রেহাই পেতে সরকার ফেলে দেয়ার ছকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত মীর কাসেম আলী দেড়শ’ কোটি টাকার বেশি অর্থ ঢেলেছে।

দিল্লিকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ফেলে দেয়া ষড়যন্ত্রে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালানো হয়। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঘটনা সম্পর্কে দিল্লিকে প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য জানিয়েছে।

শুলশানের হামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লিকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই পাঁচ জঙ্গিকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে দু’মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এর পরে চট্টগ্রাম হয়ে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। থাইল্যান্ড থেকে অস্ত্র এসেছিল জঙ্গিদের কাছে। বিদেশিদের পণবন্দি করে মীর কাসেম আলীকে মুক্ত করার পাশাপাশি সেনাদের বিদ্রোহে উস্কানি দেয়াও ছিল জঙ্গিদের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো জেনেছে, হাসিনা সরকারকে ফেলে দেয়া এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক হিসেবে জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে গেছে ১৫০ কোটি টাকার বেশি। ঢাকার পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে জঙ্গি হামলা চলার সময়ে করাচি এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে কয়েক হাজার ফোন কল গেছে। পাশাপাশি দুবাই, সিরিয়া থেকেও ওই সময় ঢাকায় অজস্র ফোন এসেছে এবং গেছে।

বাংলাদেশের গোয়েন্দারা মনে করছেন, পণবন্দি অবস্থায় করাচি, সৌদি আরব এবং ঢাকার মধ্যে অজস্র ফোনালাপ থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে কোন কোন দেশ এই ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এসেছে। ওই পাঁচ জঙ্গির কাছেও সৌদি আরব থেকে সরাসরি ফোন এসেছিল। গুলশান-বনানী এলাকার ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল সেনাবাহিনী। তার পরেও দেখা যায় ওই বেকারিতে কয়েকটি স্যাটেলাইট ফোন সক্রিয় রয়েছে। জঙ্গিরা স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে আরবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর অফিসারদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বলেছিল, তা হলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশে শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ঢাকার পাঠানো ডশিয়ারে বলা হয়েছে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার লন্ডনবাসী ছেলে তারেক রহমানের ফোনও ১ জুলাই সারারাত ব্যস্ত ছিল। তার ফোন থেকেও ঢাকা, করাচি ও সৌদি আরবে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার এক খাস ভৃত্যের নামে নথিভুক্ত ফোনে সেই রাতে কথা বলছিলেন তারেক রহমান।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সরাসরি জড়িত বলে ঢাকার তরফ থেকে বলা হয়েছে। ঢাকার দেয়া তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গুপ্তচর সংস্থাগুলো তথ্যের বিশ্লেষণ করছে বলে সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাদ দিয়ে আনন্দবাজারসহ ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে এসব খবর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দেখুন আমি এ ব্যাপারে আপনার কাছে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

ফাঁসির আসামি জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাসেম আলীকে জেল থেকে মুক্ত করাটাও গুলশানের জঙ্গি হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে মনে করছেন দেশের গোয়েন্দারা। হলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলা নিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নয়াদিল্লিকে যে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে, তাতে এই সন্দেহের কথা জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বৃহস্পতিবার বলেন, ধনকুবের মীর কাসেমকে মুক্ত করাটা লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে এখন একমাত্র তার ফাঁসিই কার্যকর হওয়া বাকি। এই ফাঁসি আটকাতে নানা রকম চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতাও তার অঙ্গ হতে পারে।

মীর কাসেম আলী একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে খুনি আল বদর বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। চট্টগ্রামে তৎকালীন ছাত্রনেতা ছিলেন এই মীর কাসেম। পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা হন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জিয়াদ আল মালুমের কথায়, মীর কাসেম ছিলেন জামায়াতের খাজাঞ্চি।

১৯৮৩ সালে তিনি ইসলামী ব্যাংক স্থাপন করে তার প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান হন। কেয়ারি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে তার ১০টি কোম্পানির মাথাতেও ছিলেন কাসেম। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের রুটে তার পাঁচটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী চলে। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির মালিক ইবনে সেনা ট্রাস্টেরও সদস্য তিনি। নয়া দিগন্ত নামে একটি দৈনিক পত্রিকা ও দিগন্ত টেলিভিশনেরও তিনি মালিক ছিলেন। সরকারি হিসাবে সব মিলিয়ে মীর কাসেমের সম্পদের পরিমাণ অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক আদালতে নিজের বিচার প্রক্রিয়া চলার সময়ে মীর কাসেম বিশ্বের নামি-দামি আইনজীবীদের নিয়োগ তো করেছিলেনই, বিচার বন্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ নিয়োগ করে মার্কিন লবিস্টও নিয়োগ করেছিলেন। তার ফাঁসির রায়ের পরে পাকিস্তানের আইনসভায় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব নেয়া হয়েছিল। তুরস্ক সরকারও ফাঁসি রদ চেয়ে ঢাকার কাছে সরকারিভাবে আবেদন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন বিদেশ দফতর থেকেও কাসেমের ফাঁসি রদ চেয়ে সওয়াল করা হয়েছিল।

-মৃদুভাষণ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: