সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার সুগন্ধিতে মোহিত আরব ভূবন

10885338_815604208477745_580108591932123976_nজালাল আহমদ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখার আগর গাছ থেকে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান আতর-এটি অবশ্য পুরাতন খবর। আর এ সুগন্ধি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। নতুন খবর হলো সময়ের সাথে সাথে এ শিল্পের প্রসার ঘটছে না নানাবিধ সরকারি অসহযোগিতার কারণে। বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আতর রপ্তানি করে প্রতি বছর ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে আতর সংগ্রহ করা গেলে এটি দেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম বৃহৎ খাত হয়ে উঠতে পারে বলে অভিমত শিল্প সংশ্লিষ্টদের। প্রায় ৪০০ বছর ধরে জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগরের আগর-আতর ক্লাস্টারের সমাদর রয়েছে। আরব বণিক থেকে শুরু করে ভারতীয় ব্যবসায়ী সবাই ছুটে এসেছেন এর সুবাস নিতে। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সবখানেই এখানকার আতরের কদর রয়েছে। এই পবিত্র ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ্য করে কোটি টাকার আতর বিদেশে রফতানি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুজানগরে ৩৫০টির বেশি ছোট-বড় আতর তৈরির কারখানা রয়েছে। এ শিল্পে জড়িত আছেন ৩০-৩৫ হাজার নারী-পুরুষ। সুজানগর, রফিনগর, বড়থল ও হাসিমপুর গ্রামে আগর চাষ হচ্ছে। মৌসুমী ব্যবসা হওয়ার কারণে এখানকার নারী-পুরুষরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ কাজে যোগ দেন। প্রত্যেক শ্রমিক মজুরি পান দৈনিক ২০০-৫০০ টাকা।
আতর রপ্তানিকারকরা জানান, তাদের তৈরি আতর সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশ ছাড়াও এখন ইউরোপেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বিদেশে আতরের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তারা সে অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছেন না জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, যতোটুকু উৎপাদন হচ্ছে তা-ও সরবরাহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগর ক্লাস্টারকে দেশের রপ্তানি পণ্যের শীর্ষে নিয়ে আসা সম্ভব বলেও জানান তারা।
বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ  থেকে বছরে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার আতর রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে আতর রপ্তানিতে সাইটিস সনদ সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সময় মতো এ সনদ না পাওয়ায় বিদেশে পণ্য পাঠাতে দেরি হয়। এছাড়া কারখানাগুলোত গ্যাস সমস্যার কারণে উৎপাদনও বাঁধগ্রস্ত হচ্ছে।
আগর-আতর উৎপাদনকারীরা জানান, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুজানগরে আগর ক্লাস্টার পরিদর্শনে গিয়ে এটিকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় আগরকে শিল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। ২০১০ সাল থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন এ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে আতর উৎপাদনকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতায় সহযোগিতা এবং শিল্পে নিয়োজিতদের ঋণ প্রদান করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগর থেকে আতর উৎপাদনে আধুনিক কোনো পদ্ধতি এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে না। এখানে কোনো আধুনিক পরীক্ষাগারও নেই। আগর থেকে উৎপাদিত প্রতি তুলা আতরের দাম ৬ হাজার টাকারও বেশি। তবে বাজারে যে আতর পাওয়া যায় তা মূলত কৃত্রিম সুগন্ধি।
আগর-আতর উৎপাদনকারীরা আরও জানান, আগর গাছের কোনো অংশই নষ্ট হয় না। এগুলোর ছালসহ সব অংশই মূল্যবান। বেশি আতর পেতে প্রতিটি আগর গাছে ২ ইঞ্চি পর পর পেরেক মারা হয়। গাছ বড় হওয়ার পর সেটি ছোট ছোট টুকরো করা হয়। এসব টুকরো তিন মাস পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে চুলার মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ তাপ দিলে সেখান থেকে এক ধরণের রস বের হয়। ওই রসের উপরিভাগের  তৈলাক্ত অংশ তোলে নিয়ে উৎপাদন করা হয় আতর।
আগর-আতর বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি রহিম বখত মুসা জানান, বিমানবন্দরে নানা জটিলতার কারণে রপ্তানিতে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এখন এ পণ্য রপ্তানি করছেন। সব ধরণের জটিলতা কাটানো গেলে আতর রপ্তানি আরও বাড়বে বলে মনে করেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: